Image description

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জেরে এক কৃষকের প্রায় দেড় বিঘা জমির ফলন্ত ড্রাগন বাগান কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রাতের আঁধারে তিল তিল করে গড়ে তোলা স্বপ্নের বাগান ধ্বংস করে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিজের চোখের সামনে কয়েক বছরের শ্রম ও বিনিয়োগের ফসল ধ্বংস হতে দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে মাঠেই স্ট্রোক করে লুটিয়ে পড়েন ভুক্তভোগী কৃষক শাহজালাল (ছাকা)।

 

ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার আজমপুর ইউনিয়নের বেলতলা মাঠ এলাকায়।

বিজ্ঞাপন

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজমপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে শাহজালাল ধারদেনা করে এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বেলতলা মাঠে লিজ নেওয়া প্রায় দেড় বিঘা জমিতে একটি ড্রাগন ফলের বাগান গড়ে তোলেন। বাগানটিতে প্রায় তিন হাজার ড্রাগন গাছ ছিল এবং ইতোমধ্যে গাছে ফল ধরা শুরু করেছিল।

চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের আশায় ছিলেন তিনি। কিন্তু এক রাতের ব্যবধানে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গাছগুলো কেটে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে পরিবার।

বুধবার সকালে প্রতিদিনের মতো বাগানে পরিচর্যার জন্য গিয়ে শাহজালাল দেখতে পান, তাঁর পুরো বাগানের ফলন্ত প্রায় তিন হাজার গাছ কেটে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এ দৃশ্য দেখে তিনি তীব্র মানসিক আঘাত পান এবং ঘটনাস্থলেই স্ট্রোক করে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কৃষকের পিতা রবিউল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “একই গ্রামের মজিবরের ছেলে আলামিন ও আলতাব হোসেনের ছেলে আলিমের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। প্রায় এক সপ্তাহ আগে স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে বসে তারা প্রকাশ্যে আমার ছেলের ড্রাগন বাগান কেটে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। আমার বিশ্বাস, তারাই রাতে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

ঘটনার খবর পেয়ে আজমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার খান এবং প্যানেল চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বাগানের ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি দেখে তারা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার খান বলেন, “একজন কৃষকের ফলন্ত বাগান এভাবে কেটে ধ্বংস করে দেওয়া অত্যন্ত জঘন্য ও অমানবিক কাজ। এতে শুধু একটি পরিবারের আর্থিক ক্ষতি হয়নি, একজন পরিশ্রমী কৃষকের স্বপ্নও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। একজন কৃষকের ওপর এমন অন্যায় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”