২০২৪ সালের ২৪ জুন ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সাবেক প্রধান জল্লাদ শাহজাহান ভূঁইয়া (৭৪)।
রাজনীতিতে আলোচিত ২৬ জন ‘হাই-প্রোফাইল’ ব্যাক্তিদের ফাঁসি কার্যকর করে আলোচিত হয়েছিলেন তিনি। এই ২৬ জনের তালিকায় আছে সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলী, এরশাদ শিকদার, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডে দন্ডপ্রাপ্ত খুনি বজলুল হুদা ও শাহরিয়ার রশিদের নাম।
গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ফাঁসি কার্যকর করায় তার মৃত্যুর খবর গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করে দেশের মূলধারার একাধিক সংবাদমাধ্যম। দেখুন এখানে, এবং এখানে।
কিন্তু কেন্দ্রীয় কারাগারের সাবেক এই প্রধান জল্লাদের মৃত্যুর ঠিক দুই বছর পর ২০২৬ সালের ২৪ জুন আবারো তার মৃত্যু সংবাদ দিলো অনলাইন ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিডি২৪লাইভ ও বার্তা ২৪।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, “আজ বুধবার (২৪ জুন) প্রকাশ করে দাবি করা হয়েছে, ‘‘সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি।’’
তার মৃত্যুর দাবিতে ফটোকার্ড প্রকাশ করেছে অনলাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমসটুডে ও নাটোরভিত্তিক স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘হ্যালো নাটোর’।
টাইমস টুডে ও বিডি২৪লাইভে প্রকাশিত সংবাদটি পরে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে গুগলে সংশ্লিষ্ট কী-ওয়ার্ড অনুসন্ধান করলে সংবাদের শিরোনাম ও বিবরণ এখনও দেখা যায়। বর্তমানে সেই লিংকে প্রবেশ করলে ভিন্ন একটি সংবাদ প্রদর্শিত হলেও ইউআরএলে শাহজাহানের মৃত্যুসংক্রান্ত কী-ওয়ার্ড রয়ে গেছে।
অন্যদিকে বার্তা২৪-এর প্রতিবেদনে তথ্যসূত্র হিসেবে সময় সংবাদকে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের এক অংশে বলা হয়, ‘‘ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আহাদ আলী সময় সংবাদকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।’’
তবে সময় সংবাদে সেই খবরটিও ২০২৪ সালেই প্রকাশিত হয়েছে।
নথি অনুসারে, ১৯৯২ সালের ৮ নভেম্বর ডাকাতির জন্য ১২ বছর এবং ১৯৯৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর অপর একটি মামলায় ডাকাতি ও হত্যার জন্য ৩০ বছরের কারাদণ্ড হয় জল্লাদ শাহজাহানের। এ ছাড়া, উভয় রায়ে তাকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড হয় তার।
শাহজাহানের মোট ৪২ বছর সাজা হয়েছিল। এর মধ্যে ফাঁসি কার্যকর করে তিনি ১০ বছর ৫ মাস ২৮ দিনের সাজা রেয়াত পান। প্রায় ৩২ বছরের সাজা শেষে পর গত বছরের ১৮ জুন দুপুরে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।