Image description

সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে সিলেটের সচেতন নাগরিকরা।

 

 

বিজ্ঞাপন

সোমবার সকাল থেকে বিভিন্ন ব্যানারে ডিসি অফিস ও আশেপাশের এলাকায় বিক্ষোভ করেন তারা ।

 

হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার নিয়ে ডিসি সারওয়ারকে প্রত্যাহারের প্রতিবাদে সিলেটের ৬৭ জন নাগরিক বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে তারা মাজারের ‘ঐতিহ্য বিনষ্ট করে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগের নিন্দা জানানো হয়।

 

রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসক পদ থেকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ে উপ সচিব হিসেবে নিযুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। মাত্র ১০ মাসের মাথায় তাকে প্রত্যাহার করে নেয়ো হয়।

 

তার এই হঠাৎ প্রত্যাহার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্ষোভ জানিয়ে রোববারই ‘সিলেটের সর্বস্তরের নাগরিক সমাজ’ ব্যানারে মানববন্ধন হয়।

 

সোমবারও জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও বন্দরবাজার কোর্ট পয়েন্টের সামনে বিক্ষোভ করছেন ‘সিলেটের সচেতন নাগরিক সমাজ’, সিলেটের যুব সমাজ’, সিলেটের সচেতন তরুণ’ এরকম নানা ব্যানারে বিক্ষোভ করা হয়। বিক্ষিভ কর্মসূচীগুলোতে বিভিন্ন বয়সী লোকজন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

 

বিক্ষোভ থেকে ‘ডিসি সারওয়ারের প্রত্যাহার মানি না, মানবো’, ‘সিলেটবাসীর দরকার, ডিসি সারওয়ার’ এরকম বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

 

বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, জেলা প্রশাসক সিলেটে দুর্নীতি, অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।

 

সিলেটবাসীর বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নে তার অগ্রণী ভূমিকা ছিল। অনিয়মের বিরুদ্ধে তার সোচ্চার কণ্ঠস্বরকে থামাতেই বদলি করা হয়েছে। দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটই তাকে সিলেট থেকে সরাতে আড়ালে কাজ করেছে।

 

এদিকে দুপুরে নিজ কার্যালয় থেকে বেরিয়ে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার মসজিদে যোহরের নামাজ পড়তে যান সারওয়ার।

 

হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহে থাকা দানবাক্স সিলগালা করার তিন দিনের মাথায় সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইসলামি দলগুলোও। এ ঘটনায় ষড়যন্ত্র রয়েছে বলেও দাবি তাদের।

 

তারা বলছেন, দানবাক্স ও তহবিল ব্যবস্থাপনা এবং মাজার এলাকায় মাদক বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়ায় ডিসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

 

ডিসি সারওয়ার আলমের প্রত্যাহার কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ড. নুরুল ইসলাম বাবুল।

 

হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানের টাকায় স্বচ্ছতা আনতে চেয়েছিলেন তিনি। এ ধরনের একজন জনবান্ধব ডিসিকে হঠাৎ করে প্রত্যাহার করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে তারও সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে।

 

সিলেট মহানগর হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা মাহমুদুল হাসান বলেন, এভাবে ডিসিকে প্রত্যাহার করায় আমরা মর্মাহত। এর পেছনে অপশক্তির হাত আছে।

 

সিলেট জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা নেহাল আহমদ বলেন, ডিসি সারওয়ার আলম সিলেটের উন্নয়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছেন। এরই মধ্যে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে সিলেট থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

এর মধ্য দিয়ে অশুভশক্তির উত্থান হবে। তার মতো জনপ্রিয় ডিসিকে কোনও তদন্ত ছাড়া হঠাৎ করে প্রত্যাহার করা উচিত হয়নি সরকারের। বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

 

এছাড়াও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিলেট মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী বলেন, ডিসি সারওয়ার আলম কিছু ভালো কাজ করেছেন-এটা সত্য।