Image description

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির মালিকানা ‘প্রকৃত ও আদি’ মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেয়াসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম নামের এক সংগঠন।  

শুক্রবার (১৯ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির আহ্বায়ক অধ্যাপক নুরনবী মানিক এসব দাবি তুলে ধরেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ইসলামী ব্যাংক শুধু একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি কোটি গ্রাহকের আস্থা, দেশের প্রথম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক এবং জাতীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রেমিট্যান্স প্রবাহ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন এবং সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের একটি বড় অংশ এ ব্যাংকের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

সংগঠনটির অভিযোগ, চেয়ারম্যান পরিবর্তন এবং তারল্য সহায়তা দেওয়ার বাইরে ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এখনও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে গ্রাহকদের আস্থা পুরোপুরি ফিরে আসেনি।

বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়; এটি কোটি আমানতকারীর বিশ্বাস ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। তাই গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংককে দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সৎ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন, ২০১৭ সালে অন্যায়ভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে বলে দাবি করা মালিকানা প্রকৃত ও আদি মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ব্যাংক লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংক নিয়ে আতঙ্ক ও অপপ্রচার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার, লুটেরাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং ব্যাংকের দায় পরিশোধে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন, ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পুনরায় ব্যাংকের পরিচালক হওয়ার সুযোগ বন্ধ করা এবং জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক সম্পর্কিত বিতর্কিত ও অসত্য বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

দাবি আদায়ে আগামী ২১ জুন ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে এবং ২২ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।