Image description

চট্টগ্রামের আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে গেলে মূল ফটকের সামনে দেখা যাবে ছোট টেবিল নিয়ে বসে আছেন কয়েকজন লোক। তাদের ঘিরে আছেন আরও কিছু মানুষ। কৌতূহল নিয়ে সামনে গিয়ে দেখা গেল— এটি যেন নতুন টাকা বিক্রির হাট। টাকা দিয়ে টাকা বিক্রি হচ্ছে! নতুন টাকার বিনিময়ে দিতে হয় বাড়তি টাকা। আবার পুরোনো ছেঁড়া টাকা বদলে নতুন টাকা নেওয়ার সময়ও গ্রাহককে মূল টাকার অতিরিক্ত মূল্য গুনতে হয়।

নতুন নোটে টাকার মান না বাড়লেও নতুন টাকার প্রতি মানুষের রয়েছে আলাদা গুরুত্ব ও আকর্ষণ। বিশেষ করে ঈদের সময় ঈদি হিসেবে শিশু-কিশোরদের নতুন নোট লাগবেই। নগরীর আদালত ভবনের সামনে ফুটপাতে নতুন টাকার ব্যবসা করেন দিল্লুর রহমান।

তিনি গত ৩০ বছর ধরে এ ব্যবসা করছেন। তার সামনে সাজানো রয়েছে ৫০, ১০০ ও ৫০০ টাকার নতুন নোটের স্তূপ। অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে তিনি গ্রাহকদের হাতে তুলে দিচ্ছেন নতুন নোট।

সাপ্তাহিক ছুটি ও সরকারি বন্ধের দিন ছাড়া প্রতিদিন সকালে বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম শাখা থেকে নতুন টাকা বিনিময় করা হয়। সেই টাকা সংগ্রহ করে ব্যাংকের পাশের দুটি স্পটে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কেনাবেচা চলে। বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপকদের অভিযোগ, চাহিদাপত্র দিয়েও তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে নতুন টাকা (ফ্রেশ নোট) পান না। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছেই প্রকাশ্যে ফুটপাতে বিক্রি হচ্ছে এসব নতুন টাকা।

এই নতুন নোট কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের গুনতে হয় বাড়তি টাকা। ৫ টাকার এক বান্ডেলে থাকে ৫০০ টাকা। এটি নিতে অতিরিক্ত ১৫০ টাকা দিতে হয়। ৫০ টাকার এক বান্ডেলে থাকে ৫ হাজার টাকা, যার জন্য অতিরিক্ত ৪০০ টাকা দিতে হয়। এভাবে ১০০, ৫০০ ও ১,০০০ টাকার নতুন বান্ডেলের ক্ষেত্রে যথাক্রমে ৪০০, ৫০০ ও ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হয়।

বেসরকারি ব্যাংকের শাখাগুলোতে চাহিদামাফিক নতুন টাকা পাওয়া না গেলেও প্রায় সব সময় চট্টগ্রামের নিউ মার্কেট মোড় ও আদালত প্রাঙ্গণের সামনের ফুটপাতে দেখা যায়, একদল লোক নতুন টাকা সাজিয়ে বসে আছেন। ব্যাংকে যে টাকা পাওয়া যায় না, সেই টাকা ফুটপাতে আসে কীভাবে?

অনেকে সকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে নতুন নোট সংগ্রহ করেন। পরে সেগুলো ফুটপাতে বসা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেন। অনেক নারী-পুরুষ এই কাজের সঙ্গে জড়িত, যা অনেকের জীবিকার উৎস হয়ে উঠেছে।

নতুন টাকা কিনতে আসা সবুর উদ্দিন বললেন, ‘বাচ্চাদের জন্য নতুন টাকা সংগ্রহ করেছি। ওদের সব সময়ই নতুন টাকা দিতে হয়। ব্যাংকে পাওয়া যাচ্ছে না। ২০ টাকার একটি বান্ডিল কিনতে ৩৮০ টাকা অতিরিক্ত দিতে হয়েছে। দাম বেশি হলেও উপায় নেই।’