ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনের অষ্টম দিন মঙ্গলবার (১৬ জুন) দিনের কার্যসূচিতে থাকা প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
এরপর স্পিকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর আলোচনা শুরু করার প্রস্তুতি নেন। এ সময় একজন সংসদ সদস্য পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলার জন্য দাঁড়িয়ে যান। তখন স্পিকার তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য, আপনি কি পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়েছেন? পয়েন্ট অব অর্ডার তো চলমান বিষয়ের ওপর হয়। আপনার কারও বক্তব্যে আপত্তি আছে কিনা? কিংবা সংসদের ডিসিপ্লিন নষ্ট হয়ে গেছে, সে সম্পর্কে কিছু বলবেন?’
সংসদ সদস্য কিছু বলার চেষ্টা করলে স্পিকার বলেন, ‘সংসদ তো ফ্রি স্টাইল বক্তব্য দেওয়ার জায়গা না। আইন মোতাবেক, রুলস অব প্রসিডিউর বা কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী আপনাকে দাঁড়াতে হবে। তারপরও আপনারটা শুনবো, দু-একজনের বক্তব্য শুনে নিই।’
এরপর স্পিকার অন্য একজন সদস্যকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর আলোচনার সুযোগ দেন।
সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অমান্য করার ঘটনা অবশ্য এটিই প্রথম নয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন থেকেই এমন ঘটনা ঘটছে। প্রথম অধিবেশনের বিভিন্ন বৈঠকে স্পিকার এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দেন। কার্যপ্রণালী বিধি পড়ার জন্যও সংসদ সদস্যদের তাগিদ দেন। কিন্তু দ্বিতীয় অধিবেশনেও প্রায়শই এমন ঘটনা ঘটছে।
পয়েন্ট অব অর্ডার: সংসদ হুটহাট কথা বলার জায়গা নয়
সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ৩০১ বিধিতে বৈধতার প্রশ্ন ও সে সম্পর্কে সিদ্ধান্তের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনও বৈধতার প্রশ্নকে কার্যপ্রণালী বিধি এবং সংসদের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণকারী সংবিধানের অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে হতে হবে এবং তা স্পিকারের ক্ষমতার আওতাভুক্ত বিষয় হতে হবে।
শুধু সংশ্লিষ্ট সময়ে সংসদের বিবেচনাধীন বিষয়ের ওপর বৈধতার প্রশ্ন উত্থাপন করা যায়। তবে কোনও বৈধতার প্রশ্ন যদি সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষা বা সংসদের কাজের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তাহলে স্পিকার কার্যসূচির এক দফা শেষ হওয়া ও অন্য দফা শুরু হওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে তা উত্থাপনের অনুমতি দিতে পারেন।
কোনও সদস্য বৈধতার প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারবেন কিনা এবং কোনও প্রশ্ন বৈধতার প্রশ্ন কিনা— তা নির্ধারণ করবেন স্পিকার। বৈধতার প্রশ্ন হিসেবে নির্ধারিত হলে স্পিকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এ বিষয়ে কোনও বিতর্ক হবে না। তবে স্পিকার প্রয়োজন মনে করলে সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে সদস্যদের বক্তব্য শুনতে পারবেন।
এ বিধিতে আরও বলা হয়েছে, বৈধতার প্রশ্ন বিশেষ অধিকারের প্রশ্ন নয়। কোনও সদস্য তথ্য জানার জন্য, নিজের বক্তব্য ব্যাখ্যার জন্য, সংসদে কোনও প্রস্তাব ভোটে দেওয়ার সময়, অনুমাননির্ভর বিষয়ে কিংবা বিভক্তি-ভোটের ঘণ্টা বাজেনি বা শোনা যায়নি— এ ধরনের কারণে বৈধতার প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারবেন না।
অথচ মঙ্গলবার (১৬ জুন) একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটেছে। এদিন পয়েন্ট অব অর্ডার নিয়ে বিধি না মেনে দাঁড়িয়ে যান রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন। এছাড়া রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমানও পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন।
পরে এ বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে স্পিকার বলেন, ‘সংসদ চলে রুলস অব প্রসিডিউর ও সংবিধানের ভিত্তিতে। এখানে ৩৫০ জন সদস্যই সমান অধিকার ভোগ করেন এবং সবারই বক্তব্য দেওয়ার অধিকার আছে। তবে সমস্যা অন্তহীন হলেও সংসদ চলে নির্দিষ্ট আইন-কানুনের মধ্যে।’
পয়েন্ট অব অর্ডার তোলার সঠিক সময় সম্পর্কে স্পিকার বলেন, ‘পয়েন্ট অব অর্ডার উত্থাপনের নির্দিষ্ট সময় হলো প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হওয়ার পরপরই। বাজেট অধিবেশন চলাকালে সাধারণত পয়েন্ট অব অর্ডার দেওয়া হয় না, কারণ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন এবং এখানে দীর্ঘ সময় বক্তব্য রাখতে হয়। যখন ইচ্ছা দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিয়ে দেওয়া সংসদে চলে না।’
সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের তোলা একটি প্রসঙ্গের জবাবে স্পিকার বলেন, ‘তিনি দেখেছেন, আমি মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শন করেছি, যা তার কাছে সংসদীয় রীতির পরিপন্থি মনে হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি পয়েন্ট অব অর্ডার তুলেছেন।’
অপরদিকে, সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীনের বক্তব্যের প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, ‘আমি আপনার অনুভূতির প্রশংসা করি। আপনি শিক্ষক এবং বেতন না পাওয়া পৌর কর্মচারীদের দুঃখ-দুর্দশার কথা বলেছেন। কিন্তু সবকিছুর একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। সংসদ মুখোমুখি চালানো যায় না। কোনও বিষয়ে আলোচনা করতে হলে আগে নোটিশ দিতে হয়। আপনি যদি নিয়ম অনুযায়ী নোটিশ দিতেন, তবে আমরা হয়তো বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করতে পারতাম। সুতরাং, ভবিষ্যতে সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুসরণ করে দাঁড়ানোর জন্য আপনাদের কাছে সবিনয় নিবেদন রইলো।’
ফ্লোর ক্রস
ফ্লোর ক্রস বলতে সাধারণত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিজ দলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া বা অবস্থান নেওয়াকে বোঝায়। তবে সংসদীয় কার্যক্রম চলাকালে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হলে বা কোনও সংসদ সদস্য বক্তব্য দেওয়ার সময় অন্য সদস্য স্পিকারের সামনে দিয়ে অবস্থান পরিবর্তন করলে, কিংবা অপ্রত্যাশিত আলাপ-আলোচনায় লিপ্ত হলে তা সংসদীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৪তম দিনে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা শুরু করার মুহূর্তে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তার বক্তব্য থামিয়ে চিফ হুইপের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
কারণ, অধিবেশন চলাকালে সংসদ সদস্যদের মোবাইল ফোনে কথা বলা এবং স্পিকারের সঙ্গে কোনও সদস্যের কথা বলার সময় মাঝখান দিয়ে হেঁটে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ডেপুটি স্পিকার।
তিনি বলেন, ‘আপনার (চিফ হুইপ) মাধ্যমে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। সংসদের ভেতর থেকে অনেক সদস্য মোবাইল ফোনে কথা বলছেন। আওয়াজ এই পর্যন্ত আসছে। নিশ্চয় যারা বক্তব্য রাখছেন বা শুনছেন, তাদের জন্য এটি বিরক্তিকর। একটু যদি দেখতেন আপনি।’
চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম তখন সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা কথা বলছি, সে কথা তার (স্পিকার) কান পর্যন্ত পৌঁছেছে। আমরা হাউজের মধ্যে কেউ কথা না বলি। ফ্লোর ক্রস না করি।’
নোটিশ
সংসদে কোনও বিষয় উত্থাপন, আলোচনা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আগে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিতভাবে জানানো প্রস্তাব বা তথ্যকে নোটিশ বলা হয়। কোনও সংসদ সদস্য হঠাৎ করে কোনও বিষয় উত্থাপন করতে পারেন না; তাকে আগে নোটিশ দিতে হয়। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে প্রায়ই এর ব্যত্যয় ঘটতে দেখা যাচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনে সংসদে উত্তেজিত পরিবেশের মধ্যে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে উদ্দেশ করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এত অসহিষ্ণু হলে চলবে না মিস্টার আবদুল্লাহ। দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার, দিস ইজ পার্লামেন্ট। এখানে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে, শুনতে হবে। আর মৌখিক কথাবার্তার স্কোপ খুবই কম। নোটিশ দেবেন, উইল এডুকেট ইউ অন দ্য নোটিসেস।’
৩০০ বিধি
কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ বিধিতে মন্ত্রীর বিবৃতি দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। কোনও মন্ত্রী স্পিকারের অনুমতি নিয়ে জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ কোনও বিষয়ে বিবৃতি দিতে পারেন। তবে বিবৃতি দেওয়ার সময় তাকে প্রশ্ন করা যাবে না। একইসঙ্গে একবার দাঁড়িয়ে একটির বেশি বিবৃতি দেওয়ার সুযোগও নেই।
গত ১৪ জুন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের ৩০০ বিধিতে দেওয়া একটি বিবৃতি ঘিরে সংসদে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের এক নিখোঁজ নেতাকে উদ্ধার, ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার অভিযোগ এবং পরবর্তী মামলাসংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বিবৃতি দেন।
এর বিরোধিতা করে বক্তব্য দিতে দাঁড়ান বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ তাহের। এ সময় ডেপুটি স্পিকার রুলিং দিলে সংসদে তীব্র হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেওয়ার পর সম্পূরক প্রশ্ন করার সুযোগ না থাকলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি রাজনৈতিক দলকে ঘিরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়েছেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘৩০০ বিধিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর কোনও প্রশ্ন বা বিতর্কের সুযোগ নেই। তবে বিরোধীদলীয় উপনেতা যেহেতু দাঁড়িয়েছেন, তাকে বিশেষ বিবেচনায় সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।’
সেদিন সংসদে প্রশ্ন ওঠে, ৩০০ বিধিতে দাঁড়িয়ে কোনও মন্ত্রী একাধিক বিবৃতি দিতে পারেন না। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পিকারের অনুমতি নিয়ে ওই ঘটনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
এক্সপাঞ্জ
কার্যপ্রণালী বিধির ৩০৭ বিধি অনুযায়ী বিতর্ক থেকে শব্দ বা বক্তব্য বাতিল করাকে এক্সপাঞ্জ বলা হয়। এ বিধি অনুযায়ী স্পিকার যদি মনে করেন, বিতর্কে এমন কোনও শব্দ ব্যবহার হয়েছে যা অবমাননাকর, অশোভন, সংসদীয় রীতিবিরোধী বা অমর্যাদাকর, তাহলে তিনি নিজ ক্ষমতাবলে তা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দিতে পারেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের অষ্টম দিনে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার সরকার একটি উপমা ব্যবহার করেন। বক্তব্যে ব্যবহৃত কিছু শব্দের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে স্পিকার তাকে সতর্ক করেন।
স্পিকার বলেন, ‘বক্তব্য রাখার সময় সাবধানতা অবলম্বন করবেন। অরুচিকর, অশ্লীল কোনও কথা এই সংসদে উচ্চারিত হোক, এটা আমরা চাই না। আপনার বক্তব্যে কিছু অশ্লীল শব্দ রয়েছে, সেগুলো এক্সপাঞ্জ করা হলো।’
৬৮ বিধি
৬৮ বিধি হচ্ছে জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে আলোচনা উত্থাপনের নোটিশ। কোনও সদস্য যদি এ ধরনের আলোচনা উত্থাপন করতে চান, তাহলে যেদিন তিনি আলোচনা করতে চান, তার অন্তত দুই দিন আগে সচিবের কাছে লিখিত নোটিশ দিতে হবে। নোটিশে অন্তত আরও পাঁচজন সদস্যের স্বাক্ষর থাকতে হবে এবং আলোচ্য বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
এছাড়া, কেন ওই বিষয়টি জরুরি—তার ব্যাখ্যাও নোটিশের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে
গত ৯ জুন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের (বাজেট) তৃতীয় দিনে ৬৮ বিধিতে নোটিশ উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। পরে এ নিয়ে সংসদে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
অপরদিকে, বাংলাদেশ-মার্কিন স্বার্থবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তখন স্পিকার তাকে ৬৮ বিধিতে নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় পাঁচজন সংসদ সদস্যের সমর্থন না পাওয়ায় তিনি পরে নোটিশ দিতে পারেননি।
ওয়াকআউট
কার্যপ্রণালী বিধির ১৭৭ বিধিতে সংসদ সদস্যের আসন থেকে পদত্যাগের বিধান রয়েছে। তবে সংসদীয় চর্চায় কোনও বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে অধিবেশন বর্জন করে বেরিয়ে যাওয়াকে সাধারণভাবে ‘ওয়াকআউট’ বলা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে একাধিকবার বিরোধী দল বা জোট ওয়াকআউট করেছে। গত ১ এপ্রিল বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে গণভোটের সংস্কার প্রস্তাব এবং সংবিধান পরিষদ গঠন বিষয়ে সরকারের অবস্থান না পাওয়ায় ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন। পরে বিরোধী জোটও একাধিকবার অধিবেশন বর্জন করে।
৭১ বিধি
জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে সংসদ সদস্যদের বিবৃতির সুযোগ দেওয়া হয়েছে ৭১ বিধিতে। কোনও সদস্যের নোটিশ গ্রহণযোগ্য হলেও যদি তা তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ করা সম্ভব না হয়, তাহলে গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে দুই মিনিট করে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।
তবে সব সদস্যের বক্তব্যের মোট সময় ৩০ মিনিটের বেশি হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যতজন সদস্য বক্তব্য দিতে পারবেন, কেবল তারাই সুযোগ পাবেন।
বিধি অনুযায়ী কার্যাবলি শেষ হওয়ার পর স্পিকার এ ধরনের বিবৃতির জন্য আলাদা সময়ও নির্ধারণ করতে পারেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব সংসদের টেবিলে উপস্থাপন করতে হয়।
কোরাম
কার্যপ্রণালী বিধির ৩০৪ বিধি অনুযায়ী সংসদের কোনও বৈঠক বৈধভাবে পরিচালনার জন্য ন্যূনতম সংখ্যক সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন। একে কোরাম বলা হয়।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে কোরাম পূর্ণ হওয়ার জন্য অন্তত ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতি আবশ্যক। এ সংখ্যক সদস্য উপস্থিত না থাকলে বৈঠক স্থগিত করা হয়। সদস্যদের অনুপস্থিতির কারণে কোরাম সংকট তৈরি হলে সংসদের কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হয়।
ট্রেজারি বেঞ্চ
সরকারি দলের সদস্যদের বসার আসনকে ট্রেজারি বেঞ্চ বলা হয়। সাধারণত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা এ বেঞ্চে বসেন। স্পিকারের আসনের ডান পাশে সামনের সারির আসনগুলোই ট্রেজারি বেঞ্চ হিসেবে পরিচিত।