ইরানের সর্বো নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বলেছেন, ইরানের কর্মকর্তারা আন্তরিক ও সদিচ্ছা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে পৌঁছাতে ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েছেন। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মরিয়া হয়ে বিভিন্ন সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, ‘উদ্যমী ও অনুগত ইরানি জাতি- আপনারা জেনেছেন যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই পর্যায়ে পৌঁছাতে কর্মকর্তারা সহমর্মিতা ও সদিচ্ছা থেকে অনেক চেষ্টা করেছেন। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে মার্কিন প্রেসিডেন্টই মরিয়া হয়ে বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছেন।’
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইলেকট্রনিকভাবে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন। এতে সব ফ্রন্টে স্থায়ীভাবে সংঘাত বন্ধ, ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক চলাচল পুনরুদ্ধার, অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন পরিকল্পনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
খামেনি জানান, প্রাথমিকভাবে তার ভিন্ন মত থাকলেও প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের দেওয়া প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে তিনি এই চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছেন। পেজেশকিয়ান সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান হিসেবে নিজের এবং অন্যান্য সদস্যদের পক্ষ থেকে ইরানি জাতি ও প্রতিরোধ ফ্রন্টের অধিকার রক্ষার অঙ্গীকার করেছেন বলেও জানান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।
তিনি আরো বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অতিরিক্ত বা অযৌক্তিক দাবি মেনে নেবেন না। এখন থেকে আমরা—অর্থাৎ গর্বিত ইরানি জাতি এবং আমি—ঘোষিত শর্তগুলো বাস্তবায়নের অপেক্ষায় থাকব। তবে ভবিষ্যতে যে সরাসরি আলোচনা হবে, তার অর্থ এই নয় যে আমরা শত্রুপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি মেনে নেব।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে ইরান আরো সাফল্য ও বিজয় অর্জন করবে।
সূত্র: প্রেস টিভি