কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় একটি সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের পর বাড়ি ফেরার পথে বাদীসহ তার স্বজনদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। হামলা থেকে বাঁচতে থানায় আশ্রয় নিলেও শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ ঘটনায় শাহ আলম (৪৩) নামে এক ব্যক্তি তিতাস থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন, তাহের আলী (৩০), সাগর মিয়া (২৬), ফাহিম মিয়া (২৫), রিফাত মিয়া (২৩), ফারুক মিয়া (৪৭) ও শাহনাজ বেগমসহ (৪৮) আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি। তারা সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা ও পরস্পরের আত্মীয় বলে জানা গেছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বুধবার (১৭ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিতাস উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের নাগেরচর গ্রামে বাদীর ভাই জামাল হোসেনের বাড়িতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বিবাদীরা সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ হামলা চালায়। এতে রুবেল মিয়া (৩৫), শারমিন আক্তারসহ (৩০) কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা, লোহার রড, পাইপ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে শাহ আলম নিজেও গুরুতর জখম হন। এছাড়া এক নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এবং স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে চিকিৎসা ও পারিবারিক পরামর্শ শেষে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী।
তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিরুল হক বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রথমে গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে অভিযোগ দিতে এসে থানার সামনেও দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।