Image description

ঢাকার পল্লবীর শিশু রামিসার পর দ্রুততম সময়ে বিচার শেষ হওয়ার আরেকটি নজির তৈরি হয়েছে চট্টগ্রামে। রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হয়েছিল ঘটনার ১৯ দিনের মধ্যে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে। আর চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণের মামলায় ঘটনার ২৮ দিনের মধ্যে আট কার্যদিবসে রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

রায়ে মামলার একমাত্র আসামি মনির হোসেনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমা। একই রায়ে আদালত তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। অর্থদণ্ড থেকে প্রাপ্ত অর্থ ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশও দেন আদালত।

আজ বুধবার সকালে আসামি মনির হোসেনের উপস্থিতিতে বিচারক রায় ঘোষণা করেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানামূলে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। দণ্ডিত মনির হোসেনের (৩০) বাড়ি কুমিল্লায়। তিনি চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ার নুর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় থাকতেন। সেখানে ‘ভাই ভাই ডেকোরেশন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ছিলেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় ভুক্তভোগীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার মাধ্যমে ধর্ষণের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় আদালত আসামিকে সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের পিপি মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ।

গত ২১ মে দুপুরে নগরীর বাকলিয়ার নুর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে ডেকোরেশন দোকানের গুদামে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মনিরকে আটক করেন এলাকাবাসী। তাকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গভীর রাত পর্যন্ত পুলিশ ও জনতার সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় বাকলিয়া। বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে নিজেরাই বিচার করার দাবি তোলে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে মনিরকে থানায় নিয়ে যায়।

 

পরদিন ২২ মে শিশুটির বাবা বাকলিয়া থানায় মামলা করেন। একই দিন আসামি আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। মাত্র ১৩ দিনে এবং সরকারি কার্যদিবস হিসেবে পাঁচ দিনে তদন্ত শেষ করে ৪ জুন অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা, বাকলিয়া থানার পরিদর্শক তানভীর আহমেদ। অভিযোগপত্রে ২২ জনকে সাক্ষী করা হয়।

৮ জুন আদালত অভিযোগপত্র আমলে নেন। ৯ জুন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ১০ জুন থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। তিন কার্যদিবসে রাষ্ট্রপক্ষ ১৮ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করে।

গতকাল মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন। অভিযোগপত্র আমলে নেওয়া থেকে যুক্তিতর্ক পর্যন্ত সাত কার্যদিবসে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। অষ্টম কার্যদিবসে রায় ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান পিপি মাহমুদ।

উল্লেখ্য, ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১৯ মে। ওই মামলার রায় ঘোষণা করা হয় ৭ জুন। রায়ে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।