Image description

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ ঘিরে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে সেফ হোমে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ‘ওপর মহলের নির্দেশে সংবাদ করা হয়েছে’ মর্মে নিজেদের দায় অস্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।

বুধবার (১৭ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞের মামলায় চলতি সপ্তাহে একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু ও সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপাকে একদিন করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা। জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের দায় এড়িয়ে গেছেন এবং বলেছেন, যা হয়েছে তার সবকিছুই তারা ওপরের নির্দেশেই করেছেন।

জিজ্ঞাসাবাদে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে-পরে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও ফুটেজও তাদের দেখানো হয়। তবে সেসব ভিডিও এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেন মোজাম্মেল বাবু।

এর আগে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ জুন রুপা ও বাবুকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন ট্রাইব্যুনাল-১। একইসঙ্গে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১০ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়।

এ মামলায় বর্তমানে গ্রেফতার রয়েছেন ৯ জন। রুপা ও বাবু ছাড়া অন্যরা হলেন— সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তর ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির ও সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে ঢাকাসহ দেশের চারটি স্থানে ৫৮ জন নিহত হন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২, নারায়ণগঞ্জে ২০, চট্টগ্রামে ৫ ও কুমিল্লায় একজন নিহতের তথ্য শনাক্ত করেছে তদন্ত সংস্থা।