১৪ জুন খুলনার দৌলতপুরে বিএল কলেজ রোডে অবস্থিত একটি মসজিদের ভেতরে ফজরের নামাজের সময় ঢুকে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন। তবে অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘ডেল্টা লেন্স’ এবং আওয়ামীপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট মাসুদা ভাট্টিসহ একাধিক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচার করা হয়েছে, খুলনায় মসজিদে গুলিতে দুজন নিহত হয়েছেন।
ডেল্টা লেন্সের প্রতিবেদন দেখুন এখানে (আর্কাইভ)
আওয়ামীপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট মাসুদা ভাট্টি তার ইউটিউব চ্যানেলে এক ভিডিওতে দাবি করেছেন, ‘‘খুলনায় ১৪ জুন ভোরে ফজরের নামাজ চলাকালে বন্দুকধারীর গুলিতে মুসল্লি নিহত হওয়ার খবর দেশের মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সরিয়ে দিতেই বেনজীরকে ছাড়া হয়েছে। যদিও বেনজীর সাহেবকে ইন্টারপোল নয়, ভিসা জটিলতার কারণে আমিরাতের কর্তৃপক্ষ বা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আটক করেছিল বলেও জানা যাচ্ছে।’’
তিনি দাবি করেছেন, ‘‘দেশের মূলধারার গণমাধ্যমে সেই হামলার খবর কোথাও প্রাধান্য পায়নি। বেনজীরের নাটকের পর্দার আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে এই মসজিদের রক্ত।’’
মাসুদা ভাট্টি বলেছেন, “গত আগস্ট থেকে মে মাস পর্যন্ত মাত্র ৯ মাসে খুলনা নগরীতে ৮৯টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে অন্তত ৩৪টির সঙ্গে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা রয়েছে। বেনজীর যখন পুলিশের মহাপরিদর্শক ছিলেন বাংলাদেশের এই অবস্থা ছিল না।“
দেখুন এখানে।
একই দাবিতে ফেসবুকে আরো পোস্ট দেখুন, এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
তবে দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা যায়, খুলনায় মসজিদে গুলিতে কমিটির সেক্রেটারিসহ দুজন আহত হলেও কেউ নিহত হননি।
মসজিদে গুলির ঘটনাটি বাংলাদেশের মূলধারার প্রায় সব সংবাদমাধ্যমই গুরুত্বসহকারে প্রচার করেছে।
ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন মতে, গুলির ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন লোকমান হেকিম ও আলম শেখ। এর মধ্যে হেকিম জ্বালানি তেলের ব্যবসায়ী। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আর আহত আলম শেখ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন মতে, “ফজরের নামাজ শেষে মসজিদের ভেতরে বসে ছিলেন লোকমান হাকিম। একই সময়ে মসজিদের বারান্দায় বসে জিকির করছিলেন আলম শেখ। এ সময় সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা আকস্মিকভাবে মসজিদে ঢুকে লোকমান হাকিমকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিতে আলম শেখও আহত হন।”
প্রতিবেদনগুলোতে দুজন আহত হওয়ার কথা বলা হলেও নিহত হওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অধিকতর নিশ্চিত হতে দ্য ডিসেন্ট খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) উপকমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমার রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
তিনি জানান, “দুজন নিহত হওয়ার দাবি সম্পূর্ণ ভুয়া। তারা আহত হয়েছিলেন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা আলম শেখ শঙ্কামুক্ত হওয়ায় তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ ছাড়া আমি খবর নিয়ে জেনেছি, ঢাকায় চিকিৎসা নেওয়া লোকমান হেকিমও শঙ্কামুক্ত। চিকিৎসকেরা তার পরিবারকে জানিয়েছেন, শঙ্কামুক্ত হলেও তাকে ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।”
এছাড়াও, খুলনার ডিবিসি টেলিভেশনের ব্যুরো প্রধান আমিরুল ইসলাম দ্য ডিসেন্টকে জানান, খুলনায় গুলির ঘটনায় কেউ আহত হননি। গুলিবিদ্ধ দুজনই সুস্থ আছেন।
ডেল্টা লেন্সের যুগ্ম সম্পাদক সাদিকুর রহমান খান দ্য ডিসেন্টকে জানান, “আমাদের নিউজে থাকা একজন করেছেন। আমি বিষয়টি সম্পর্কে জানিনা। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। মিথ্যা হলে নিউজ সরিয়ে নিবো।”
কিছুক্ষণ পর তিনি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে লিখেন, “ওয়েবসাইটে আপডেট করা হয়েছিলো কিন্তু ফটোকার্ডে ভুলবশত আহতর জায়গায় নিহত লেখা হইছে।”
এছাড়াও, মাসুদা ভাট্টি বলেছেন, গত আগস্ট থেকে মে মাস পর্যন্ত মাত্র ৯ মাসে খুলনা নগরীতে ৮৯টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে অন্তত ৩৪টির সঙ্গে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা রয়েছে। বেনজীর যখন পুলিশের মহাপরিদর্শক ছিলেন বাংলাদেশের এই অবস্থা ছিল না।
দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, এ দাবিটিও সত্য নয়। নয় মাসে নয়য় বরং ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত খুলনায় ৮৯টি হত্যাকান্ড ঘটেছে।
কেএমপির অপরাধ শাখার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত নগরে ৮৯টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে ৩৪টির সঙ্গে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এ পরিস্থিতিতে থানাভিত্তিক সন্ত্রাসীদের নতুন তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে পুলিশ।
এ সম্পর্কিত আরো প্রতিবেদন দেখুন এখানে, এবং এখানে।