আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া শিশু মৃত্যুর অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। পরিচালনা পর্ষদ নতুন দায়িত্ব দিয়েছে অধ্যাপক জামালুন্নেসাকে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। সম্প্রতি শিক্ষকতা থেকে অবসরে গেছেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক-কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স তারিকুল ইসলাম মুকুলের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, অধ্যাপক জামালুন্নেসা বিগত ২৫ বছরের অধিক সময় ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীববিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা করে সম্প্রতি স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছেন।
তিনি ১৯৮৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীববিজ্ঞান বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিকাল মেডিসিন থেকে পিএইচডি লাভ করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঘটে যাওয়া শিশু মৃত্যু জনিত অনাকাঙিক্ষত ঘটনায় সমস্ত দেশের সাথে আমরাও গভীরভাবে শোকাহত। ইতোমধ্যে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও তদারকি ব্যবস্থা জোরদার এবং প্রোটকল পূণর্মুল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও বলা হয়েছে, সরকারের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী আমরা আমাদের অবকাঠামো এবং ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে দৃঢ়ভাবে ইচ্ছুক। আমরা ইতোমধ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ পুরোদমে শুরু করেছি। আলো-বাতাস চলাচল তথা অক্সিজেনের উপস্থিতি সুগম করার জন্য তিনজন ইন্ডিপেনডেন্ট কনসালটেন্ট’র নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও পরিমার্জনের কাজ চলমান। কর্পোরেট অফিসের ওপরে অবস্থিত বেকারিটি আমরা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছি।
প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন তার দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়েছেন এবং পরিচালনা পর্ষদ এই দায়িত্ব অধ্যাপক জামালুন্নেসা পিএইচডি’র উপর ন্যস্ত করেছেন জানিয়ে বলা হয়েছে, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশন ১৯৮০ সাল থেকে সমাজের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা, সাধারণ শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও আয়বৃদ্ধিমূলক প্রকল্প নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
বর্তমানে আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের অধীনে ৯টি হাসপাতাল, ৫টি মেডিকেল কলেজ, একটি নার্সিং কলেজ, চারটি নার্সিং ইনস্টিটিউট, একটি ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি, একটি কলেজিয়েট স্কুল এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শুধু আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মগবাজার ঢাকায় বিগত ২৯ বছরে ১ কোটি ৫৭ লাখ ৭৩ হাজার ২৯১ জন রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে এবং ১১ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন বর্হিবিভাগে প্রায় দুই হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন।
হাসপাতালের সাথে সরাসরি ১ হাজার ৭৯০ জন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মী যুক্ত রয়েছেন জানিয়ে বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী। আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজে বর্তমানে ২০৯ জন বিদেশি শিক্ষার্থীসহ ৬৪৬ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। দুই সহস্রাধিক চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী এবং শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষা ও পেশাগত ভবিষ্যতের জন্য এ প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল। রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতার ব্যাপারে আদ্-দ্বীন অঙ্গীকার করছে বলেও জানানো হয়েছে।