Image description

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয়দের প্রতিরোধে পুশইনের চেষ্টায় বারবার ব্যর্থ হয়ে এখন নতুন কৌশল অবলম্বন করতে দেখা গেছে বিএসএফকে।

জামালপুরের বকশীগঞ্জের কামালপুর ও দেওয়ানগঞ্জের পাররামরামপুর সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গভীর রাতে সীমান্তে ফ্ল্যাডলাইট বন্ধ করে পুশইনের চেষ্টা করছে বিএসএফ। সেই চেষ্টা রুখে দিতে বিজিবির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে টর্চলাইট ও লাঠি হাতে রাত পার করছেন স্থানীয়রা। তবে সীমান্তবাসীরা বলছেন, লাঠি আর টর্চলাইট দিয়ে কতদিন সার্বভৌমত্ব রক্ষা সম্ভব? তারা সীমান্তে ফ্ল্যাডলাইট ও কাঁটাতারের দাবি জানিয়েছেন।

 

 

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

 

 

 

‘ব্ল্যাক আউট’ করে পুশইনের চেষ্টা

 

জামালপুর ও কুড়িগ্রামের বিস্তীর্ণ ৭২ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় কয়েক দিন ধরে পুশইনের তীব্র উত্তেজনা চলছে। গভীর রাতে ভারতের মেঘালয় রাজ্য সীমান্ত এলাকায় পুশইনের উদ্দেশ্যে ট্রাকে করে মানুষ নিয়ে আসতে দেখা গেছে। এরপরই হঠাৎ করে ভারত অংশে সীমান্তের ফ্ল্যাডলাইটগুলো বন্ধ করে অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের সতর্ক পাহারায় সফল হতে পারেনি ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স।

 

সীমান্তবাসীদের ক্ষোভ

 

স্থানীয় বাসিন্দা জীবন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিএসএফ আলো নেভালেই আমাদের এপার পুরো অন্ধকার হয়ে যায়। ওপার থেকে আলো বন্ধ করে মানুষ ঠেলে দেয়, আর আমরা এই যুগে এসেও টর্চলাইট দিয়ে চোর-পুলিশ খেলি। আমাদের সীমান্তে শক্তিশালী নিজস্ব ফ্ল্যাডলাইট বসানো হোক, ওপার আলো বন্ধ করলেও যেন আমাদের এপার দিনের মতো ঝকঝকে থাকে।

 

আরেক বাসিন্দা কুদ্দুস মিয়া বলেন, আমাদের দেশপ্রেম আছে, মরতেও বাধা নেই। কিন্তু সরকার যদি প্রযুক্তি আর আলো না দেয়, শুধু লাঠি দিয়ে কতদিন ঠেকিয়ে রাখব?

 

 

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

 

 

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মাইলের পর মাইল খোলা সীমান্ত পাহারা দিতে দ্রুত আধুনিক ওয়াচ টাওয়ার ও থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরার মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবস্থা করা হোক।

 

পাররামরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সেলিম মিয়া বলেন, আমাদের নিজস্ব কোনো কাঁটাতারের বেড়া নেই। সীমান্ত বলতে মাটির ওপর কেবল একটা কাল্পনিক রেখা। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হলে এই অরক্ষিত সীমান্তে দ্রুত বাজেট বাড়িয়ে স্থায়ী কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া প্রয়োজন।

 

সতর্ক অবস্থানে বিজিবি

 

গভীর রাতেও সীমান্তে প্রতিটি স্পট ঘুরে ঘুরে টহল তদারকি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জামালপুর ব্যাটালিয়ন ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান। এশিয়া পোস্টকে তিনি বলেন, দেশব্যাপী পুশইনের এই প্রক্রিয়াটি বেশ কিছুদিন ধরেই চলমান, তবে জামালপুর ও কুড়িগ্রামের রাজিবপুর এবং রৌমারী এলাকায় এর তীব্রতা বা ইনটেনসিটি অনেক বেশি।

 

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

 

 

তিনি আরও বলেন, আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আমি নিজেও গভীর রাতে টহলে আসছি। বিজিবি সদস্যদের পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার বসবাসকারী মানুষও আমাদের সঙ্গে রাত জেগে সতর্ক পাহারা দিচ্ছে।