দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে হয়েছে গোলাবর্ষণ ও সংঘর্ষ।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা।
প্রতিবেদন বলছে, নাবাতিয়েহ জেলার হাব্বুশ ও কাফর তেবনিত পৌর এলাকায় কামান থেকে গোলাবর্ষণ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযোগ, দক্ষিণ লেবাননে অভিযানরত তাদের সেনাদের লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে একাধিক রকেট, একটি ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং মর্টারের গোলা। তাদের দাবি, হিজবুল্লাহর ছোড়া বহু রকেট ভূপাতিত করেছে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তাদের যোদ্ধারা নাবাতিয়েহর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কাফর তেবনিত ক্রসিংয়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করা ইসরায়েলি বাহিনীকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করেছে রকেট ও কামানের গোলা। সংগঠনটির দাবি, তাদের হামলার মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে ইসরায়েলি সেনারা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনেও দেখা গেছে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির বলেন, এমন কোনো চুক্তি ইসরায়েলের মেনে নেওয়া উচিত নয়। দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও দূরে সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে মত দেন তিনি।
এছাড়াও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচের দাবি, এ ধরনের সমঝোতা পুরো বিশ্বের জন্যই ক্ষতিকর।
ইসরায়েলের রাজনৈতিক-নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সদস্য ও বিজ্ঞানমন্ত্রী গিলা গামলিয়েল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে কোনো সমঝোতায় ইসরায়েল বাধ্য নয়। ‘আমরা ওই চুক্তির পক্ষ নই এবং আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাব।’
তিনি আরও বলেন, সময়ক্ষেপণ করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, বিশ্বকাপ, জন্মদিন উদ্যাপন, স্বাধীনতা দিবস এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের মতো বিষয়গুলো সামনে রেখে সময় নির্ধারন করতে চেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা হলেও ইসরায়েলের লড়াই শেষ হয়নি বলে মন্তব্য করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকারে অটল রয়েছে ইসরায়েল, এমনটাই দাবি তার।