ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মো. খুরশিদ আলমের পদত্যাগসহ ৬ দফা দাবিতে সচেতন গ্রাহক ফোরামের সচিবালয়মুখী মিছিল পল্টন মোড়ে থামিয়ে দিয়েছে পুলিশ। তবে ফোরামের একটি প্রতিনিধিদলকে লিখিত দাবিগুলো স্মারক আকারে অর্থমন্ত্রী বরাবর জমা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীরা পল্টন থেকে গুলিস্তান অভিমুখের প্রধান সড়ক আটকে বসে পড়েছেন।
বুধবার (১০ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় মতিঝিল ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে ব্যাংকটির সচেতন গ্রাহক ফোরামের উদ্যোগে মিছিল নিয়ে সচিবালয় অভিমুখে যাত্রা শুরু করা হয়। দুপুর ১২টার দিকে মিছিলটি পল্টন মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ তা থামিয়ে দেয়। পরে ফোরামের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র অধ্যাপক নুর উন-নবীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল স্মারকলিপি জমা দিতে সচিবালয়ে প্রবেশ করে।
জানা গেছে, প্রতিনিধি দলটি ৬টি লিখিত দাবি নিয়ে অর্থমন্ত্রী বরাবর এই স্মারকলিপি জমা দেবে। দাবিগুলোর মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যানের পদত্যাগের পাশাপাশি ব্যাংক রেজুলেশনের ১৮ (ক) ধারা বাতিল, লুটেরাদের অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন, লুটেরাদের বিচার নিশ্চিত করা এবং লুটেরা এস আলমের হাতে থাকা শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হবে।
ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মো. খুরশিদ আলমের পদত্যাগের দাবিতে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আন্দোলন করছে সচেতন গ্রাহক ফোরাম।
গত ১ জুন সকালে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন শুরু করে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। এ সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। এরপর থেকে টানা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আসছে সচেতন গ্রাহক ফোরাম।
উল্লেখ্য, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। পরে সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। ওই আন্দোলনের মধ্যেই গত ১ জুন রাতে ব্যাংকের এক ভার্চুয়াল মিটিংয়ে এমডি মো. ওমর ফারুকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়।