Image description

প্রায় পাঁচ মাস ধরে নিয়োগ চূড়ান্ত হলেও পদায়ন না হওয়ায় অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন। দীর্ঘ অপেক্ষা ও প্রশাসনিক জটিলতার অবসান চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনাসহ তিন দাবিও জানিয়েছেন তারা।

শনিবার (১০ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিয়োগপ্রত্যাশীরা নিজেদের দাবি তুলে ধরেন। তারা বলেন, পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষ হওয়ার পরও এনএসআই ভেরিফিকেশন যুক্ত করায় নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তারা এটিকে নতুন জটিলতা হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত পদায়নের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দেশের প্রায় ৯ লাখ পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে ধাপে ধাপে বাছাই শেষে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়েছে। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়ার পরও নিয়োগ বিলম্ব হওয়ায় তারা মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

তারা অভিযোগ করে বলেন, পদায়ন না হওয়ায় অনেকেই পূর্বের চাকরি ছেড়ে দিয়ে এখন বেকার জীবনযাপন করছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীরা চরম সংকটে পড়েছেন।

তারা বলেন, কিছু ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের আগে যোগদান না দিয়ে প্রশিক্ষণকে শর্ত হিসেবে যুক্ত করা হচ্ছে, যা অতীতের নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে অসঙ্গত। তারা প্রশিক্ষণের বিরোধী নই, তবে আগে পদায়ন ও যোগদান নিশ্চিত করে তারপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হোক।

তারা আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় শিক্ষক সংকট থাকা সত্ত্বেও পদ খালি রেখে বিকল্প ব্যবস্থায় পাঠদান চালানো হচ্ছে, যা অযৌক্তিক। দ্রুত নিয়োগ কার্যকর হলে এ সংকট সমাধান সম্ভব।

তাদের দাবি, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় থাকলেও দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দ্রুত একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশ করে পদায়নের আহবান জানিয়েছেন তারা।

এ সময় ৩ দফা দাবি জানান তারা। দাবিগুলো হলো— দ্রুত পদায়ন ও নিয়োগ বাস্তবায়ন; প্রশিক্ষণ ও এনএসআই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া পরিষ্কার করা এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে চূড়ান্ত নিয়োগ সম্পন্ন করা।