ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে চোখে-মুখে মরিচের গুঁড়ো ছিটিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মী নাহিয়ান রবিন নামে এক কলেজছাত্রকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত রবিন গফরগাঁও পৌর এলাকার শিলাসী গ্রামের রাজমিস্ত্রি মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে এবং কান্দিপাড়া আব্দুর রহমান ডিগ্রি কলেজের ছাত্র।
এ সময় নিহত রবিনের বন্ধু মাসুমকে পিটিয়ে আহত করে দুর্বৃত্তরা। রবিন তার ২৩তম জন্মদিনের কেক কেটে সোমবার রাত পৌনে ১টার দিকে বাসায় ফেরার পথে পৌর শহরের শিলাসী মাজার বাড়ি রোড এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং গফরগাঁওয়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে ।
এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল মঙ্গলবার সকালে গফরগাঁও পৌর এলাকার কলেজ রোডের নিজ বাড়ি মোতালেব প্লাজা থেকে ব্যবসায়ী মোতাবেল মিয়ার ছেলে নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগকর্মী রাজিব মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি পিস্তল, সাত রাউন্ড তাজা গুলি, ১২ রাউন্ড কার্তুজ, ১০০ পিস ইয়াবা, একটি সুইস গিয়ার ও চাকু জব্দ করা হয়েছে। এছাড়াও রাজিবের বাসার সিঁড়িতে রক্ত পাওয়া গেছে।
পুলিশ বলছে, আটক রাজিব ও নিহত রবিন দুজনই ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তাদের দুজনের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ছিল। দ্বন্দ্বের জেরেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। রাজিবকে আটককালে তার বাসার সিঁড়িতে রক্ত দেখা গিয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহত রবিনের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার ছিল নাহিয়ান রবিনের ২৩তম জন্মদিন। এ উপলক্ষে সোমবার রাত ১২টা এক মিনিটে গফরগাঁও পশু হাসপাতাল রোডের বউবাজারের পাশে কেক কাটার আয়োজন করেন তার বন্ধুরা। জন্মদিনের কেক কেটে মায়ের হাতে ভাত খাওয়ার জন্য রবিন বন্ধুদের তাগাদা দেন দ্রুত অনুষ্ঠান শেষ করার জন্য। অনুষ্ঠান শেষে বন্ধু মাসুমের মোটরসাইকেলে কাছেই বাড়ির পথে রওনা দেন রবিন । মাজার বাড়ি রোড ও কলাবাগান রোডের মোড়ে মোটরসাইকেলটি পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা গামছা দিয়ে মুখ বাঁধা পাঁচ-ছয়জনের অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে রবিন ও মাসুমের চোখে-মুখে মরিচের গুঁড়ো ছিটিয়ে দেয়। পরে পাইপ দিয়ে রবিন ও মাসুমকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে রাস্তায় ফেলে দেয়। মাসুম দৌড় দিয়ে বাঁচতে পারলেও সন্ত্রাসীরা রবিনকে ধরে ফেলে। রবিনের হাত-পা ও মাথায় এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। হামলার শব্দ শুনে আশপাশের বাসাবাড়ির লোকজন বারান্দায় এসে ঘটনা দেখে চিৎকার দিলে সন্ত্রাসীরা মাজারবাড়ি রোড এলাকা দিয়ে পালিয়ে যায়।
এলাকাবাসী গুরুতর আহত রবিনকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে রবিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।
রবিনের মা শান্তা বেগম একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায়। বিলাপ করতে করতে তিনি বলেন, ছেলে আমাকে ফোন করে জানাল, মা আসতেছি। জন্মদিনে তোমার হাতে ভাত খাব। ছেলে তো আর আসল না। ছেলের লাশ আসল। আমি আমার ছেলের খুনিদের ফাঁসি চাই।
নিহত রবিনের বাবা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, বাজারের ব্যবসায়ী মোতালেবের ছেলেদের সঙ্গে অনেক আগে আমার ছেলের শত্রুতা ছিল । আমি আমার ছেলে হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।
গফরগাঁও থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আলামত হিসেবে চাপাতি, রড, পাইপ, মরিচের গুঁড়ো জব্দ করা হয়েছে। এছাড়াও আটক যুবলীগকর্মী রাজিবের নিজ বাসা থেকে দুটি পিস্তল, সাত রাউন্ড তাজা গুলি, ১২ রাউন্ড কার্তুজ, ১০০ পিস ইয়াবা, একটি সুইস গিয়ার, চাকু ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এছাড়াও রাজিবের বাসার সিঁড়িতে রক্ত দেখা গেছে। নিহত রবিন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। এছাড়াও আটক রাজীব যুবলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।