Image description

ঠাকুরগাঁও-২ (বালিয়াডাঙ্গী-হরিপুর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ডা. আব্দুস সালামকে দেওয়া গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্য ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, মঞ্চের সামনে থাকা চেয়ার ফাঁকা। তবে বিষয়টি নিয়ে এমপির মেয়ে ও দলের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে এ গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ডা. আব্দুস সালামকে সংবর্ধনা জানাতে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপি এ গণসংবর্ধনার আয়োজন করে। বিকেলে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মঞ্চে ডা. আব্দুস সালামসহ স্থানীয় নেতাদের দেখা গেলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মঞ্চের সামনের সারির সব চেয়ার খালি দেখা যায়। কোনো জনগণ উপস্থিত ছিলেন না।

অনেকেই ভিডিওটি শেয়ার করে প্রশ্ন তুলেছেন, গণসংবর্ধনার মতো একটি অনুষ্ঠানে কেন দর্শক সারির সামনের অংশ ফাঁকা ছিল। কেউ কেউ অনুষ্ঠানটিকে ‘ফাঁকা মাঠের গণসংবর্ধনা’ বলেও মন্তব্য করেন।

 

 

তবে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালামের মেয়ে কানিজ ফাতেমা। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ভিডিও ও ছবি প্রচার করা হচ্ছে, তা পুরো অনুষ্ঠানের চিত্র নয়।

তিনি লেখেন, তার বাবার মূল কর্মসূচি ছিল সন্ধ্যার দিকে। তবে জরুরি কাজে ঢাকায় ফিরে যাওয়ার প্রয়োজন হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই অতিথিরা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা দেন।

কানিজ ফাতেমা আরও বলেন, একটি নির্দিষ্ট সময়ের ভিডিও বা ছবি দিয়ে পুরো আয়োজনকে মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। বাস্তব পরিস্থিতি না জেনে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য না করারও আহ্বান জানান তিনি।

 

 

বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, ভিডিওটি অনুষ্ঠানের একটি ক্ষণিকের দৃশ্য মাত্র। পুরো আয়োজনের সার্বিক চিত্র সেখানে উঠে আসেনি।

স্থানীয় বাসিন্দা মোবারক হোসেন বলেন, ‌‘আব্দুস সালাম এমপি হিসেবে ও ব্যক্তি হিসেবে অনেক জনপ্রিয় মানুষ। তার সন্ধ্যায় আসার কথা ছিল। আমরা সন্ধ্যায় সেখানে উপস্থিত হয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে জানতে পারি, এমপিকে দুপুরেই সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। তার নাকি জরুরি কাজ থাকায় ঢাকাতে যেতে হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ভিডিও প্রচার হয়েছে তা অহেতুক একটা মানুষকে বিভ্রান্ত করা ছাড়া কিছু নয়।’

এ বিষয়ে আয়োজক কমিটির সদস্য এটিএম মাহাবুব রাহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এমপি সাহেব ঢাকায় একটু জরুরি কাজে যাওয়ার জন্য অনুষ্ঠানে দ্রুত চলে আসেন। তখন আমরা ক্রেস্ট তুলে দিই। পরে সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে কয়েক হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছোট একটি ভিডিও ভাইরাল করে হেয় করা হচ্ছে। বিষয়টি দুঃখজনক।’