Image description

বিমানে ভ্রমণের সময় জ্বর, মাথাব্যথা ও পেটের পীড়া থেকে শুরু করে ছোটখাটো স্বাস্থ্যগত সমস্যায় কেবিন ক্রুদের কাছ থেকে ওষুধসহ প্রাথমিক চিকিৎসার সামগ্রী পেয়ে থাকেন যাত্রীরা। তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটগুলোয় গত ১০ দিন ধরে জ্বর কিংবা মাথাব্যথার উপশমে প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছেন না যাত্রীরা। শুধু তাই নয়, অন্তত তিন মাস ধরে বিমানের ফ্লাইটে যাত্রীদের অন্যান্য নাশতার সঙ্গে ব্রেড (রুটি) দেওয়া হলেও, তা খেতে ঠিকঠাক মতো বাটার সরবরাহ করা হচ্ছে না। বিভিন্ন ফ্লাইটের যাত্রীদের কাছ থেকে মিলেছে এমন তথ্য।

বিভিন্ন ফ্লাইটে দায়িত্ব পালন করা একাধিক কেবিন ক্রুর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, প্রায় ১০ দিন ধরে ফ্লাইটে জ্বর-মাথাব্যথা উপশমে ব্যবহৃত প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে যাত্রীর জ্বর বা মাথাব্যথা হলে ট্যাবলেটের চাহিদা দিলেও তা সরবরাহ করতে পারছেন না কেবিন ক্রুরা। এতে কোনো কোনো ফ্লাইটে যাত্রীদের কাছ থেকে নানা আপত্তিকর কথা শুনতে হচ্ছে তাদের। পাশাপাশি কোনো কোনো ফ্লাইটে নাশতার অন্যান্য আইটেমের সঙ্গে ব্রেড দেওয়া হলেও সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় বাটার দেওয়া যাচ্ছে না। এতেও বিব্রত অবস্থায় পড়তে হয় কেবিন ক্রুদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাধারণত ফার্স্ট অ্যাইড বা প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে বিমানের ফ্লাইটে পেটের পীড়া, ডায়রিয়া, জ্বর, শরীর ব্যথা ও মাথাব্যথা, বমি ও ঘুমের ট্যাবলেট, সর্দি, নাকের ড্রপ ও চোখের ড্রপসহ যাত্রীর চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এসব ওষুধের মধ্যে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধের চাহিদা থাকে বেশি। কিন্তু সেই ওষুধের সরবরাই নেই ১০ দিন ধরে।

সিনিয়র একজন কেবিন ক্রু কালবেলাকে জানিয়েছেন, বিমানের যাত্রীদের বেশিরভাগ প্রবাসী শ্রমিক। তারা বিদেশে পরিশ্রম করেন এবং ফ্লাইটের আগেও কঠোর পরিশ্রম করেন। বিশ্রাম না পেয়ে হয়তো বিমান যাত্রায় তাদের শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা এমনকি জ্বরও ওঠে। এজন্য ফ্লাইটে প্যারাসিটামলের চাহিদা থাকে বেশি। এমনও দেখা যায়, একজন যাত্রী এ ওষুধ চাইলে তা সরবরাহ করতে দেখে আরও ১০ জন তা নিয়ে নিজের কাছে রাখেন। তবে একটি ফ্লাইট সাধারণত ১০টি ট্যাবলেটের এক পাতার বেশি প্রয়োজন হয় না। সে ওষুধও সরবরাহ নেই, এতে কেবিন ক্রুরা বিব্রত অবস্থায় পড়ছেন।

গত বৃহস্পতিবার ঈদুল আজহার দিনে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ থেকে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন মনির হোসেন নামের একজন যাত্রী। তিনি কালবেলাকে বলেন, তার প্রচণ্ড মাথাব্যথা হচ্ছিল। তিনি প্যারাসিটামল জাতীয় ট্যাবলেট চেয়েও পাননি। অবশ্য বিমানকর্মীদের আচরণ ভালো ছিল এবং বিষয়টির জন্য তারা সহমর্মিতা জানিয়েছেন।

এদিকে বিমান সূত্র জানায়, গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হলে বিমানের ব্রেডের সঙ্গে সরবরাহ করা বাটার দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। কারণ এই বাটার কিনতে দুবাইতে একটি কোম্পানির সঙ্গে বিমানের চুক্তি রয়েছে। দেশটির সঙ্গে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে বাটার সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বাটার সরবরাহ না থাকায় যাত্রীদের শুধু ব্রেড সরবরাহ করা হচ্ছে।

ফ্লাইটে দায়িত্ব পালন করা বিমানের একাধিক কর্মী কালবেলাকে জানিয়েছেন, দুবাইতে ফ্লাইট স্বাভাবিক হলেও বাটার সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এখন হয়তো ঢাকা থেকে উড্ডয়ন করা ফ্লাইটে ব্রেডের সঙ্গে বাটার দেওয়া হলে ফেরার ফ্লাইটে তা সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। কয়েক মাস ধরে এ পরিস্থিতি চলছে।

বিমানের ফ্লাইটে খাবার ও ওষুধ সরবরাহ করে থাকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বিমান ফ্লাইট ক্যাটরিং সেন্টার বা বিএফসিসি। বিমান ছাড়াও বিদেশি আরও একাধিক এয়ারলাইন্সে খাবার সরবরাহ করে এ প্রতিষ্ঠান এবং এ প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক পরিসরে সুনামও রয়েছে।

বিমানের ফ্লাইটে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ এবং ব্রেডের সঙ্গে বাটার সরবরাহ না থাকার বিষয়ে জানতে গত সোমবার যোগাযোগ করা হয় বিএফসিসির মহাব্যবস্থাপক মো. আরিফুল হাসান সাধনের সঙ্গে। তিনি কালবেলাকে বলেন, এমন হওয়ার কথা নয়। সব ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। এরপরও তিনি খোঁজ নিয়ে জানাবেন। বাটার ছাড়া ব্রেড সরবরাহের বিষয়ে তিনি বলেন, কিছুদিন সমস্যা হয়েছিল হয়তো। এখন বাটার সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।

তবে সোমবারই মধ্যপ্রাচ্যের একটি ফ্লাইটের সরবরাহ তালিকা সংগ্রহ করে কালবেলা। তাতে দেখা যায়, প্রাথমিক চিকিৎসার সব ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও প্যারাসিটামল জাতীয় ট্যাবলেট সরবরাহ নেই। তা ছাড়া ওই ফ্লাইটে বাটার ছাড়া ব্রেড সরবরাহ করা হয়েছে। এ ধরনের একটি ছবিও রয়েছে কালবেলার কাছে।