Image description

দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় বড় ধরনের আমূল পরিবর্তনের আভাস দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, চীন-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে এবং মূলত চীনের অর্থায়নে দেশে ৫টি ১ হাজার শয্যার বিশেষায়িত নারী হাসপাতাল নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের ৫টি বিভাগে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট আরও ৫টি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল আগামী ছয় মাসের মধ্যে উদ্বোধন করা হবে।

বুধবার (৩ জুন) সচিবালয়ে নিজ কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরকারের এই পরিকল্পনা ও অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “চীন-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে, মূলত চীনের অর্থায়নে, আমরা ৫টি হাসপাতাল নির্মাণ করতে যাচ্ছি। প্রতিটি হাসপাতাল হবে ১ হাজার শয্যার। বাংলাদেশের ৫টি বৃহৎ শহরে বা শহরসংলগ্ন কোনও উন্মুক্ত স্থানে আধুনিক নকশায়, অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন ও শৈল্পিক নির্মাণশৈলীতে এই ৫টি হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।”

তিনি জানান, এই হাসপাতালগুলো হবে সম্পূর্ণভাবে নারীদের জন্য বিশেষায়িত। মায়েদের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এই বিশেষায়িত ৫টি হাসপাতাল নির্মাণের কাজ চলতি অর্থবছরের মধ্যেই শুরু করার ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আগামী ১৫ আগস্ট তিন মাসে নতুন ভবন উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, জনবলসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।” প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে আগামী ১৫ আগস্ট এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও তিনি জানান। 

নারী হাসপাতালের পাশাপাশি শিশুদের উন্নত চিকিৎসার জন্য নতুন প্রকল্পের ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রী জানান, দেশের ৫টি বিভাগে একটি করে মোট ৫টি ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করা হচ্ছে। হাসপাতালগুলো স্থাপন করা হচ্ছে— খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লায়। 

 

প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “এই ৫টি হাসপাতালের ফার্নিচার ও যন্ত্রপাতির টেন্ডার ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লা সদর এলাকায় ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল আগামী ছয় মাসের মধ্যে আমরা উদ্বোধন করতে যাচ্ছি।”

বিশেষায়িত নারী ও শিশু হাসপাতাল নির্মাণের এই উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্য অবকাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রান্তিক ও বড় শহরের লাখ লাখ মা ও শিশুর আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।