রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। বুধবার (৩ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি চলাকালে তিনি এই স্বীকারোক্তি দেন।
শুনানি শেষে আদালত আগামী বৃহস্পতিবার (৪ জুন) মামলার যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য করেছেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ১০টা ৪৭ মিনিটে কড়া নিরাপত্তায় সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়। ১০টা ৫৭ মিনিটে হাজতখানা থেকে তাদেরকে আদালতে তোলা হয়। বেলা ১১টা ১০ মিনিটে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে বিচারক প্রধান আসামি সোহেল রানাকে মামলার সকল সাক্ষীদের জবানবন্দি পড়ে শোনান এবং তার কোনো বক্তব্য আছে কি না জানতে চান।
এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সোহেল রানা বলেন, ‘আমি নির্দোষ স্যার। আমার সঙ্গে যে ছিল ডলার, তাকে আপনারা ধরেন। আমি দোষ করি নাই তা-না, আমিও দোষ করেছি। আমারে মাফ করে দিয়েন, আমার একটা ছোট ছাওয়াল আছে, আমার বউটা একদম নির্দোষ।’
পরে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি আদালতকে বলেন, আমি কিছু করি নাই, আমি নির্দোষ।
রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু এবং ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী শুনানিতে অংশ নেন। আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষ বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্কের আবেদনের জানালে আদালত তা মঞ্জুর করেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় এই আদেশ দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৪ মে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন। এরপর ১ জুন মামলার বাদী আবদুল হান্নান মোল্লাসহ ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেন ট্রাইব্যুনাল।
শীর্ষনিউজ