যশোরের বেনাপোল সাদিপুর সীমান্তে পুশ ইন চেষ্টা ব্যক্তিদের শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ। বুধবার ভোররাতে শূন্যরেখার ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে ১৫ জনের ওই দলকে সরিয়ে নেওয়া হয়। বিজিবি জানিয়েছে, সকালে সীমান্তে ড্রোন উড়িয়েও ওই ব্যক্তিদের উপস্থিতি দেখা যায়নি।
এদিকে, পুশ ইনচেষ্টা প্রতিহত করতে সীমান্তে বিজিবির অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিভিন্ন বাংকার থেকেও বিজিবি সদস্যদের সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে সীমান্তে বিজিবির স্বাভাবিক টহল অব্যহত রয়েছে।
রবিবার গভীর রাতে বেনাপোল সাদীপুর সীমান্তের ওপারে ভারতের হরিদাসপুর এলাকায় রাতের আঁধারে তিনটি ট্রাকে করে দেড় শতাধিক মানুষকে জড়ো করে ভারতের বিএসএফ। এরপর সীমান্তের আলো নিভিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ আনুমানিক ১৫ জনকে শূন্যরেখায় ঠেলে পাঠায়। এ সময় যশোর ৪৯ ব্যাটালিয়নের টহল দলের বিজিবি সদস্যরা তাদের আটকে দেয়। ঘটনার পর থেকে মানবেতর জীবনযাপন করতে দেখা যায় সীমান্তে। বর্তমানে সীমান্তের ভারতীয় অংশে আরও শতাধিক মানুষকে অবস্থান করিয়ে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমাদের সীমান্তে বিজিবি সব সময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিজিবির স্বাভাবিক টহল অব্যাহত রয়েছে। রবিবার রাত থেকে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার ছিল। এ সময় বিএসএফের পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী শনাক্তকরণ ও উচ্ছেদ কার্যক্রম জোরদার হওয়ার পর থেকে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তেও। বিশেষ করে, ভারতে জন্মগ্রহণকারী ও দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত অনেক মানুষের নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব সীমান্তে সামনের দিনে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের দাবি তুলেছে সচেতন এলাকাবাসী।
এদিকে, সীমান্ত নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও স্থানীয় বাস্তবতা পর্যবেক্ষণে বুধবার বেনাপোল আসছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এদিন বেলা ১২টার দিকে তিনি সাদিপুর সীমান্ত পরিদর্শন এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করব্নে।