নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পাওনা টাকা আদায়ের দাবিতে গোলজার হোসেনের নামের এক ব্যক্তির জানাজা ও দাফন কার্যক্রম আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। পরে পরিবারের সদস্যরা দাবি করা টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিলে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
মৃত গোলজার হোসেন উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের গোপেরবাগ এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ঈদুল আজহার দিন (২৮ মে) দুপুরে তিনি মারা যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে গোলজার হোসেনের জানাজার জন্য তার মরদেহ মশুরাকান্দা ঈদগাহ মাঠে নেওয়া হয়। এসময় উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েম প্রধান মৃতের কাছে এক লাখ ৩৬ হাজার টাকা পাওনা আছে বলে দাবি তুলে জানাজা ও দাফনে বাধা দেন। পাওয়া পরিশোধ না করার আগে জানাজা সম্পন্ন হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। পরে মৃতের স্বজনরা পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলে ওই বিএনপি নেতা জানাজা সম্পন্ন করার সুযোগ দেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা হজরত মিয়া বলেন, ‘জানাজায় কয়েকশ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। যে ঘটনা ঘটেছে সেটা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।’
বক্তব্যের জন্য মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য (ভাতিজা) সাইফুল ইসলামকে ফোন দিলে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। সুমন নামের আরেক ভাগিনার ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
জানাজা আটকানোর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েম প্রধান জাগো নিউজকে বলেন, ‘গোলজার হোসেনের সঙ্গে আমার ব্যবসায়ী লেনদেন ছিল। তার কাছে আমি এক লাখ ৩৬ হাজার টাকা পাওনা ছিলাম। ওই টাকার জন্য বহুবার তাগাদা দেওয়া হলেও পাইনি।’
তিনি বলেন, ‘টাকার জন্য জানাজা আটকিয়েছি বিষয়টি তেমন না, একটা সমাধানের জন্যই ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে মৃতের পরিবারের সদস্যরা রোববার টাকা ফেরত দেবে বলে জানান। ওইটার সমাধান হয়েছে।’
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি গোলাম সারোয়ার জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের কেউ জানাননি। যদি আমাদেরকে জানানো হতো, তাহলে অবশ্যই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যেত।’