Image description

ঈদ মানেই আনন্দ। কোরবানির পশুকে ঘিরে শিশুদের আনন্দ আরও বেড়ে যায়। পশু জবাই হওয়ার সময় মন কিছুটা খারাপ হয় বটে। তবে মাংসের টুকরোর স্বাদে মন তৃপ্ত হয়ে ওঠে। এবারের পবিত্র ঈদুল আজহার প্রথম দিন মাংস গলায় আটকে পৃথক ঘটনায় দুই শিশু মারা গেছে।

গত ২৮ মে, বৃহস্পতিবার জামালপুরের ইসলামপুর এবং চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় এ দুই ঘটনা ঘটে। খাবার শ্বাসনালিতে আটকে অক্সিজেনের অভাবে তারা মারা গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা যায় শিশু দুটো।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট-বড় যে কারোরই খাবার গলায় আটকে যেতে পারে। সাধারণত দ্রুত খাবার খেলে অথবা খাওয়ার সময় কথা বললে শ্বাসনালিতে খাবার আটকে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ সময় দ্রুত 'হাইমলিখ' কৌশলসহ কয়েকটি পদ্ধতি ব্যবহার করলে জীবন বাঁচতে পারে।

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় ইয়াসিন হোসেন নামে ১৪ বছরের এক কিশোর গলায় মাংসের টুকরা আটকে কোরবানির দিন মারা গেছে। ষষ্ঠ শ্রেণির এই ছাত্র হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা যায় বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।

স্বজনেরা বলছেন, দুপুরের পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাবার খাচ্ছিল ইয়াসিন। এ সময় হঠাৎ মাংসের টুকরো গলায় আটকে যায়। ইয়াসিন শ্বাস নিতে না পেরে ছটফট করছিল। পরে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

একই দিনে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় গলায় মাংস আটকে ১১ বছরের আঁখিতারা খাতুন মারা যায়। শিশুটির স্বজনেরা জানান, ঈদের আমেজে পরিবারের সঙ্গে বসে খাবার খাচ্ছিল আঁখিতারা। খাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত মাংসের টুকরো তার গলায় আটকে যায়। শিশুটি শ্বাস নিতে পারছিল না। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা যায় পঞ্চম শ্রেণির এই ছাত্রী। মুহূর্তেই পরিবারটির ঈদের আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়। পুরো এলাকায় শোক নেমে আসে।

তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারলে দুই শিশুর জীবনই রক্ষা পেত বলে মনে করছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নবজাতক বিভাগের অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার দে। তিনি বললেন, 'হাইমলিখ কৌশলের সঠিক ব্যবহার করতে পারলে গলায় আটকে যাওয়া খাবার বেরিয়ে আসে। দুই বছর পর্যন্ত শিশুদের ক্ষেত্রে এক ধরনের নিয়ম। এর বেশি বয়সীদের জন্য নিয়ম আলাদা। তবে অনেক সময় জোরে কাশি দিতে পারলেও খাবার বের হয়ে আসে।'

'খাবার বের না হওয়া পর্যন্ত হাইমলিখ প্রক্রিয়াটি বারবার করতে থাকতে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব জরুরি চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।' যোগ করলেন তিনি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, সাধারণ মানুষের জন্য হাইমলিখ কৌশল জানা বাধ্যতামূলক নয়। তবে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জীবন রক্ষাকারী প্রাথমিক চিকিৎসা কৌশল। এটি স্কুলে এবং কমিউনিটিতে শেখালে মানুষ উপকৃত হবে, অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু রোধ করা যাবে। কেউ ব্যক্তিগতভাবে আগ্রহী হলে ইউটিউবের ভিডিও দেখেও শেখা যাবে বলে জানান তারা।

হাইমলিখ কৌশল যেভাবে প্রয়োগ করবেন

হাইমলিখ কৌশল প্রয়োগ করতে হলে আক্রান্ত ব্যক্তির ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে দুই হাত দিয়ে তার কোমর জড়িয়ে ধরতে হবে। এরপর এক হাত মুষ্টিবদ্ধ করে নাভির ঠিক ওপরে এবং বুকের পাঁজরের নিচে রাখতে হবে। অন্য হাত দিয়ে সেই মুঠো শক্ত করে ধরে ভেতরের দিকে ও ওপরের দিকে দ্রুত চাপ দিতে হবে। আটকে থাকা বস্তু বের হয়ে না আসা পর্যন্ত অথবা আক্রান্ত ব্যক্তি স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়া বা কাশতে শুরু না করা পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হবে।