Image description

২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন থেকেই নতুন পে স্কেল কার্যকর হবে।

 

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তিন অর্থবছরে পুরো বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হতে পারে। এর মধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামোর বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ দেওয়া হতে পারে। আর ২০২৮-২৯ অর্থবছরে যুক্ত হতে পারে ভাতাগুলো।

 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত বছর জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে, যারা গত ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

এতে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা গ্রেডভেদে ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

 

নতুন পে স্কেলকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। কারণ, প্রস্তাবিত কাঠামোয় তাদের বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। বিশেষ করে ১৩তম গ্রেডের শিক্ষকদের বর্তমান ১১ হাজার টাকার মূল বেতন প্রায় দ্বিগুণ করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।

এটি বাস্তবায়ন হলে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

শুধু শিক্ষক নয়, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে নতুন কাঠামোয়। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় রেখে তুলনামূলক বেশি হারে বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি টিফিন ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও ইতিবাচক মত দিয়েছে বেতন কমিশন।

 

তবে নতুন পে স্কেল নিয়ে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় রয়েছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা।

সরকারি বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তারা নতুন হারে বেতন-ভাতা পাবেন কি না, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি। এ কারণে কয়েক লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও অপেক্ষা।

 

তবে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে কিছুটা আশার কথাও শোনা যাচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও পে কমিশনের কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় থাকা কর্মচারীরা নতুন পে স্কেলের সুবিধা পাবেন। ফলে শুধু মূল বেতন নয়, ধাপে ধাপে অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধাও নতুন নিয়ম অনুযায়ী সমন্বয় হতে পারে।

যদিও চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত পুরো বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। তারপরও ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের সম্ভাবনা সরকারি চাকরিজীবী ও শিক্ষক সমাজে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।