Image description

লালমনিরহাটের পাটগ্রামের তিনবিঘা করিডোর সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ বাঁশের খুঁটি দিয়ে বেড়া নির্মাণের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার পর বিজিবি-বিএসএফ কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

শনিবার সকালে ভারতের অভ্যন্তরে তিনবিঘা করিডর সড়কের পাশে বিএসএফের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

একই দিন ভারতীয় ফেসবুক পেজে সিনিউজের ভিডিও তে দেখা যায় সকালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেখলিগঞ্জের বিধায়ক দধিরাম রায় ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সংক্রান্ত একাধিক ভিডিও সেখানে প্রকাশ হয় । ভারতীয় সাংবাদিকদের দধিরাম রায় বলেন, সীমান্ত এলাকায় চলমান কাজ বন্ধ হবে না। ফ্লাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে আলোচনা চলবে ও সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ অব্যাহত থাকবে।

 

জানা গেছে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ডিএএমপি-৭ এর উপপিলার ১২ নম্বর সংলগ্ন ভারতীয় তিনবিঘা করিডর এলাকায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত বৈঠক চলে।

 

বৈঠকে ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ১৭৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট ভিনোদ রেঢু ও ৩০ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট এস নারায়ণ মিশরা। বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিজিবি রংপুর-৫১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান।

 

 

বৈঠকে বিএসএফ বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে ভারতীয় জমির ফসল নষ্ট করার অভিযোগ তোলে। এ বিষয়ে বিজিবি জানায়, কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ফসল নষ্টের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশও করা হয়। বিজিবি আরো জানায়, সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করতে হলে তা অবশ্যই ১৫০ গজের বাইরে করতে হবে।

 

এর আগে শুক্রবার দহগ্রাম সীমান্তের তিনবিঘা করিডরের শূন্যরেখার ১০ থেকে ২০ গজের মধ্যে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় শ্রমিকরা মাপজোখ শুরু করেন। এ সময় সীমান্ত আইন না মেনে বাঁশের খুঁটি স্থাপন করে বিএসএফ।

 

বিজিবির পানবাড়ী কোম্পানির কমান্ডার সুবেদার সোলেমান আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধের আহ্বান জানান। তবে বিএসএফ কাজ চালিয়ে গেলে উভয় বাহিনী সীমান্তে প্রতিরোধমূলক অবস্থান নেয়। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

 

বিজিবির একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভবিষ্যতে শূন্যরেখায় কোনো কাজ করার আগে অবশ্যই দুই বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বৈঠক ও ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে বলে বিএসএফকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।