বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে গভীর ও অগভীর ২৬টি ব্লকে আগামীকাল রবিবার আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করবে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩০ নভেম্বর।
জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দরপত্র আহ্বানের বিষয়টি নিশ্চিত করে কালের কণ্ঠকে বলেন, দরপত্রটি আজ শনিবার রাত ১২টায় পেট্রোবাংলার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে দেশের ৮টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় আগামীকাল বিজ্ঞপ্তি আকারে দরপত্রটি প্রকাশ হবে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে দেশে ও বিদেশে রোড শো, সংবাদ সম্মেলন এবং বিভিন্ন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, রবিবার বাংলাদেশ অফশোর মডেল প্রডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) ২০২৬’ এবং বিডিং রাউন্ড বিষয়ে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দুপুর আড়াইটায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে দরপত্রের বিষয়ে গণমাধ্যমের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।
সমুদ্রসীমা বিজয়ের এক যুগের বেশি সময় পার হলেও বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য পায়নি বাংলাদেশ। প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান ও মায়ানমার যেখানে সমুদ্রে জ্বালানি সম্পদ আবিষ্কারে এগিয়ে গেছে, সেখানে বাংলাদেশ গত দেড় দশক ধরে ব্যর্থতার বৃত্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে।
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা কালের কণ্ঠকে বলছেন, সংশোধিত ‘বাংলাদেশ অফশোর মডেল প্রডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) ২০২৬’-এ অনেক কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক কম্পানিগুলোর দীর্ঘদিনের দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অনুসন্ধান পর্যায়ে আগের মতো ৫০ শতাংশ এলাকা ছেড়ে দিতে হবে না; এখন কম্পানিগুলো মাত্র ২০ শতাংশ এলাকা ত্যাগ করবে। এ ছাড়া শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে মুনাফার অংশ ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের অংশে গভীর সমুদ্রে ১৫টি ও অগভীর সমুদ্রে ১১টি ব্লকসহ ২৬টি ব্লক রয়েছে। ২০১০ সালে কনোকোফিলিপস দুটি গভীর সমুদ্র ব্লকে কাজ শুরু করলেও গ্যাসের দাম বাড়ানোর দাবি পূরণ না হওয়ায় সরে যায়। একইভাবে অস্ট্রেলিয়ার সান্তোস ও দক্ষিণ কোরিয়ার পস্কো দাইয়ু চুক্তি বাতিল করে চলে যায়। ২০১৯ সালে একমাত্র কম্পানি হিসেবে কাজ শুরু করে ভারতের ওএনজিসি। একটি কূপ খনন করে তারা গ্যাসের সন্ধান পায়নি। দ্বিতীয় কূপ খনন না করেই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। এবার সংশোধিত শর্তে আন্তর্জাতিক কম্পানিগুলোর কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আশা করছে সরকার।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক কম্পানি এক্সনমবিল ও শেভরন ইতিমধ্যে এ দরপত্রে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক কম্পানিগুলো এখন নতুন সম্ভাবনাময় অঞ্চলে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অফশোর খাত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা।