Image description

গাজীপুরের শ্রীপুরে ঈদুল আজহা উপলক্ষে বেতন-ভাতা, ছুটি ও অন্যান্য দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনে লাঠিপেটা করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কেওয়া পশ্চিম খণ্ড বহেরারচালা এলাকায় অবস্থিত মিতালী গ্রুপের কেএসএস নিট কম্পোজিট লিমিটেড কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।

শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন দাবিতে শ্রমিকরা কয়েকদিন ধরে আন্দোলন করছিলেন। বুধবার কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে শ্রমিকরা কাজে ফিরলেও বৃহস্পতিবার সকালে কারখানায় এসে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণার নোটিশ দেখতে পান। এতে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

 

একপর্যায়ে ২০০ থেকে ২৫০ জন শ্রমিক কারখানায় প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় কারখানায় ভাঙচুরের চেষ্টা চালানো হলে শিল্প পুলিশের সদস্যরা লাঠিপেটা করে শ্রমিকদের সরিয়ে দেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

 

আন্দোলনরত শ্রমিক মো. সাফায়াত হোসেন বলেন, ১১ দিনের ছুটি ও পূর্ণ বেতনের দাবিতে আমরা আন্দোলন করছিলাম। কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবি আংশিক মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও সকালে এসে দেখি কারখানা বন্ধ এবং পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ভেতরে ঢুকতে গেলে বাধা দেওয়া হয়। এরপর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

আরেক শ্রমিক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বেতন পরিশোধ না করে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করায় শ্রমিকেরা বিপদে পড়েছেন। বকেয়া না দিয়েই আমাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

কারখানা কর্তৃপক্ষের জারি করা বন্ধের নোটিশে বলা হয়, সুইং সেকশনের কিছু শ্রমিক পূর্বানুমতি ছাড়া ধর্মঘটে অংশ নিয়ে উৎপাদন কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছেন। পাশাপাশি অন্যান্য শ্রমিকদের কাজে বাধা, কর্মকর্তাদের হুমকি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

 

নোটিশে আরো উল্লেখ করা হয়, ঈদ উপলক্ষে শ্রমিকদের জন্য ২০ দিনের অগ্রিম বেতন ও ১০ দিনের ছুটি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। শ্রম আইন অনুযায়ী পরবর্তী করণীয় ও প্রাপ্য সুবিধা দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। নোটিশে মিতালী গ্রুপের জিএম (এইচআর অ্যান্ড অ্যাডমিন) এ এম নুরুল আমিন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পক্ষে স্বাক্ষর করেন।

 

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন আমার দেশ কে বলেন, রাতেই কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সকালে কিছু শ্রমিক কারখানায় ভাঙচুরের চেষ্টা করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেয়। এ সময় কয়েকটি কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।