দৈনিক কালের কণ্ঠের ১৬ মে সংখ্যার প্রথম পাতায় ৭ কলামে প্রধান শিরোনাম ছিল “দুই হাজার শিল্পী নিগৃহীত”।
নওশাদ জামিল নামক একজন রিপোর্টারের ‘অনুসন্ধান’ বলে দাবি করা এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “মাঠ পর্যায়ের তথ্য, ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই দেড় বছরে (অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে) শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের দুই হাজারের বেশি মানুষ মব সহিংসতা, হামলা, মামলা, হুমকি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। জোর করে চাকরিচ্যুতির ঘটনাও ঘটেছে।”
কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, “বাংলাদেশ বাউল সমিতি ও বাংলাদেশ সুফি জাগরণ পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে দুই হাজারের কাছাকাছি পালাকার, বয়াতি, বাউলশিল্পী ও সংগঠক হামলা, অনুষ্ঠানে বাধার শিকার হয়েছেন। অনেক বাউলশিল্পী ও সংগঠকের নামে হত্যা বা হত্যাচেষ্টার মামলাও হয়েছে।”
সারা দেশে অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে মেয়াদে দুই হাজার পালাকার, বয়াতি, বাউলশিল্পী ও সংগঠক নানানভাবে নিগৃহীত হওয়ার এই পরিসংখ্যানটির সূত্র কী তা যাচাই করতে কালের কণ্ঠের রিপোর্টার নওশাদ জামিল, এবং প্রতিবেদনে এই তথ্যে সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা দুটি সংগঠন বাংলাদেশ বাউল সমিতি ও বাংলাদেশ সুফি জাগরণ পরিষদ এর নেতাদের সাথে কথা বলেছে দ্য ডিসেন্ট।
তাদের কেউই ‘দুই হাজার শিল্পী নিগৃহীত’ হওয়ার পক্ষে কোন প্রমাণ, তালিকা বা এই পরিসংখ্যানের ভিত্তি কী তা দিতে পারেননি।
‘অনুসন্ধানকারী’ রিপোর্টার বলছেন, ‘আনুমানিক সংখ্যা’
এ ব্যাপারে কালের কণ্ঠের প্রতিবেদক নওশাদ জামিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “এটা বাংলাদেশ বাউল সমিতি আমাদের জানিয়েছে আনুমানিক সংখ্যা হিসেবে। সারাদেশে দুই লাখ বাউল শিল্পী আছে, তাদের মধ্যে অনেক হামলার শিকার হয়েছেন, কাজ হারিয়েছেন, অনুষ্ঠান করতে পারেননি। এ ধরনের কোনো তালিকা সেই অর্থে নেই। তারা আনুমানিক হামলা হিসেবে সামগ্রিকভাবে সংখ্যাটা বলেছে। এটা তাদের বক্তব্য।”
বাউল সমিতির সভাপতি জানালেন তালিকা আছে ২০/৩০ জনের
বাংলাদেশ বাউল সমিতির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল নিগৃহীত বাউল শিল্পীদের কোন নির্দিষ্ট সংখ্যা বা তালিকা তাদের কাছে আছে কিনা? এবং কালের কণ্ঠের উল্লেখ করা ‘দুই হাজার’ সংখ্যাটির উৎস কী?
জনাব সেলিম জানান, তাদের কাছে মূলত ২০ থেকে ৩০ জনের একটি তালিকা রয়েছে। তালিকাটির একটি কপি পাওয়া যাবে কিনা জিজ্ঞেস করলে ঢাকার বাইরে অবস্থান করার কথা জানিয়ে বলেন, হোয়াটসঅ্যাপ বা এরকম কোন মেসেজিং অ্যাপ দিয়ে সেটি পাঠানোর মতো সুবিধা তার কাছে নেই।
কালের কণ্ঠের রিপোর্টে উল্লিখিত ‘দুই হাজার’ সংখ্যার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তাদের কাছে এত মানুষের কোনো তালিকা নেই।
জনাব সেলিম বলেন, “আমরা কোনো লিস্ট করি নাই। তবে আমরা যে মেসেজ পাইছি, তাতে এরকমই হইবো বা এর চেয়ে বেশি হইবো, কম হইবো না।
২০০০ জনকে ধরে ধরে শারীরিকভাবে নিগৃহীত করা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সেলিম বলেন, “না, না, না, এরকম না।”
তিনি বলেন, “হয়তো ৩০/৪০টির মতো সুনির্দিষ্ট ঘটনা ঘটেছে, তবে একজন মূল শিল্পীর সাথে থাকা ৭-৮ জন সহশিল্পীও যেহেতু অনুষ্ঠান করতে না পারায় আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সেই হিসেবে সব মিলিয়ে এই আনুমানিক সংখ্যাটি দাঁড় করানো হয়েছে।”
অন্যদিকে বাংলাদেশ সুফি জাগরণ পরিষদের সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাঙালি দ্য ডিসেন্টকে বলেছেন, “কালের কণ্ঠের সাথে আমার কথা হয় নাই। হয়তো আমাদের কোনো লোকজনের সাথে কথা হইতে পারে বা বাউল শিল্পীরা আমাদের প্রোগ্রামে থাকেন সেখানেও হইতে পারে; কিন্তু আমার সাথে কথা হয়নি।”
‘দুই হাজার’ নিগৃহীত শিল্পীর সুনির্দিষ্ট তালিকার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “ব্যাপারটা হচ্ছে যে বাউল শিল্পীদের ওপর হামলার যে তথ্যের কথা বলেছেন, এটা তো আনুমানিক সংখ্যা। আসলে একটা কথা যখন আপনি ভিডিও বানাবেন বা লেখালিখি করবেন তখন আপনার এটা কিন্তু গ্রহণযোগ্য হইতে হবে তাই না? বিষয় টা তো ঐ রকম না? তো সেই দৃষ্টিতে হয়তো ২ হাজার হবে না, কিন্তু হয়তো এটা মাইনাস করতে হবে।”
‘দুই হাজার’ সংখ্যাটি তাহলে কীভাবে এলো এ ব্যাপারে তিনি বলেন, “না না, মানে ১৫০০ থেকে ২০০০ এভাবে মানে কথাটাই ঐভাবে বলা হয়। কিন্তু আসলে এক্সাক্টলি যে কথাটা আসবে সেখানে আপনার মিনিমাম এখানে আমাদের যে সংখ্যার দিক দিয়ে বলতে গেলে তো আপনি এখানে ১৫০০ মিন করতে পারেন। কারণ সবাই তো একটু বেশিই বলে। আমরা যখন আন্দোলন করি তখন দেখবেন বিভিন্ন প্রোগ্রাম যখন করি তখন আমাদের এনএসআই জিজ্ঞাসা করে যে কতগুলো লোক হবে, কতজন লোক আসতে পারে বা প্রোগ্রাম শেষ হলে একটা ডাটা নেয়। তো সেখানে আমরা বলি ২ হাজার লোক হবে এই প্রোগ্রামে, ১ হাজার লোক হবে, ৫০০ লোক হবে। এরকম তো প্রোগ্রাম আমরা করি, বুঝতে পারছেন?”
‘সংখ্যা দিয়ে বিষয়টাকে বড় বা ছোট করে দেখার কিছু নেই’
যেহেতু একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রধান শিরোনামে খুবই স্পষ্ট আকারে ‘দুই হাজার শিল্পী’র নিগৃহীত হওয়ার সংখ্যাটি প্রচার করা হয়েছে, ফলে আরও যাচাইয়ের স্বার্থে ষয়টি নিয়ে দ্য ডিসেন্টের পক্ষ থেকে কথা বলা হয়েছে খ্যাতিমান চিন্তক এবং বাউল ও লালন দর্শনের অন্যতম প্রধান গবেষক কবি ফরহাদ মজহারের সাথে। তিনি তৃণমূলের বাউল ফকির সম্প্রদায়ের সাথে দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন।
দুই হাজার বাউল শিল্পী নিগৃহীত হওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান বা তালিকার বিষয়ে তার জানা আছে কিনা জানতে চাওয়া হলে ফরহাদ মজহার বলেন, “আমার কাছে কিছু ঘটনার তালিকা আছে, আমি ঢাকার বাইরে থাকায় এখন দিতে পারছি না। তবে সংখ্যা দিয়ে বিষয়টাকে বড় বা ছোট করে দেখার কিছু নেই। একজন বাউলের ওপরও হামলা হলে সেটি গুরুত্বপূর্ণ। মূল প্রশ্ন হলো, এসব ঘটনায় সরকার কেন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। সম্প্রতি শাহ আলী মাজারে হামলা হয়েছে। হামলার পর মাত্র তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কিন্তু বাকিদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা হয়নি। বিচারহীনতার কারণেই এ ধরনের হামলার ঘটনা বাড়ছে।”
অনির্দিষ্ট সংখ্যক হামলা হয়েছিল, নিন্দা জানিয়েছিল মানবাধিকার সংগঠনগুলো
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ৮ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। দেড় বছর মেয়াদকালে ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পতিত আওয়ামী লীগের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি দেশব্যাপী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন, মাজার এবং বাউল সম্প্রদায়ের ওপর বেশ কিছু হামলার ঘটনা ঘটেছে। বেশ কিছু জায়গায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলা ও পণ্ড করে দেয়ার ঘটনার খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে বাউলদের ওপর হামলার বিষয়ে কোন স্পষ্ট পরিসংখ্যানের অস্তিত্ব কোথাও পাওয়া যায়নি।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও এই ধরনের হামলার ঘটনা নিয়মিত ঘটলেও গবেষণা ও মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘মাকাম’ জানিয়েছে, অভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়জুড়ে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা, নজরদারি, মব হামলা এবং সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় স্থাপনাকে কেন্দ্র করে সংঘাতের ঘটনা বেড়েছিল।
২০২৬ সালে প্রকাশিত ‘মাকাম’ এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ১৭ মাসে দেশে অন্তত ১৩৪টি মাজার ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে; এর মধ্যে ৯৭টি ঘটনার প্রমাণ মিলেছে; এতে নিহত হয়েছেন ৩ জন এবং আহত হয়েছেন ৪৬৮ জন। হামলার পর অন্তত ৪৪টি মাজার পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে এবং একই সংখ্যক মাজারের ওরস বন্ধ রয়েছে।
অনেক ঘটনায় হামলাকারীদের মিছিল, স্লোগান, মাইকিং এবং বুলডোজার ব্যবহার করে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ৯৭টি হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে মাত্র ১১টিতে। উল্লেখ্য, এসব মাজারের অনেকগুলোতে বাউলের কার্যক্রম থাকে।
২০২৫ সালে সারা বছর ধরেই আইনি হয়রানি এবং ভয়ভীতির মাধ্যমে বাউল, সাংবাদিক ও শিল্পীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে উল্লেখ করে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট ও গণমাধ্যমের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, আর্টিকেল ১৯ ও সিপিজে-সহ ৭টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন সম্প্রতি একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে।
এছাড়াও, মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) তাদের এক প্রতিবেদনে বাউলদের ওপর হামলার তথ্য উল্লেখ করে। পাশাপাশি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মানিকগঞ্জে বাউলশিল্পী আবুল সরকারের গ্রেপ্তার ও তাঁর সমর্থকদের ওপর মব-হামলার ঘটনায় সরকারের নীরবতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার তীব্র নিন্দা জানিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
ফজলুর রহমানের অসত্য তথ্যের রেফারেন্স
কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে ‘সংস্কৃতি চর্চা পুরোপুরি বন্ধ ছিল’ প্রমাণ করার জন্য জাতীয় সংসদে দেওয়া বিএনপির সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের একটি বক্তব্য ব্যবহার করা হয়েছে। গত ২৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ফজলুর রহমান বলেন, “এখানে ইউনূস সরকার ছিল। আমি শিল্পকলা একাডেমির সামনে থাকি। একটা গান হইতে পারে নাই, একটা নাটক হইতে পারে নাই, একটা লালনের গীতি হইতে পারে নাই, একটা বাউল গান হইতে পারে নাই সবকিছু কালো শক্তি ধ্বংস করে দিয়েছিল।”
ফজলুর রহমান ‘একটা গান এবং একটা নাটক’ও না হওয়ার যে দাবি করেছেন সেটি যে অসত্য তা ইতোমধ্যেই ফ্যাক্ট-চেক করা হয়েছে।
গত ২৯ এপ্রিল দ্য ডিসেন্ট প্রকাশিত ফ্যাক্ট-চেক প্রতিবেদনে বলা হয়, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক আয়োজনে হামলার ঘটনা ঘটলেও, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিসহ সারা দেশে অসংখ্য নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে এবং গান, সাধুসঙ্গ ও লালনসংগীতের আয়োজন হয়েছে।”
১৭টি ঘটনার অন্তত ১১টিতে আংশিক তথ্য দিয়েছে কালের কণ্ঠ
কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে তাতে গুরুতর তথ্যগত অসঙ্গতি ও প্রেক্ষাপটগত ঘাটতি রয়েছে।
বানোয়াট পরিসংখ্যানের বরাতে দুই হাজার শিল্পী নিগৃহীতের দাবি কথা বলা হলেও পুরো প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে মোট ৫৮ জন ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট ১৭টি পৃথক ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে।
তবে দ্য ডিসেন্টের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা ওই ১৭টি ঘটনাকে ‘বাউল বা শিল্পীদের ওপর হামলা বা নিগ্রহের ঘটনা’ হিসেবে তুলে ধরা হলেও অন্তত ১১টি ঘটনায় এমন রাজনৈতিক, আইনি বা সামাজিক প্রেক্ষাপট ছিল, যার প্রেক্ষিতে ওইসব ঘটনাকে ‘বাউল বা শিল্পীর ওপর নিগ্রহ’ বলে আখ্যায়িত করলে তা বিভ্রান্তি তৈরি করে।
ঘটনাগুলোর পৃথক বিশ্লেষণ: উপস্থাপনা বনাম প্রেক্ষাপট
কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনের শুরুতেই ময়মনসিংহের তারাকান্দায় প্রবীণ বাউলশিল্পী হালিম উদ্দিন আকন্দের চুল দাড়ি কেটে দেওয়ার ঘটনাটি তুলে ধরা হয়। কালের কণ্ঠ ঘটনাটিকে “বাউলশিল্পীর ওপর নিপীড়ন” এবং শিল্প সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষের বিরুদ্ধে চলমান হামলার উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “জোর করে ধরে বাউলশিল্পীর মাথার জট ও দাড়ি কেটে দেওয়া হয়।”
তবে দ্য ডিসেন্টের ২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত “জোর করে চুল কেটে, গোসল করিয়ে টাকা কামান তারা” শিরোনামের অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘটনাটি কোনো “বাউলবিরোধী” হামলার অংশ ছিল না; বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কেন্দ্রিক কনটেন্ট ব্যবসার অংশ হিসেবে এই ধরনের ভিডিও তৈরি করা হয়েছে।
দ্য ডিসেন্ট এর অনুসন্ধানে তখনই দেখানো হয়েছিল, ফেসবুক ও ইউটিউবে অন্তত ১৭টি পেইজ ও চ্যানেল শেখ হাসিনা সরকারের আমল থেকে রাস্তায় ঘুরা ভবঘুরে বা মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের জোর করে ধরে চুল-দাড়ি কেটে, গোসল করিয়ে সেগুলোর ভিডিও বানিয়ে নিয়মিত প্রকাশ করছিল। এসব ভিডিওর মোট ভিউ প্রায় ২০০ কোটির বেশি এবং অনুসারী প্রায় ৪০ লাখ বলে দ্য ডিসেন্ট এর প্রতিবেদনে জানানো হয়। অর্থাৎ, হালিম উদ্দিন আকন্দকে ধরে চুল-দাড়ি কেটে দেয়ার ঘটনাটি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের কোন বাউল শিল্পীকে টার্গেট করে নিগৃহীত করার চেষ্টা নয়। বরং একজন ভবঘুরে হিসেবে ওই ব্যক্তিকে ধরে কথিত ‘পরিচ্ছন্নতা অভিযান’ এর কাজ, যা অন্তর্বর্তী সরকারের আগে থেকে বাংলাদেশে চলছিল এবং সেগুলো প্রকাশ্যে সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশ করে বিভিন্ন পেইজ থেকে ভিউ ব্যবসা করা হচ্ছিল।
২০২৫ সালের ৫ মে রাজধানীর গুলশানে ভাস্কর রাসাকে রিকশা থেকে নামিয়ে হেনস্তার ঘটনাকে ‘শিল্পীকে নির্যাতনের ঘটনা’ হিসেবে তুলে ধরেছে কালের কণ্ঠ।
তবে ঘটনাটির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, ভাস্কর রাসার পূর্ববর্তী রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা উল্লেখ করা হয়নি।
ভাস্কর রাসা বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগপন্থী ও বিএনপিবিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। ২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর শাহবাগে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের এক সমাবেশে তিনি উপস্থিত ছিলেন, যেখানে বিএনপিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিষিদ্ধ করার আলটিমেটাম দেওয়া হয়। এর আগে ২০২২ সালের আগস্টে চন্দ্রিমা উদ্যানের সামনে আওয়ামীপন্থী বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের আরেকটি মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশেও তিনি বক্তব্য দেন। সেখানে বঙ্গবন্ধু হত্যার দায়ে জিয়াউর রহমানের “মরণোত্তর বিচার”, চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে তাঁর কবর অপসারণ এবং বিএনপির রাজনৈতিক নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানানো হয়।

এছাড়া ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি “মায়ের কান্না” নামের একটি সংগঠনের সংবাদ সম্মেলনেও তিনি উপস্থিত ছিলেন, যেখানে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের “মরণোত্তর বিচার” এর দাবি করা হয়।
৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সহস্রাধিক প্রতিবাদী মানুষকে হত্যার পর তখনকার সরকার পরিচালনকারী আওয়ামী লীগ এবং তদসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি সাধারণ মানুষ ও অভ্যুত্থানের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষোভের প্রেক্ষাপটগুলো কালের কণ্ঠের এই বর্ণনায় আসেনি।
কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে সংগীতশিল্পী রাহুল আনন্দের বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কোটা সংস্কার আন্দোলন ও পরবর্তী সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের দিন তাঁর ধানমণ্ডির বাসভবনে হামলা চালানো হয়, তিন শতাধিক বাদ্যযন্ত্র পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
তবে ২০২৪ সালের আগস্টে দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জলের গান ব্যান্ডের ফেসবুক পেজ এবং রাহুল আনন্দের পারিবারিক বন্ধু ফারহানা হামিদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, আগুনের মূল লক্ষ্য ছিল ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু জাদুঘর ও তার সম্প্রসারণ সংশ্লিষ্ট অংশ। রাহুল আনন্দের বাসাটি সেই স্থাপনার সীমানার ভেতর বা সংলগ্ন এলাকায় হওয়ায় আগুন সেখানে ছড়িয়ে পড়ে।

ফারহানা হামিদ লেখেন, “রাহুলদার বাসা উদ্দেশ্য করে আগুন দেওয়া, লুটপাট বা ভাঙচুর করা হয়নি।”
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলুও একই ধরনের তথ্য প্রকাশ করে। তাদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাহুল আনন্দের বাসাটি আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) কমপ্লেক্সের ভেতরে বা সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত ছিল। সাংবাদিক মুক্তাদির রশিদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সিআরআই ভবন লক্ষ্য করে হামলার কারণেই আশপাশের স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অর্থাৎ, রাহুল আনন্দের বাড়ির পুড়ে যাওয়ার ঘটনাটি কোন শিল্পীর বাড়িকে লক্ষ্য করে ঘটানো হয়নি। আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট অফিসের পাশে অবস্থিত হওয়ায় একটি অনিচ্ছাকৃত ঘটনা।
অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের কিছুদিন পরই ৭ মার্চ ও ১৫ আগস্ট সরকারি ছুটি বাতিল করে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের স্মরণে ‘ঐতিহাসিক ৭ মার্চ’ এবং ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার স্মরণে ১৫ আগস্ট ‘জাতীয় শোক দিবস’ হিসেবে পালিত হতো।
কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ক্রিয়েটিভ রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন নামের একটি সংগঠন মানববন্ধন আয়োজন করে। ওই মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কবি সাহিত্যিক ও লিটলম্যাগ কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। সেখানে কবি ও সাংবাদিক সৌমিত্র দেব গুরুতর আহত হন।
প্রতিবেদনে সংগঠনটির মুখপাত্র কুতুব হিলালী দাবি করেন, তাঁদের “আওয়ামী লীগের দোসর” আখ্যা দিয়ে মারধর করা হয়েছিল এবং তাঁরা “মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনার ওপর আঘাতের প্রতিবাদে” কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন।
তবে ১৯ অক্টোবর ২০২৪ তারিখের ইত্তেফাকের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ৭ মার্চ ও ১৫ আগস্ট জাতীয় দিবসের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে “আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকেরা” প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনের জন্য জড়ো হয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, পরে বিএনপির ৫০/৬০ নেতাকর্মী এসে তাঁদের ধাওয়া ও মারধর করেন।

ঘটনার ভিডিওতেও হামলাকারীদের “আওয়ামী লীগ ধর” বলে ধাওয়া দিতে দেখা যায়। আক্রান্ত এক ব্যক্তি দৌড়ে পালানোর সময় বলেন, “এই দেশে আওয়ামী লীগের ইতিহাস কেউ কখনও মুছতে পারবে না। আমরা ছিলাম, আছি, থাকবো ইনশাআল্লাহ।”
একই প্রতিবেদনে কালের কণ্ঠ উল্লেখ করেছে শিল্পী সৌমিত্র দেব ওইদিনের হামলায় হয়ে পরে মৃত্যুবরণ করেন।
বলা হয়েছে, “কালের কণ্ঠ সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, সেদিন প্রেস ক্লাবের সামনে হামলায় গুরুতর আহত হন কবি ও সাংবাদিক সৌমিত্র দেব। তাঁকে রাস্তায় ফেলে নির্মমভাবে পেটানো হয়। এ ঘটনায় তিনি মারাত্মকভাবে শারীরিক ও মানসিক আঘাত পান। চিকিৎসা নেন কয়েকটি হাসপাতালে, তবে পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি। মাস ছয় পরে ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল অসুস্থ অবস্থায় মারা যান এই কবি ও সাংবাদিক।”
কিন্তু সৌমিত্র দেবের মৃত্যুর পর জাতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে মৃত্যুর কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতার পর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, তিনি ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রেস ক্লাবের সামনে হামলার শিকার হয়েছিলেন, তবে চিকিৎসক বা পরিবারের পক্ষ থেকে সেই হামলার সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্কের কথা বলা হয়নি।
আ.লীগ নেতাদের পরিচয় আড়াল করেছে কালের কণ্ঠ
বেশ কয়েকটি ঘটনার ক্ষেত্রে কালের কণ্ঠ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাংস্কৃতিক পরিচয় সামনে আনলেও তাঁদের প্রত্যক্ষ আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করেনি। দ্য ডিসেন্টের অনুসন্ধানে দেখা যায়, দেবীগঞ্জ থিয়েটারের আবু বক্কর সিদ্দিক, নাট্যকার আসাদুল্লাহ ফারাজী ও পাঁচবিবি থিয়েটারের হাবিবুর রহমান হাবিব তিনজনই স্থানীয় আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন এবং কেউ কেউ মেয়র বা দলীয় নেতা হিসেবেও সক্রিয় ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা বা গ্রেপ্তারের ঘটনাগুলোও মূলত রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ফৌজদারি অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ঘটে। তবে কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে এসব রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রেক্ষাপট অনুল্লেখিত রেখে ঘটনাগুলোকে কেবল “সংস্কৃতিকর্মীদের ওপর হামলা” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থিয়েটারের সভাপতির বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের কথা বলা হলেও দেবীগঞ্জ থিয়েটার সভাপতির নাম উল্লেখ করা হয়নি। এই তথ্যটি ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট বিডিনিউজে প্রকাশিত “হামলার শিকার ১০ গ্রাম থিয়েটার সংগঠন” শিরোনামের প্রতিবেদনে পাওয়া গেছে। সেই প্রতিবেদনেও পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থিয়েটারের সভাপতির নাম উল্লেখ করা হয়নি।

দ্য ডিসেন্টের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দেবীগঞ্জ থিয়েটার সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি দেবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দেবীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন। তিনি ২০২১ সালের পৌরসভা নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেবীগঞ্জ থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত মেহেদী হাসান হিমেল ও বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের সংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ রিংকু।
আরটিভি ও ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা ছিল।
জামালপুরের মেলান্দহে শহীদ সমর থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও নাট্যকার আসাদুল্লাহ ফারাজীর বাড়িতে ভাঙচুর এবং তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনার ক্ষেত্রেও কালের কণ্ঠ আসাদুল্লাহ ফারাজীর রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরেনি।

বিডিনিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি মেলান্দহ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের মার্চে পুলিশ মেলান্দহ পৌরসভায় নিজ বাসা থেকে আসাদুল্লাহ ফারাজীকে গ্রেপ্তার করে। একই অভিযানে কুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইসমাইল হোসেনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থিয়েটারের সভাপতি ও সংগঠক হাবিবুর রহমান হাবিবের বাড়িতে ভাঙচুর ও তাঁর বিরুদ্ধে মামলার ঘটনার ক্ষেত্রেও তার দলীয় পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। তিনি পাঁচবিবি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এবং পাঁচবিবি পৌরসভার সাবেক মেয়র ছিলেন।

এনটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হাবিবুর রহমান হাবিবকে গ্রেপ্তার করা হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যা মামলায়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলাসহ মোট ছয়টি মামলা ছিল এবং ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। পরে ঢাকার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
অন্যদিকে বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের ২০২২ সালের জুলাই মাসের এক পোস্টে দেখা যায়, হাবিবুর রহমান হাবিবকে “বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য” এবং “পাঁচবিবি থিয়েটারের সভাপতি” পরিচয়ের পাশাপাশি পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানানো হয়।
কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিককে মারধর, লাঞ্ছনা ও গ্রেপ্তারের ঘটনাও তুলে ধরে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় একদল যুবক তাঁকে জামাকাপড় ছেঁড়া অবস্থায় টেনেহিঁচড়ে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে তাঁকে জুলাই আন্দোলনের হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঘটনাটি শুধু একজন অভিনেতার বিরুদ্ধে “সংস্কৃতিবিরোধী হামলা” নয়।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনেও দেখা যায়, সিদ্দিককে মারধরকারীরা তাঁকে “আওয়ামী লীগের দালাল” বলে স্লোগান দিচ্ছিল। একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাধিকবার গুলশান ও টাঙ্গাইলের আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন।
বৈশাখী টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন এবং দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবেও সক্রিয় ছিলেন।
প্রতিবেদনে তাঁর একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়, যেখানে তিনি বলেন, “আমার বাবার মুখ থেকে যেহেতু আমি জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু শিখেছি, অতএব ওই স্লোগানটা যতদিন আমার কণ্ঠনালীতে থাকবে ততদিন সিদ্দিকুর রহমান সাধারণ মানুষের হয়ে কথা বলার জন্য চেষ্টা করবে।”
একই প্রতিবেদনে আরও দেখানো হয়, বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে ভাঙচুরের প্রতিবাদে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে সিদ্দিকুর রহমান তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “খুনি তারেক জিয়ার যেন ফাঁসি হয়। ফাঁসি ওখানে না, আমাদের দেশে হবে। কারণ তারেক জিয়া তো এমনিই খুন করে দিয়ে ওখানে পালায়া আছে। আল্টিমেটলি সে লন্ডনে গিয়ে আবার শুরু করেছে যে একটি দূতাবাস মানে একটা দেশের সার্বভৌমত্ব এবং একটা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করে। ।”
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিলে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর রাজধানীতে দেখা গেলে উত্তেজিত জনতা তাঁকে চিনে ফেলে। ভিডিওতে দেখা যায়, তাঁকে “আওয়ামী লীগের দোসর” বলে স্লোগান দেওয়া হচ্ছে এবং পরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।

জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও সিদ্দিকুর রহমান নিজেকে আওয়ামী লীগসমর্থক হিসেবে প্রকাশ্যে পরিচয় দেন। তিনি বলেন, “আমি আওয়ামী লীগ সমর্থিত একজন মানুষ। আমি ছিলাম না, আমি এখনো আছি, সত্যি কথা যেটা।” একই সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন যে তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপত্র চেয়েছিলেন।
কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক আহকাম উল্লাহ “মব আক্রমণ ও মামলা থেকে রক্ষা পেতে” বিদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।
তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আহকাম উল্লাহ শুধু সাংস্কৃতিক সংগঠক ছিলেন না; তিনি আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক অবস্থান রয়েছে। একইসঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলন সংক্রান্ত হত্যা মামলাও দায়ের হয়।
চ্যানেল২৪ এর প্রতিবেদনে বলা হয়, যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় আহকাম উল্লাহকে ৮৭ নম্বর আসামি করা হয়। মামলাটির প্রধান আসামি ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, জুলাই আন্দোলনের সময় “প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্ররোচনায়” আন্দোলনরত ছাত্র জনতার হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। একই মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, এমপি, পুলিশ কর্মকর্তা ও সরকারঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়।
আহকাম উল্লাহর রাজনৈতিক অবস্থান ও আওয়ামী সম্পৃক্ততার আরও উদাহরণ পাওয়া যায় ২০২৫ সালের ২ মে আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের একটি পোস্ট থেকে। ওই লাইভের শিরোনাম ছিল “বিএনপির অপপ্রচারের রাজনীতি”। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেনের সঙ্গে আলোচক হিসেবে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক আহকাম উল্লাহ অংশগ্রহণের কথা ছিল। যদিও পরবর্তীতে লাইভে আহকাম উল্লাহ অংশগ্রহণ করেননি।

এর আগে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় আহকাম উল্লাহ আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। যুগান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই সভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, “বিএনপি জামায়াত সরকার পতনের এক দফা দাবি বাস্তবায়নে কৌশলে ছাত্রদের পেছনে অবস্থান নিলো। এই আন্দোলনে মূল খেলোয়াড় তো ছাত্র নয়, মূল খেলোয়াড় বিএনপি জামায়াত।”
এর আগেও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সরকারপন্থী কর্মসূচিতে তাঁর উপস্থিতি দেখা যায়। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লেখা বই থেকে পাঠ করেন আহকাম উল্লাহ। বাসসের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বিএনপি জামায়াতকে “পরাজিত শক্তির দোসর”, “খুনি”, “সন্ত্রাসী” ও “জঙ্গিবাদী” হিসেবে আখ্যা দেন এবং বলেন, “এদের বাংলাদেশের রাজনীতি করারই কোনো অধিকার নেই।”
নির্বাচনের আগেও আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচারণামূলক বক্তব্য দেন তিনি। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত “বিজয় উৎসব” এ তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার বিকল্প আমাদের কাছে নেই। নৌকাকে বিজয়ী করতে না পারলে দেশ আবার পাকিস্তানপন্থী হবে।”

২০১৮ সালের নির্বাচন পরবর্তী সময়েও শেখ হাসিনাকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানিয়ে আহকাম উল্লাহ নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, “বিজয়ের শুভেচ্ছা জননেত্রী শেখ হাসিনা, আমাদের শেষ আশ্রয়। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।”
সাম্প্রতিক সময়েও তাকে শেখ হাসিনার পক্ষে ফেসবুকে প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে।
কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দীন ইউসুফের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাকে “সংস্কৃতিকর্মীদের ওপর দমন পীড়ন” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে নাসির উদ্দীন ইউসুফ দাবি করেন, অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি চর্চাকে ব্যাহত করার উদ্দেশ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের মামলা দেওয়া হয়েছে।
তবে বিভিন্ন সময়ের প্রকাশ্য রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মকাণ্ডের তথ্য থেকে দেখা যায়, তিনি কেবল সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেই সক্রিয় ছিলেন না; আওয়ামী লীগপন্থী রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গেও প্রকাশ্যে যুক্ত ছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সরাসরি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটকে সমর্থন দেয়। সেই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, “আমরা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির পক্ষে দাঁড়াব।” একই অনুষ্ঠানে তিনি “জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতকে পুনর্বাসন” করার বিরোধিতা করেন।
“এছাড়া ২০২১ সালের ২৪ জানুয়ারি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি লেখেন, “মুজিব বর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীকালে ভূমিহীন গৃহহীন প্রায় ৭০,০০০ স্বদেশবাসীকে অনন্য এ উপহার দেয়ার জন্য... জয় বাংলা।”
অন্যদিকে ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়, যেখানে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের বহু নেতা কর্মীকেও অভিযুক্ত করা হয়েছিল। মামলার এজাহারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থী জনতার ওপর হামলা ও বিস্ফোরণের অভিযোগ আনা হয়।
এছাড়াও ২০২৪ সালের বিতর্কিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার পক্ষে অবস্থান নেয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের “নিরঙ্কুশ বিজয়ে” শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে সংগঠনটি বিবৃতি দেয়।
নির্বাচনের আগেও সংগঠনটির নেতারা প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচারণামূলক বক্তব্য দেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত “বিজয় উৎসব” এ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক আহকাম উল্লাহ বলেন, “শেখ হাসিনার বিকল্প আমাদের কাছে নেই। নৌকাকে বিজয়ী করতে না পারলে দেশ আবার পাকিস্তানপন্থী হবে।” একই অনুষ্ঠানে নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, “স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে বিজয়ী করার বিকল্প নেই।”
কালের কণ্ঠ লিখেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শতাধিক চলচ্চিত্র অভিনেতা অভিনেত্রী, প্রযোজক ও পরিচালকের বিরুদ্ধে হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়। প্রতিবেদনে ফেরদৌস আহমেদ, রিয়াজ, চঞ্চল চৌধুরী, শমী কায়সার, অপু বিশ্বাস, নিপুণ আক্তার, সোহানা সাবা, মেহের আফরোজ শাওন, সুবর্ণা মুস্তাফা, রোকেয়া প্রাচী, অরুণা বিশ্বাস, জ্যোতিকা জ্যোতি, জায়েদ খানসহ বহু শিল্পীর নাম উল্লেখ করে দাবি করা হয়, এসব মামলার কারণে তাঁরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। একইসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, তাঁদের অনেকের কর্মকাণ্ড শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে “স্বৈরাচারী হয়ে ওঠার ইন্ধন” জুগিয়েছিল বলে অভিযোগ ছিল।
তবে কালের কণ্ঠ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ঘটনার রাজনৈতিক ও আইনি প্রেক্ষাপট উল্লেখ করেনি। প্রতিবেদনে “শিল্পী নিগৃহীত” হিসেবে উপস্থাপিত কয়েকজন ব্যক্তি আওয়ামী লীগের সক্রিয় সমর্থক, দলীয় প্রচারণাকারী বা সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। এছাড়া “আলো আসবেই” গ্রুপের মতো আওয়ামী লীগপন্থী কার্যক্রমে যুক্ত থাকা এবং জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতার অভিযোগে সমালোচিত হওয়ার পরও তাঁদের কয়েকজন এখনো প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ অবস্থানে সক্রিয় আছেন।
“আলো আসবেই” নামের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের ফাঁস হওয়া কথোপকথনে আওয়ামী লীগপন্থী শিল্পীদের একটি অংশ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। গ্রুপটিতে আন্দোলন সমর্থক শিল্পী ও নির্মাতাদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়। সেখানে অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস “গরম পানি ঢেলে দিলেই হবে” মন্তব্য করেছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়। একই গ্রুপে জ্যোতিকা জ্যোতি আন্দোলনকারীদের “জামায়াত শিবির” বলেও মন্তব্য করেন।
অভিনেতা ও সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য ফেরদৌস আহমেদ এই গ্রুপ তৈরির অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন।

“প্রতিবেদনে ‘শিল্পী নিগৃহীত’ হিসেবে উপস্থাপিত কয়েকজন ব্যক্তি আওয়ামী লীগের সক্রিয় সমর্থক, দলীয় প্রচারণাকারী বা সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। যেমন অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা একাদশ জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। শমী কায়সার আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ছিলেন।
ওই গ্রুপে থাকা অভিনেত্রী শামীমা তুষ্টি প্রকাশ্যে নিজেকে “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী” হিসেবে পরিচয় দেন। “আলো আসবেই” গ্রুপের অন্যতম এডমিন হিসেবে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, দলীয় কর্মী হিসেবে তাঁকে “দলের নির্দেশনা অনুযায়ী” কাজ করতে হয়েছে।
এছাড়া এসব শিল্পীর অনেকেই এখনো আওয়ামী লীগপন্থী অবস্থান থেকে পুরোপুরি সরে আসেননি। “আলো আসবেই” গ্রুপ ফাঁস হওয়ার পরও কয়েকজন শিল্পী নিজেদের বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেন, কিন্তু আওয়ামী লীগপন্থী রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেননি।
অন্যদিকে রোকেয়া প্রাচী, সোহানা সাবা, জ্যোতিকা জ্যোতি, মেহের আফরোজ শাওনসহ আরও কয়েকজন শিল্পী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রকাশ্য বক্তব্যে আওয়ামী লীগপন্থী অবস্থানের সঙ্গেই যুক্ত আছেন।