Image description

এশিয়া পোস্টে গত ১৯ মে (মঙ্গলবার) ‘মাসুদ সাঈদীর ইস্তানবুল হোটেলে বিনিয়োগকারীদের ১৭৫ কোটি টাকা গেল কোথায়’ শিরোনামে সংবাদটির প্রতিবাদ জানিয়েছে ইস্তানবুল হোটেলের মিডিয়া সেল। বুধবার (২০ মে) এশিয়া পোস্টের কাছে এ প্রতিবাদপত্র পাঠান প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডিএম এমদাদুল হক। প্রতিবাদের প্রকাশিত সংবাদটি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন তিনি।

প্রতিবাদে বলা হয়েছে, ‘এশিয়া পোস্ট’ নামক একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে ‘মাসুদ সাঈদীর ইস্তানবুল হোটেলে বিনিয়োগকারীদের ১৭৫ কোটি টাকা গেল কোথায়’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি ইস্তাম্বুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেডের পরিচালনা পরিষদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। উক্ত প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। আমরা এ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

‘প্রতিবেদন প্রকাশের আগে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই না করেই মনগড়া তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে, যা সাংবাদিকতার ন্যূনতম নৈতিকতা ও পেশাদারিত্বের পরিপন্থী।’

‘আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আইন, স্বচ্ছতা ও নীতিমালার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করা, জমি ও স্থাপনা মালিকানায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা ও আমাদের ব্যবসায়িক সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

‘প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১০ হাজার শেয়ার বিনিয়োগ করে মোট ৩০০ কোটি টাকা মার্কেট থেকে তোলার যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সর্বেধ মিথ্যা। ১০ হাজার শেয়ার বিক্রি হয়েছে এই কথা সত্য নয় বরং দশ হাজার জমি ও মালিকানা বিক্রয় ও বুকিং হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করে জমির শেয়ার কিনেছেন। এবং বাকিরা ইনস্টলমেন্ট টাকা পরিশোধ করছে। কেউ ২৫ হাজার দিয়েছেন, কেউ ৫০ হাজার পরিশোধ করেছেন এবং বাকি টাকা কিস্তিতে পরিশোধ করছেন। কিন্তু এই প্রতিবেদনের প্রতিবেদক সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সত্য গোপন করে এই রিপোর্ট তৈরি করেছে। ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার বিক্রি করছে না, বরং সাব-কবলা রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে জমির মালিকানা এবং তার ওপর নির্মিত স্থাপনার মালিকানা বিনিয়োগকারীদের নিকট হস্তান্তর করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ বৈধ ও আইনসম্মত প্রক্রিয়া । অথচ প্রতিবেদনে বিষয়টি উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।’

প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট জমির শেয়ার হোল্ডারদের বিনিয়োগকৃত টাকার নিরাপত্তা বিধান কালে বিনিয়োগকৃত টাকা আমরা জমিতে রেখেছি বিভিন্ন ব্যাংকে নগদে রেখেছি ও এফডিআর করে রেখেছি। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় আমরা জমিতেই বেশি বিনিয়োগ করেছি। সুতরাং টাকা কোথায় গেল এই প্রশ্ন অবান্তর, এমন রিপোর্ট পরিকল্পিত এবং এই রিপোর্ট আমাদেরকে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করার জন্য করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি।’

 

‘সংবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সম্পৃক্ততার যে অপপ্রচার চালানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট সংস্থার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক বা আর্থিক কোনো সম্পর্ক নেই। এটি সম্পূর্ণ বৈধ ব্যবসায়িক কাঠামোর আওতায় পরিচালিত সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান।’

 

‘দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শুভানুধ্যায়ী ও বিনিয়োগকারীরা বৈধ উপায়ে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কার্যক্রমে বিনিয়োগ করেছেন। কোনো প্রতিষ্ঠানের অর্থ কোথায় সংরক্ষিত বা এফডিআর করা হয়েছে, তা যাচাই-বাছাই ছাড়া ‘টাকা উধাও’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করা চরম দায়িত্বহীনতা এবং সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী। এই হলুদ সাংবাদিকতা ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের সব অর্থ নিয়মতান্ত্রিকভাবে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সংরক্ষিত ও পরিচালিত হয়। অথচ প্রতিবেদনে ইচ্ছাকৃতভাবে একপাক্ষিক তথ্য পরিবেশন করে বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা করা হয়েছে।’

 

ইস্তানবুল হোটেল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ‘মূলত ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী এবং প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডিএম ইমদাদুল হকের ব্যক্তি ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই এ ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয় ইতিমধ্যেই দেশ-বিদেশে সুনামের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে। এই অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল ধারাবাহিক অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।’

‘অস্পষ্ট ও অযাচাইকৃত সূত্রের বরাত দিয়ে এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী বলে প্রতীয়মান হয়। তাই এই হলুদ সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে এই প্রতিবাদলিপি হুবহু প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি এবং এই বিভ্রান্তিকর রিপোর্ট প্রকাশের জন্য দুঃখ প্রকাশের আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এশিয়া পোস্ট-এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।’

প্রতিবেদকের বক্তব্য

প্রতিবাদলিপিতে ইস্তানবুল হোটেল কর্তৃপক্ষ সংবাদটি মনগড়া, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করেছে। কিন্তু বাস্তবে সংবাদে মনগড়া একটি শব্দও লেখা হয়নি। বরং এই প্রকল্পের লেনদেনের সুনির্দিষ্ট তথ্য টাকার পরিমাণসহ উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবাদলিপিতে ১০ হাজার শেয়ার ও ৩০০ কোটি টাকার তথ্যের বিষয়টি এশিয়া পোস্টের কোনো বক্তব্য বা মন্তব্যও নয়। সংবাদ ১০ হাজার শেয়ারের কথাও বলা হয়নি, ১০ হাজার প্যাকেজের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় প্রতিনিধিদের স্বীকারোক্তির মোতাবেক বিক্রি হওয়া ১০ হাজার প্যাকেজের সর্বনিম্ন শেয়ারের পরিমাণ ও সর্বনিম্ন মূল্য ৩০০ কোটি টাকা দাঁড়ায় সেটিই উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ৩০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে এমন দাবি এশিয়া পোস্ট করেনি।

 

এশিয়া পোস্টের সংবাদে ৭টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ১৯০ কোটি টাকা লেনদেনের সুনির্দিষ্ট তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯০ কোটি টাকা থেকে ১৭৫ কোটি টাকা উত্তোলনের হিসাবও সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ইস্তানবুল হোটেল কর্তৃপক্ষ সংবাদটি মিথ্যা দাবি করলেও তাদের দাবি অনুযায়ী লেনদেনকৃত অর্থের সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা উল্লেখ করেনি। এশিয়া পোস্টের সংবাদের ১৯০ কোটি ও ১৭৫ কোটির তথ্য ভুল হলে সঠিক অর্থ কত সে সম্পর্কিত কোনো সঠিক তথ্য প্রতিবাদলিপিতে দিতে পারেনি।

 

প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে, বিনিয়োগকৃত টাকা জমিতে, ব্যাংকে ও এফডিআর করে রাখা হয়েছে। তবে এশিয়া পোস্টের হাতে আসা তথ্যে দেখা যায়, ব্যাংকে মাত্র ১৫ কোটি টাকা রয়েছে। অন্যদিকে সংবাদের জন্য বক্তব্য নিলে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দাবি করেছিলেন, বিনিয়োগের টাকা এফডিআর করা রয়েছে। আর প্রতিবাদলিপিতে নতুন করে জমিতে বিনিয়োগের দাবি করা হয়েছে। কিন্তু ব্যাংকে কত টাকা আছে, কত টাকা এফডিআর করা হয়েছে এবং কত টাকা জমিতে বিনিয়োগ করেছে তার কোনো হিসাব প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করা হয়নি।

 

প্রতিবাদলিপিতে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সংবাদে জামায়াতকে সম্পৃক্ত করা হয়নি। বরং কোম্পানির প্রচারপত্রে জামায়াতে ইসলামীর নাম উল্লেখ রয়েছে এবং মৌখিকভাবে জামায়াতের নাম ব্যবহারের প্রমাণ এশিয়া পোস্টের হাতে রয়েছে। কোম্পানির প্রচারণায় জামায়াতের নাম ব্যবহার করা হচ্ছে সেটিই সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই কোম্পানির সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পর্ক নেই সে বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসান মাহবুব জোবায়েরের বক্তব্যও সংযুক্ত করা হয়েছে।

 

এশিয়া পোস্টে প্রকাশিত সংবাদের কোনো তথ্য ভুল এবং তার বিপরীতে সঠিক তথ্য কী এমন সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রতিবাদে উল্লেখ করা হয়নি। সংবাদের সুনির্দিষ্ট ভুল এবং তার বিপরীতে দাবিকৃত সঠিক তথ্য সরবরাহ করা হলে এশিয়া পোস্ট তা যাচাই করবে। যাচাইয়ে দাবির সত্যতা পেলে প্রকাশিত সংবাদের সেই অংশ সংশোধনেরও সুযোগ রয়েছে।