দেশের অনেকেই অর্থ পাচার করে বিদেশে গড়ে তুলেছেন ব্যবসা ও আবাসস্থল। তাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ও বির্তক চলছেই। এরই মধ্যে জানা গেল অর্থ পাচার ও ঋণ জালিয়াতি মামলার আসামি ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান ওবায়দুল করিম চারটি দেশের নাগরিক। বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের অন্তত তিনটি দেশের পাসপোর্ট রয়েছে তার। সেগুলো হলো–কমনওয়েলথ অব ডোমিনিকা, রিপাবলিক অব আলবেনিয়া ও রিপাবলিক অব লাইবেরিয়া।
এর মধ্যে ডোমিনিকা ও আলবেনিয়ায় সরাসরি নাগরিক হিসেবে এবং ইনভেস্টমেন্ট কনসালট্যান্ট হিসেবে লাইবেরিয়ার পাসপোর্ট বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি। গত মঙ্গলবার এক আদেশে তার সবগুলো পাসপোর্ট নিম্ন আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
জানা গেছে, অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা ও জালিয়াতিসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ ও ২০০৮ সালে অন্তত ৪৮ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ওবায়দুল করিম বিভিন্ন সময়ে বিশ্বের কয়েকটি দেশের নাগরিকত্ব পেতে চেষ্টা করেন। এ পর্যন্ত তিনি কমনওয়েলথ অব ডোমিনিকা, আলবেনিয়া ও লাইবেরিয়ার পাসপোর্ট বাগিয়ে নিতে সফল হয়েছেন। এর মধ্যে ডোমিনিকার পাসপোর্ট নম্বর হলো–RA054664, আলবেনিয়ার পাসপোর্ট নম্বর–BC6388756 এবং লাইবেরিয়ার পাসপোর্ট নম্বর–003057।
ডোমিনিকার পাসপোর্টে যে কেউ ভিসা ছাড়া, অন অ্যারাইভাল ভিসা নিয়ে ১৪০টির বেশি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন।
এর মধ্যে ৯০টি দেশে ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করা যায়। এর মধ্যে ইউরোপের অন্যতম দেশ হলো–ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন, পর্তুগাল, গ্রিস, পোল্যান্ড ও অস্ট্রিয়া। আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান–ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া, পেরু, উরুগুয়ে, বাহামাস, বার্বাডোজ, ত্রিনিদাদ, টোবাগো ও সেন্ট লুসিয়া। আফ্রিকা ও ওশেনিয়ার–বতসোয়ানা, মরিশাস, সেশেলস, ফিজি, ভানুয়াতু ও মাইক্রোনেশিয়া। এশিয়ার চীন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ইসরায়েল, ফিলিপিন্স ও হংকং।
২০২৬ সালের তথ্যানুযায়ী আলবেনিয়ার পাসপোর্টধারীরা বহু দেশে বিনা ভিসায় বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধায় বিশ্বের ৭৫-৯৫টি দেশে সম্পূর্ণ ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার পান।
এর মধ্যে ইউরোপের জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, গ্রিস, সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, অস্ট্রিয়া, সুইডেন, নরওয়ে, পোল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া, মন্টিনেগ্রো, উত্তর মেসিডোনিয়া, কসোভো, তুরস্ক ও ইউক্রেন। এশিয়ার মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং, তাইওয়ান, জর্জিয়া, আর্মেনিয়া ও কাজাখস্তান। দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল, কলম্বিয়া, চিলি, এল সালভাদর, নিকারাগুয়া, ডোমিনিকা ও বার্বাডোজ। আফ্রিকার রুয়ান্ডা, জাম্বিয়া ও গাম্বিয়া।
লাইবেরিয়ার পাসপোর্টধারীরা বর্তমানে ২৫টি দেশে সম্পূর্ণ ভিসামুক্ত ভিসায় ভ্রমণ করতে পারেন। এর মধ্যে বেনিন, বুরকিনা ফাসো, আইভরি কোস্ট, গাম্বিয়া, ঘানা, গিনি, গিনি-বিসাউ, মালি, নাইজার, নাইজেরিয়া, রুয়ান্ডা, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, টোগো, জাম্বিয়া, ফ্রান্স, ডোমিনিকা, ফিলিপিন্স, সিঙ্গাপুর, বার্বাডোজ, হাইতি, সেন্ট ভিনসেন্ট, গ্রেনাডাইনস ও ইকুয়েডর।
বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে গত ১৪ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে আবেদন করেছিলেন ওবায়দুল করিম ও তার স্ত্রী। সেদিন শুনানি শেষে আবেদনটি খারিজ করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ। এর আগে মার্চ মাসে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করেছিলেন তারা। গত ৫ মার্চ আবেদনটি নামঞ্জুর করে তাদের সব পাসপোর্ট নিম্ন আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ।
হাইকোর্টের সেই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন (ক্রিমিনাল পিটিশন নম্বর- ১০৮৯/২০২৬) করেন ওবায়দুল করিম ও তার স্ত্রী। গত মঙ্গলবার সেই আবেদনটি খারিজ করেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ। ফলে ওবায়দুল করিমকে তার সব পাসপোর্ট নিম্ন আদালতে জমা দিতে হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।