রামিসার ঘটনার খুব ছোট্ট একটা জিনিস শেয়ার করি যেটা মেয়ে সন্তানের অভিভাবকদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় আমার ।
রামিসার ঘটনাটা পড়ার সময় আমি চিন্তা করছিলাম রামিসাকে ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়েছিলো কে ?
ধর্ষক সোহেল রানা ? কিভাবে ? চকলেটের লোভ দেখিয়ে ? অথবা ভিন্ন কিছু হলে সেটা কি!
কিন্তু আজ জবানবন্দিতে প্রকাশ হলো ,
"সোহেল রানা না বরং তার স্ত্রী স্বপ্নাই রামিসাকে ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে যায় । আদর করে বাসায় ঢুকায়ে তারপর দরজা লক করে দেয় । "
বাচ্চারা সাধারণত অল্পতেই মিশুক হয় । তাদের একটা চিপস, একটা পছন্দের খেলনা , একটা চকলেট দিয়ে বশ করে নেওয়া যায় ।
তারপর এসব যদি দেয় মেয়ে কেউ, তাহলে তো বশ করার তাবিজ আরও বেশি কাজ করে ।
গতকাল যখন ঘটনার বর্ণনা দিয়েছিলাম ,
'ধর্ষকের স্ত্রী ধর্ষণ করতে সহায়তা করেছে ,
রামিসাকে হ*ত্যা করতে সহায়তা করেছে ,
এমনকি রামিসার দেহ থেকে মাথা আলাদা করতেও সে সহযোগিতা করেছে -
তখন অনেকেই আশ্চর্য হয়ে প্রশ্ন করেছে ,
একজন মেয়ে হয়ে কি আসলেই এরকম করা সম্ভব ?
আসলেই তা সম্ভব , তা-ই করা হয়েছে।
কলকাতার মেডিকেল কলেজের মৌমিতার ঘটনার কথা মনে আছে?
ধারণা করা হয়েছিলো , মৌমিতাকে যখন ধর্ষণ করা হচ্ছিলো তখন তার দুই সহকর্মী হাত চেপে ধরেছিল।
সেখানে একজন মেয়ে ছিলো । মৃত মৌমিতার পাশে এমন একটা ক্লিপ পাওয়া গিয়েছিলো যেটা মৌমিতার ছিলো না ।
মৌমিতাকে এত নিষ্ঠুরতম উপায়ে ধর্ষণ করা হয়েছিলো যে তার চোখের মণি থেকে পানির বদলে রক্ত বের হয়েছিলো ।
কার সামনে? একজন মেয়ের সামনে ।
রামিসাকেও যখন ধর্ষণ করেছিলো তার যোনী থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছিলো ।
একজন মেয়ে হয়ে ধর্ষকের স্ত্রী স্বপ্নার এই ব্যথা বোঝার কথা । বাঁধা দেওয়ার কথা । স্বপ্না তা করে নি।
উল্টো এই নিষ্ঠুর নরপিশাচকে গ্রিল কেটে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে ।
ইভেন কুমিল্লায় তনু হত্যার তদন্তের পর সিআইডি এখন সন্দেহ করছে , তনু হত্যায়ও একজন নারী জড়িত ছিলো ।
তিনজন পুরুষের সিমেন বাদেও তনুর জামায় আরেকজনের রক্ত পাওয়া গেছে সম্প্রতি ।
এসব ঘটনার পর একটা লাইন জেনারাইলাইজ করা হয় , ' মেয়েরাই মেয়েদের বড় শত্রু...
এটুকু কতটুকু সত্য অথবা কতটুকু মিথ্যা তা জেনারাইলজ করার ভার যার যার জীবন কেন্দ্রিক থাকুক ।
আমি আপাতত এটুকু বলতে চাই - শুধু মহিলা / নারী/ মেয়ে বলে আপনার সন্তানকে যার তার সাথে মিশতে দিবেন না ।
এখন আর শুধু পুরুষ নয় - নারীও এখন নিরাপত্তাহীনতার সিম্বল আপনার মেয়ের জন্য ।
আপনার বাচ্চাকে হরহামেশাই পাশের ফ্ল্যাটে চলে যেতে দিবেন না । ইভেন সমবয়সী ছেলে/ মেয়ে বাচ্চা থাকলেও ।
৬-১৪ বছর বয়সী মেয়েদের যারা যৌন নিপীড়ন হয় এদের বেশিরভাগকেই এই ব্যাড টাচ করা হয় খেলাধুলার ছলে , টিভিতে কার্টুন দেখানোর লোভ দেখায়ে অথবা চকলেট/খেলনা দিয়ে বশ করে ।
এসব করে হরহামেশাই গ্রামে ধর্ষণ হচ্ছে । যারা দুয়েক বেলা পত্রিকার পাতা উল্টান তারা জানবেন ।
আপনার সন্তানকে কেউ আদর স্নেহ করবে ?
সমস্যা নেই । সেটা আপনার সামনেই করতে দেন ।
আপনার আড়ালে গিয়ে কারো বাসায় খেলা করা, কার্টুন দেখা এগুলা এখন রিস্ক জোন যদি সে বাসায় পুরুষ থাকে ।
এখনকার বাচ্চারাও অনেক আধুনিক । গতকাল একটা পোস্ট দেখলাম ,
' সমবয়সী এক বাচ্চা ছেলে তার মেয়ে ক্লাসমেটকে ব্যাড টাচ করে । অভিভাবককে বিচার দেওয়া হইলো।
অভিভাবক বাচ্চার সামনেই মেয়ের মা'কে উল্টো কাউন্টার দিতেছে , "বাচ্চারা অত বুঝে নাকি । এ বয়সে এসব হয় । আপনি এতো সিরিয়াস কেনো হচ্ছেন?"
ভাবতে পারেন? এই হইলো পুরুষ সন্তানদের অভিভাবকদের অবস্থা।
তাই বলি , আপনার সন্তানকে সময় দেন । রিলসের দুনিয়া থেকে বের হয়ে তা'র সাথে খেলেন ।
সন্তানকে সতর্ক করেন - আপনি না থাকলে কারো কাছেই যাওয়ার দরকার নেই ।
না দোকানী মামার কাছে , না আসক্রিম মামার কাছে , না পাশের বাচ্চা ছেলে বন্ধুর কাছে ।
আপনার মনে হইতে পারে , এসব আচরণ অস্বাভাবিক ঠেকবে পরিচিত মানুষদের কাছে ।
আমি বলি ভদ্রতা তুলে রাখুন ফ্রিজে, তাজা থাকুক ।
জাস্ট এটুকু মাথায় রাখুন , আজকাল যা ঘটছে তাও কি আদৌ স্বাভাবিক কিছু ?
নাহয় এ কোন কলিযুগে আমরা বসবাস করি যেখানে মেয়েদের সহযোগিতায় মেয়ে ধর্ষণ করা হচ্ছে , হত্যা করা হচ্ছে!
শেষে এটুকুই বলি , Create your own safe-zone circle and live a safe life with your family.
লেখাঃ ' আলোকশূন্য নক্ষত্র'