Image description

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবল সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। অনুমোদিত পদের বিপরীতে কাগজে-কলমে চিকিৎসক ও কর্মচারী থাকলেও বাস্তবে তাদের অনেকেই প্রেষণে ঢাকা ও জেলা সদরের বিভিন্ন হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন দুর্গম চরাঞ্চল থেকে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুরে পদায়ন হওয়া একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বর্তমানে অন্যত্র সংযুক্ত আছেন। জুনিয়র কনসালট্যান্ট (ইউরোলজি) ডা. মুহা. ইফতেখারুল ইসলাম কর্মরত আছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। শিশু বিভাগের ডা. ফারহা আতহার দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে। সার্জারি বিভাগের ডা. মো. ইমাদ হোসেন আছেন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে। এ ছাড়া অ্যানেসথেসিয়া, চক্ষু এবং চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের চিকিৎসকেরা বর্তমানে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংযুক্ত রয়েছেন। কয়েকজন মেডিকেল অফিসারও ঢাকায় দায়িত্ব পালন করছেন।

হাসপাতালের ২০৩টি অনুমোদিত পদের মধ্যে বর্তমানে ৪০টি পদ শূন্য। সবচেয়ে বেশি সংকট মিডওয়াইফ ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মধ্যে। মিডওয়াইফের সাতটি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। আর চতুর্থ শ্রেণির ২২টি পদের মধ্যে ১০টি খালি রয়েছে।

 

ডিজিটাল যুগেও হাসপাতালটিতে এখনো ব্যবহার করা হচ্ছে পুরোনো অ্যানালগ এক্স-রে মেশিন। প্রয়োজনীয় কিছু যন্ত্রপাতি থাকলেও দক্ষ টেকনিশিয়ানের অভাবে সেগুলোর পূর্ণ ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে না। পুরো উপজেলার রোগী পরিবহনের জন্য রয়েছে মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স।

উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার আওতায় পাঁচটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও তিনটি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলেও জনসংখ্যার তুলনায় তা অপর্যাপ্ত। প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৬০ থেকে ৭০ জন এবং জরুরি বিভাগে প্রায় ৩০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। হাসপাতালে গড়ে ভর্তি থাকেন ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী, যাদের অধিকাংশ শ্বাসকষ্ট ও সিওপিডিসহ জটিল রোগে আক্রান্ত।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চিকিৎসক পদ পূরণ থাকলেও হাসপাতালে তাদের পাওয়া যায় না। ফলে দরিদ্র রোগীদের বাধ্য হয়ে জেলা সদর কিংবা ঢাকায় ছুটতে হচ্ছে।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মেহেরুবা পান্না বলেন, সংযুক্তির কারণে কিছু চিকিৎসক নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে না। শূন্য পদ পূরণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম মোফাখখারুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, দৌলতপুর দুর্গম এলাকা হওয়ায় সেখানে চিকিৎসক ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। পর্যায়ক্রমে জনবল সংকট কমানোর চেষ্টা চলছে।