Image description

ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র ১০ দিন। এরই মধ্যে জমজমাট হয়ে উঠেছে নোয়াখালীর পশুর হাটগুলো। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, গরুর হাটের ব্যস্ততা ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের কোলাহল ততই বাড়ছে।

নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ১৯৮টি পশুর হাট বসছে। এগুলোর মধ্যে ১৪১টি অস্থায়ী পশুরহাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। বেশির ভাগ হাটের ইজারা পেয়েছেন বিএনপি নেতারা।

ঈদকে সামনে রেখে ইজারা দেওয়া ১৪১টি হাটের মধ্যে সবচেয়ে বড় পশুরহাট বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশ বাজার অস্থায়ী পশুরহাট। হাটটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছেন বিএনপি নেতা ইসমাইল মোস্তফা। হাট পরিচালনায় মূল দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা বিএনপির নেতারা।

অন্যদিকে, মাইজদী হাউজিং বালুর মাঠ পশুরহাট বিএনপি নেতা আপেল ও মোস্তাফিজুর রহমান ৪৯ লাখ ৬০ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছেন। এ ছাড়া, সোনাপুর পৌর বাস আধুনিক টার্মিনাল ৩৮ লাখ ৪০ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতারাই হাটটির ইজারা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। বাকি হাটগুলো উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ২, ৩, ৫ ও ১০ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, অধিকাংশ হাটের ইজারাই বিএনপি নেতাদের দখলে গেছে। বাকি দলের লোকেরা ইজারায় অংশ নিলেও, তারা হাটের ইজারা পাননি।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, অনুমতি পাওয়া হাটগুলোর মধ্যে নোয়াখালী সদর উপজেলায় ১৭টি, বেগমগঞ্জ উপজেলায় ৫টি, সুবর্ণচর উপজেলায় ১টি, কবিরহাট উপজেলায় ২৪টি, সেনবাগ উপজেলায় ২০টি, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ২৭টি, সোনাইমুড়ী উপজেলায় ২২টি, চাটখিল উপজেলায় ১৮টি, নোয়াখালী পৌরসভায় ২টি, চৌমুহনী পৌরসভায় ২টি, কবিরহাট পৌরসভায় ১, সোনাইমুড়ী পৌরসভায় ১, চাটখিল পৌরসভায় ১টি রয়েছে। এর সবগুলো টেন্ডার প্রক্রিয়ার মধ্যে সম্পূর্ণ হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মকর্তা ফারুক আল সালমান বলেন, এবারে জেলায় সর্বোচ্চ হাট বসবে। এগুলো সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের মাধ্যমে ট্রেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। ঈদের পরে টাকাসহ তালিকা স্ব স্ব কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে আসবে।

নোয়াখালী জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি বছর নোয়াখালীর কোরবানির পশুর মোট চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার। স্থানীয় খামারি ও গৃহস্থদের কাছে প্রস্তুত রয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার পশু। চাহিদার তুলনায় প্রায় ৬ হাজার পশু বেশি রয়েছে। ফলে জেলার নিজস্ব চাহিদা মিটিয়েও অবশিষ্ট গরু ঢাকা ও চট্টগ্রামে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

 
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে জমে উঠেছে নোয়াখালীর কোরবানির পশুর হাট। ছবি: এশিয়া পোস্ট

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, জেলায় ৩৪ হাজার ষাঁড়, ৬৫ হাজার ৮০০ বলদ, ৯ হাজার মহিষ, ৩১ হাজার ছাগল, ১০ হাজার ৩০০ ভেড়া এবং ৬ হাজার গাভি রয়েছে।

বেগমগঞ্জের বাসিন্দা মো. হাবিবুর রহমান সুমন বলেন, এই ঈদে নোয়াখালীর কোরবানির পশুর বাজারে বড় গরুর ঘাটতি ও দাম চওড়া। গো খাদ্যের লাগামহীন দাম ও অনেক খামারে গরু উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়ছে।

নূরানী এগ্রো খামারের ম্যানেজার জুয়েল জানান, গত বছর তাদের খামারে ৫৩৭টি গরু ছিল। এগুলো প্রতি কেজি ৫২৫ টাকা ধরে বিক্রি করা হয়েছিল। সব মিরিয়ে ৬০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। এ বছর নিজেদের ৫৭টি গরু বিক্রি করছেন। ঘাস ও অন্যান্য খাদ্যের অপ্রতুলতার কারণে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন তারা।

হাতিয়া বাজারের ক্রেতা নিজাম উদ্দিন জানান, গত বছরের চেয়ে এবার দাম একটু বেশি। এখানে দেশি গরু পাওয়া যায়, এ কারণেই এই বাজারে এসেছি। কিন্তু বেপারীরা দাম ছাড়ছেন না।

হাতিয়া বাজারের ইজারাদার আবদুল মতিন বলেন, গত বছরের চেয়ে এ বছর ১৩ লাখ টাকা বেশি দিয়ে ৩৯ লাখ টাকায় হাট ইজারা নিয়েছি। আমাদের এই বাজারে দেশি গরু পাওয়া যায়। সারা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বেপারীরা এই বাজারে গরু কিনতে আসেন। আমরা সরকারি নিয়ম মেনে খাজনা নিয়ে থাকি।

নোয়াখালী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, জেলায় চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে। খামারিরা যাতে সুস্থ-সবল পশু হাটে তুলতে পারেন, সে বিষয়ে আমরা নিয়মিত তদারকি ও পরামর্শ দিয়ে আসছি। আমাদের একজন পশু চিকিৎসক নিয়মিত তদারকি করছেন।