Image description
নতুন কমিশন গঠন হলেই চার্জশিট দাখিলের প্রক্রিয়া ১৫ বছরে ব্যাংক থেকে লক্ষাধিক কোটি টাকা আত্মসাৎ  ২ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলজুড়ে নানা কারণে আলোচিত-সমালোচিত এস আলম গ্রুপের মালিক সাইফুল আলম মাসুদ ওরফে এস আলম। তার এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি এবং মানিলন্ডারিংয়ের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ব্যাংক লুটের অন্যতম হোতা হিসেবে চিহ্নিত তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গত ১৫ বছরে ব্যাংক খাত থেকে লক্ষাধিক কোটি টাকা ঋণ নেয়ার নামে আত্মসাৎ করা, ভুয়া কোম্পানি তৈরি করে টাকা পাচার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

এস আলমের বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে ২৭টি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব মামলার সবগুলোই এখন তদন্তাধীন। এছাড়া দুদক এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে আরো অনেকগুলো অর্থ পাচার ও জালিয়াতির মামলার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে বলে দুদক সূত্র জানায়

তদন্ত সংশ্লিষ্ট দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, দুদকের বর্তমানে তদন্তাধীন ২৭ মামলায়ই ফেঁসে যাচ্ছেন এস আলম ও তার পরিবার। দুদকের নতুন কমিশন গঠন হলেই এস আলমের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার চার্জশিট দাখিলের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তদন্ত কর্মকর্তারা বলেন, সবগুলো মামলাতেই তার বিরুদ্ধে অর্থপাচার, ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎসহ নানা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে উঠে এসেছে। ব্যাংক থেকে ঋণ তোলার নামে করেছেন মহা জালিয়াতি। একাধিক ভুয়া কোম্পানির নামব্যবহার করে ঋণের নামে ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া অবৈধভাবে বিদেশে গড়ে তুলেছেন বাড়ি, ফ্ল্যাটসহ নানা সম্পদ।

অর্থ লুটের যত অভিযোগ

এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রায় দুই লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা পাচার করার অভিযোগ রয়েছে। এই পাচারকৃত অর্থ দিয়ে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও সাইপ্রাসে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে।

ব্যাংকে ঋণ জালিয়াতি : কোনো ধরনের জামানত ছাড়াই ‘বাই মুরাবাহা প্লেজ’ ঋণের নামে ইসলামী ব্যাংক থেকে ১৯ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে।

এছাড়া এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জনতা ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংক থেকে ৯ হাজার ৪২৯ কোটি থেকে শুরু করে ১১ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাৎ এবং অর্থপাচারের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে প্রধানত জনতা ব্যাংকের চট্টগ্রামের বিভিন্ন শাখা থেকে ঋণের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। যার মধ্যে শুধু এস আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেডের নামেই দুই হাজার তিন কোটি টাকার বেশি আত্মসাৎ করা হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও আদালতের আদেশে এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম (এস আলম), তার পরিবার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় এক হাজার ৯৩৬ একর জমি, দুই হাজার ৬৮০টির বেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ১৭১টি কোম্পানির শত শত কোটি টাকার শেয়ার অন্যতম। এছাড়া বিদেশেও তাদের সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

জব্দকৃত সম্পদ : ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, আদালত এস আলমের প্রায় এক হাজার ৯৩৬ একর জমি জব্দের আদেশ দিয়েছেন। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৬ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। দুই হাজার ৬৮০টির বেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে, যাতে প্রায় ছয় হাজার ৬৯২ কোটি টাকা জমা আছে। এছাড়া ১৭১টি কোম্পানির নামে থাকা প্রায় ২৪ হাজার ৮১০ কোটি টাকার শেয়ার ফ্রিজ করা হয়েছে।

বিদেশে সম্পদ : এস আলমের সিঙ্গাপুর, সাইপ্রাস, জার্সি ও ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে পাচারকৃত অর্থ ও সম্পদ জব্দের জন্য মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরে ভিলা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং কোম্পানি রয়েছে।

বিদেশের সম্পদ অবরুদ্ধের আদেশ : এদিকে এস আলম, তার স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের নামে সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থাকা বিপুল পরিমাণ ব্যাংক হিসাব, বীমা পলিসি ও বিনিয়োগ অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। আবেদনে প্রতিনিধিত্ব করেন দুদকের উপপরিচালক তাহাসিন মোনাবিল হক।

আদেশ অনুযায়ী, সাইফুল আলমের নামে সিঙ্গাপুরে ৪০টি ব্যাংক হিসাব ও একাধিক বীমা পলিসি, তার স্ত্রীর নামে চারটি ব্যাংক হিসাব এবং দু’জনের যৌথ নামে দু’টি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ছয় কোটি ৮০ লাখ সিঙ্গাপুর ডলার বিনিয়োগ অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া তিনি নিজে চারটি এবং তার স্ত্রী আরো চারটি কোম্পানির পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডার।

তাদের ছেলে আশরাফুল আলমের নামে দু’টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ ও হিসাব রয়েছে, পাশাপাশি তিনি একটি কোম্পানির পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডার। অপর সন্তান আহসানুল আলমের নামে একটি কোম্পানির পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডার হিসেবে সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রয়েছে আটটি ব্যাংক হিসাব ও বীমা পলিসি।

পরিবারের আরো এক সদস্য আহমেদ বেলালের নামে দু’টি ব্যাংক হিসাব এবং কন্যা মাইমুনা আলমের নামে একটি বীমা পলিসি ও সিঙ্গাপুরে ৫৪ হাজার ৪০০ সিঙ্গাপুরি ডলার মূল্যের সম্পদ রয়েছে। এছাড়া ছোট ছেলে আসাদুল আলম মাহিরের নামে রয়েছে আরো একটি ব্যাংক হিসাব।

দুদকের তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্পদ অবরুদ্ধের আদেশটি সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে সংশ্লিষ্ট দেশকে পাঠানো হয়। এরপর বাংলাদেশের আইন অনুসারে সংশ্লিষ্ট দেশের লিগ্যাল অথরিটি সেই আদেশ বাস্তবায়ন করেন। এভাবে দেশের বাইরে অবস্থিত সম্পদ (ক্রোক) অবরুদ্ধের আদেশ কার্যকর করা হয়।

এর আগে, গত ৯ জুলাই এস আলম ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা আরো ৫৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করেন আদালত, যেখানে ১১৩ কোটি ৯ লাখ ৮২ হাজার ৮৬৮ টাকা রয়েছে।

এর আগে সাইপ্রাসের লিমাসলে অবস্থিত সাইফুল আলমের একটি দুই তলা বাড়ি, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসে হ্যাজেক ইন্টারন্যাশনাল পিটিই লিমিটেডে তাদের বিনিয়োগকৃত তিন লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার, পিকক প্রপার্টি হোল্ডিংসসহ আরো ১৮টি কোম্পানিতে বিনিয়োগ এবং জার্সি ট্রাস্ট কোম্পানির অধীনে ছয়টি ট্রাস্টে থাকা অর্থও জব্দের নির্দেশ দেন আদালত।

প্রধান প্রধান মামলা : অবৈধভাবে প্রভাব খাটিয়ে ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি, আত্মসাৎ ও পাচারের ঘটনায় গত বছর (২০২৫) ৯ নভেম্বর এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলমসহ (এস আলম) ৬৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে (ঢাকা-১) মামলাটি দায়ের করা হয়।

মামলায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ ও তা সিঙ্গাপুরে পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলাটি দুদকের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ মামলা বলে জানিয়েছে দুদক।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামি এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন এস আলম রিফাইন্ড সুগার, এস আলম স্টিলস লিমিটেড ও এস আলম ট্রেডিং কম্পানি লি.-এর ঋণের নামে নেয়া মোট ৯ হাজার ২৮৩ দশমিক ৯৩ কোটি টাকা (যা বর্তমানে লভ্যাংশসহ/সুদ-আসলে ১০ হাজার ৪৭৯ দশমিক ৬২ কোটি টাকা) আত্মসাৎ ও সিঙ্গাপুরে পাচার করেছেন।

এস আলমসহ ৬৭ জন আসামি পরস্পর যোগসাজশে ইসলামী ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ইস্যু করা বিধি, পলিসি ও সার্কুলারের তোয়াক্কা না করে ওই তিনটি কোম্পানির অনুকূলে অপ্রতুল জামানত রেখে, সিআইবি রিপোর্টে বিদ্যমান উচ্চ ঋণের পরিমাণ বিবেচনা না করে ও গ্রাহকের ব্যবসায়িক টার্নওভার ঋণসীমার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকের ঝুঁকির কথা বিবেচনা না করে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয়ে ঋণের নামে ওই পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেন। পরবর্তী সময়ে এস আলম ও এর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তর করেন।

দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন সূত্রে আরো জানা যায়, আসামিরা ইচ্ছাকৃতভাবে আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক ঋণের বড় অঙ্ক আত্মসাৎ করেছেন। এর ফলে ইসলামী ব্যাংক, সাধারণ আমানতকারী ও সরকারের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় ব্যাংকের তৎকালীন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিয়মবহির্ভূতভাবে বিনিয়োগ অনুমোদন দেন। ২০২২ সালের শেষের দিকে ইসলামী ব্যাংকে অস্বাভাবিক ঋণ বিতরণের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।

অপরদিকে জনতা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সোয়া ছয় হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এস আলম, তার স্ত্রী ফারজানা পারভীনসহ ৯৫ জনের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম কার্যালয়ে মামলাগুলো হয়। তিন মামলায় এস আলম গ্রুপের তিনটি প্রতিষ্ঠান এস আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিল মিল ও এস আলম ট্রেডিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের নামে ঋণ নিয়ে ছয় হাজার ২৪৩ কোটি ৭৮ লাখ তিন হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।

দুদক জানায়, প্রথম মামলায় এস আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেডের নামে জনতা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সুদে-আসলে দুই হাজার তিন কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৩০৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। মামলায় বলা হয়েছে, ২০০৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ৬ মার্চ পর্যন্ত সময়ে এ ঘটনা ঘটেছে। মামলায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল আলম মাসুদ, পরিচালক হিসেবে তার স্ত্রী ফারজানা পারভীন, জনতা ব্যাংকের ২৮ জন কর্মকর্তাসহ ৩২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

দ্বিতীয় মামলায় এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেডের বিরুদ্ধে ঋণ নিয়ে সুদে-আসলে দুই হাজার ২৯৭ কোটি ৭৪ লাখ ৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে বলা হয়, ২০১০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে এ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। মামলায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক সাইফুল আলম মাসুদ, জনতা ব্যাংকের ২৫ কর্মকর্তাসহ মোট ৩২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তৃতীয় মামলাটি করা হয়েছে এস আলম ট্রেডিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের নামে ঋণ নিয়ে সুদে আসলে এক হাজার ৯৪২ কোটি ৫৫ লাখ ৮৯ হাজার ৫৯৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে। ২০০৫ সালের ১০ মে থেকে চলতি বছরের ৬ এপ্রিলের মধ্যে এ ঘটনার কথা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ মামলায় এস আলম, পরিচালক তার স্ত্রী ফারজানা পারভীনসহ পরিবারের পাঁচ সদস্য, জনতা ব্যাংকের ২৬ কর্মকর্তাসহ মোট ৩১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এর আগে এস আলম গ্রুপের দু’টি প্রতিষ্ঠানের নামে তিন হাজার ৮৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে দুটি মামলা করেছিল দুদক।