Image description

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের মা লোপা কায়সার বলেছেন, তারা কোনোদিন গণভবনে যাননি এবং সেখান থেকে কিছু নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, ঘটনাটি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

রোববার রাত ১০টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কারিনা কায়সারের তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তার মা লোপা কায়সার ও বাবা হামিদ কায়সার।

এ সময় লোপা কায়সার বলেন, ‘আমরা কোনোদিন গণভবনে যাইনি। আমি বা ওর বাবা কেউ গণভবনে যাইনি। আমরা চুরি করিনি। আমরা জুলাই যোদ্ধা না, আমরা মানব যোদ্ধা।’

৫ আগস্টের একটি ভিডিও ঘিরে তাদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে আলোচনা হচ্ছে, সেটির ব্যাখ্যাও দেন লোপা কায়সার। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার পতনের পর অনেক মানুষ রাস্তায় নেমে আনন্দ প্রকাশ করছিলেন। সে সময় তারা নিজেদের বাসার মোড়েই ছিলেন।

লোপা কায়সারের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘আমরা আমাদের বাসার মোড়ে ছিলাম। তখন সবাই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। কারও হাতে হাঁস, কারও হাতে গাছ, কারও হাতে মাছ। তখন আমার স্বামী মজা করে বলল, তুমি যদি কিছু নিয়ে আসতে, তাহলে আমরাও দেখাতে পারতাম। আমার হাতে তখন শ্রী লেদার্সের একটি ব্যাগ ছিল। আমি সেটি দেখিয়ে বলি, এই যে আমার একটা ব্যাগ। আরেকটা চিরুনি নিয়ে বলি, এই যে চিরুনি।’

তিনি দাবি করেন, ওই ভিডিওর একটি অংশ পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তার অভিযোগ, ভিডিও দেখে অনেকেই লিখছেন তাঁরা গণভবনে গিয়ে চুরি করেছেন, যা সত্য নয়।

লোপা কায়সার বলেন, ‘এটা কে আপলোড করেছে জানি না। এখন সবাই লেখে, আমরা গণভবনে চুরি করেছি। আমাদের চুরি করার কী দরকার?’

কারিনার বাবা হামিদ কায়সার এ সময় দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, চিকিৎসা খাতে সরকারের আরও গুরুত্ব দেওয়া দরকার। বাংলাদেশে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই উল্লেখ করে তিনি বেসরকারি হাসপাতালের ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

হামিদ কায়সার বলেন, ‘চিকিৎসা খাতে সরকারকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের চিকিৎসা নেই। অথচ আইসিইউতে নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলো লাখ লাখ টাকা রেখে দেয়।’

উল্লেখ্য কারিনা কায়সারের জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির নেতারা।হয়।