সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। এ জন্য আগামী বাজেটেই নতুন পে-স্কেলের জন্য বরাদ্দ রাখা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
যদিও একবারে তারা এ সুবিধা পাচ্ছেন না। বিপুল অর্থ সংস্থানের চ্যালেঞ্জ সামলাতে তিন ধাপে এটি বাস্তবায়ন হতে পারে। নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বা পে-স্কেলের প্রস্তাব জুনে জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আগামী অর্থবছর থেকেই পে স্কেল বাস্তবায়ন শুরুর নির্দেশনা দিয়েছেন বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। ফলে এ মাস থেকেই নতুন কাঠামোতে বেতন পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা। এ নিয়ে এখন আর কোনো সংশয় নেই বলেও জানান তিনি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ১০ সদস্যের বিশেষ কমিটি বিভিন্ন সুপারিশ বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত মতামত দেবে। তবে বিপুল অর্থের জোগান বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য ভিন্ন পন্থা নিচ্ছে সরকার।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। আর পেনশন দিতে অতিরিক্ত লাগবে অন্তত ২৫ হাজার কোটি টাকা। সবমিলিয়ে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। সে কারণে ধাপে ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়নের পথে যাচ্ছে সরকার।
চলতি অর্থবছরে বেতন-ভাতায় প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৭ জুন বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। এ অধিবেশনেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি পে-স্কেলের ঘোষণা এবং এর কাঠামো তুলে ধরতে পারেন।
একবারে পুরো সুবিধা কার্যকর না করে তিন ধাপে এটি বাস্তবায়নের কৌশল নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে আগামী বাজেটে ৩৫ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য বরাদ্দ থাকতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বরাদ্দ হলে প্রথম ধাপে মূল বেতনের একাংশ বাড়ানো হবে। এরপরের অর্থবছরে বাকি অংশ এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে অন্যান্য সুবিধা শতভাগ বাড়বে।
এই নতুন পে-কমিশনের সুপারিশের আওতায় প্রায় ১৪ লাখ কর্মরত সরকারি চাকরিজীবী এবং প্রায় ৯ লাখ অবসরভোগী বা পেনশনার আর্থিক সুরক্ষা পাবেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইতিমধ্যে নতুন প্রস্তাবিত কাঠামো নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে চূড়ান্ত পর্যালোচনা চলছে বলেও জানা গেছে।
বেতন কাঠামোতে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা করা হতে পারে। সর্বোচ্চ ধাপে ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হতে পারে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এগুলো এখনো প্রস্তাব পর্যায়ে রয়েছে। গেজেট বা প্রজ্ঞাপন হলে এটি বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে আগামী জুলাই মাস থেকে।