কক্সবাজার শহরের একটি রেস্টুরেন্টে বারবিকিউ খেয়ে অন্তত ২২ জন পর্যটক ফুড পয়জনিংয়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আল গনি রেস্টুরেন্টকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
শনিবার (১৬ মে) বিকেলে রেস্টুরেন্টটিতে অভিযান চালায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার পর থেকে একে একে পর্যটকরা হাসপাতালে আসতে শুরু করেন। তাদের মধ্যে বমি, ডায়রিয়া ও তীব্র পেটব্যথার উপসর্গ দেখা যায়। গুরুতর অবস্থায় ১১ জনকে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। পরে শনিবার দুপুরের দিকে অবস্থার উন্নতি হলে তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অসুস্থরা সবাই রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে শিক্ষা সফরে আসা শিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থী।
চিকিৎসা নেওয়া পর্যটকরা হলেন গোলাম মোর্শেদ, মাহবুব আলম, আব্দুল মোমিন, মৌ, রুমা, আসমানী, মরিয়ম, মশিউর, মাসুম বিল্লাহ, আনোয়ার, সাবাব উল্লাহ, জাহির, আমিনুল ইসলাম, মাসুম উল্লাহ, আজহারুল আলী, কামরুজ্জামান, আবু বকর, আব্দুল মঈন, গীতা বালা ধর ও আয়ানসহ আরও কয়েকজন।
অসুস্থ পর্যটক আব্দুল মোমিন জানান, রাজশাহী থেকে ১৩০ সদস্যের একটি দল নিয়ে তারা কক্সবাজারে ভ্রমণে এসেছিলেন। শুক্রবার রাতে হোটেল-মোটেল জোনের সুগন্ধা মোড়ে অবস্থিত আল গনি রেস্টুরেন্টে প্রায় ৩০ জন বারবিকিউ খান। পরে যারা খাবার খেয়েছিলেন, তারা প্রায় সবাই কমবেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। রেস্টুরেন্টটির খাবার খেয়েই আমরা অসুস্থ হয়েছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত খাবারের মান যাচাই করা।
একই অভিযোগ করেন মশিউর নামের আরেক পর্যটক। তিনি বলেন, বারবিকিউ খাওয়ার পর থেকেই বমি, পেটব্যথা ও ডায়রিয়া শুরু হয়। খাবারের মান ঠিক ছিল না বলেই আমরা মনে করছি।
রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজের প্রফেসর সাঈদ আবু বক্কর জানান, শিক্ষা সফরের অংশ হিসেবে ১৪ মে তারা কক্সবাজারে আসেন। ভ্রমণের আগেই আল গনি রেস্টুরেন্টে খাবারের বুকিং দেওয়া হয়েছিল এবং অগ্রিম টাকাও পরিশোধ করা হয়।
তিনি বলেন, আমরা বারবার অনুরোধ করেছিলাম যেন মানসম্মত খাবার পরিবেশন করা হয়। কিন্তু রাত ৯টার দিকে খাবার খাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একে একে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
কলেজটির সহযোগী অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত বলেন, আল গনি রেস্টুরেন্টের সঙ্গে আগেও একাধিকবার কাজ হয়েছে। আগে কখনও এমন ঘটনা ঘটেনি। এবার একই সময়ে ২৫ থেকে ৩০ জন অসুস্থ হওয়ায় আমরা ধারণা করছি খাবারের কারণেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে আল গনি রেস্টুরেন্টের মালিক রুবেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রেস্টুরেন্টটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, তাদের রেস্টুরেন্টের খাবার নয়, সৈকত এলাকায় খাওয়া কাঁকড়ার কারণে পর্যটকরা অসুস্থ হয়েছেন।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হাসান আল মারুফ এশিয়া পোস্টকে বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।