জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট কাটাতে বাংলাদেশ সরকার জরুরি ভিত্তিতে টেন্ডার ছাড়াই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (ডিপিএম) ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই, নেদারল্যান্ডস, হংকং, মালয়েশিয়া, জাপান ও কাজাখস্তানসহ বিভিন্ন দেশের ১২টি কোম্পানিকে তেল সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত অনেক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরবরাহ দিতে পারেনি।
কার্যাদেশ পাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে মাত্র কয়েকটি পারফরম্যান্স গ্যারান্টি (পিজি) জমা দিয়েছে বা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বাকি অনেক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কারণে চুক্তি বাস্তবায়ন থেকে সরে এসেছে বা সময় পার করেছে।
সরকারের এই উদ্যোগ নেওয়া হয় মূলত মার্চ মাসে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ চেইন ব্যাহত হওয়ায়। সেই সময় দ্রুত মজুত বাড়াতে স্বাভাবিক দরপত্র প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে ডিপিএম পদ্ধতিতে সরাসরি ক্রয় শুরু করা হয়।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জানান, সংকটকালীন পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প উৎস থেকে দ্রুত তেল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বাজারে আতঙ্ক কমাতে এবং জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিপিসির চেয়ারম্যান জানান, ডিপিএম পদ্ধতিতে মূল্য নির্ধারণ চূড়ান্ত হয় সরবরাহের সময়কার আন্তর্জাতিক বাজার দর অনুযায়ী। তাই প্রাথমিক প্রস্তাবিত দাম চূড়ান্ত নয়।
তিনি আরও জানান, জরুরি পরিস্থিতিতে কিছু কোম্পানি পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ হলেও নতুন করে ওপেন টেন্ডার প্রক্রিয়ায় তিন মাসের জন্য তেল আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও ট্রান্সপারেন্সি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংকটকালীন সময়ে ডিপিএম গ্রহণযোগ্য হলেও কোম্পানি বাছাই, সক্ষমতা যাচাই ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে জবাবদিহিতার প্রশ্ন উঠতে পারে।
বর্তমানে সরকার ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করতে নতুন করে নিয়মিত দরপত্র প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
শীর্ষনিউজ