এখন টেলিভিশনের চার সাংবাদিককে চাকরিতে ফেরাতে আশ্বাস দিয়েছেন মালিকপক্ষ সিটি গ্রুপ। সেই সঙ্গে রাতে সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে মালিকপক্ষ।
শনিবার (১৬ মে) দুপুরের দিকে মানবন্ধনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম।
তিনি বলেন, আমাদের কাছে মালিকপক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আজকে রাতে তারা আমাদের সঙ্গে চার সাংবাদিকের বিষয়ে আলোচনায় বসতে চান। এ সময় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে আবারও রাজপথে দেখা হবে।
এর আগে গত সোমবার (১১ মে) চার সাংবাদিককে বাধ্যতামূলক ছুটি এবং পরবর্তীতে চাকরিচ্যুত করার ঘটনায় টেলিভিশনটির সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাংবাদিক ও বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা।
ডিইউজের পাশাপাশি বিএফইউজে, ডিআরইউ, জুলাই রেভ্যুলেশনারি অ্যালায়েন্স, মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, তিতুমীর কলেজ সাংবাদিক সমিতি, ঢাকা কলেজ সাংবাদিক সমিতি এবং নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংহতি জানাতে অংশ নেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব এসএমএস সাইফ মোস্তাফিজ, গাজী সালাহউদ্দিন তানভীর এবং মিডিয়া সেল সদস্য ইয়াসির আরাফাত। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এই অবস্থান কর্মসূচি পরিচালনা করেন সাংবাদিক নেতা খন্দকার আলমগীর হোসেন ও গাজী আনোয়ার।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, যে পরিবর্তনের জন্য রাজপথে রক্ত ঝরেছে, সেখানে মুক্ত গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের অধিকার কেড়ে নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। অভ্যুত্থানের পক্ষের কলম সৈনিকদের এভাবে শাস্তি দেওয়া হলে তা নতুন বাংলাদেশের লক্ষ্যকে ব্যাহত করবে।
এ সময় চার সাংবাদিককে পুনর্বহালের জোর দাবি জানান সাংবাদিক নেতারা। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করেন তারা।
কর্মসূচিতে ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম জানান, এখন টিভি কর্তৃপক্ষ ও সিটি গ্রুপের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক এবং স্মারকলিপি দেওয়ার পরও কোনো ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় তারা এ কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, দ্রুত চার সাংবাদিককে কাজে ফিরিয়ে না নিলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি এখন টিভির অ্যাসাইনমেন্ট ডেস্ক ইনচার্জ ও বিশেষ প্রতিনিধি মাহমুদ রাকিব, বিশেষ প্রতিনিধি মুজাহিদ শুভ, সিনিয়র রিপোর্টার মোহাম্মদ আজহারুজ্জামান এবং সিনিয়র রিপোর্টার ও ডেপুটি অ্যাসাইনমেন্ট ডেস্ক ইনচার্জ বেলায়েত হোসেনকে শোকজ করে কর্তৃপক্ষ।
তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে পরে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, কোনো প্রশাসনিক কারণ ছাড়াই তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।