ভূমধ্যসাগরের নোনা জল আর উত্তাল ঢেউয়ের বুকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাড়ি দেওয়া মোটেও সহজ কথা নয়। যেখানে শক্তিশালী পুরুষরা এই ভয়ঙ্কর পথে চলতে গিয়ে হিমশিম খায়, সেখানে এক বাংলাদেশি তরুণীর অদম্য সাহসিকতা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
গত ৯ মে ভোরে লিবিয়া উপকূল থেকে গ্রিসের উদ্দেশে একটি অভিবাসীবাহী বোট ছেড়ে যায়। সম্প্রতি সেই বোটটি সফলভাবে গ্রিসে পৌঁছেছে। তবে অবাক করা বিষয় হলো— পুরো বোটভর্তি পুরুষদের ভিড়ে একজন মাত্র নারীকে দেখা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, ওই তরুণী বাংলাদেশি এবং তার বাড়ি বরিশাল জেলায়। জীবনের স্বপ্ন পূরণের নেশায় তিনি লিবিয়া হয়ে এই দুর্গম পথ পাড়ি দিয়েছেন।
একঝাঁক পুরুষের ভিড়ে বোটের মধ্যে ওই তরুণীর ছবিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে নেটদুনিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদিকে অনেকেই বরিশালের এই মেয়ের অসীম সাহসের প্রশংসা করছেন এবং তার এই স্বপ্নজয়কে বীরত্ব হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে, একদল মানুষ এই বিপজ্জনক যাত্রার তীব্র সমালোচনা করছেন। কারণ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারান। একজন নারী হয়ে এতগুলো পুরুষের মাঝে এমন অনিরাপদ যাত্রাকে অনেকেই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন।
ছবিতে দেখা যায়, ছোট একটি বোটে গাদাগাদি করে অনেক মানুষ বসে আছেন। মাঝখানে সেই তরুণী হিজাব পরা অবস্থায় অত্যন্ত শান্তভাবে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে আছেন। লিবিয়া থেকে গ্রীসের এই রুটটি বর্তমানে মানবপাচারকারীদের অন্যতম প্রধান পথ। এই সফলতার পেছনে যেমন আনন্দ আছে, তেমনি আছে হাজারো মানুষের কান্নার ইতিহাস। তবে বরিশালের এই মেয়ের গ্রিসে পৌঁছানোর খবরটি এখন টক অব দ্য টাউন।
সাফল্য সবারই কাম্য, কিন্তু জীবনের চেয়ে দামি কিছু নেই। বরিশালের এই তরুণী হয়তো ভাগ্যগুণে বেঁচে ফিরেছেন এবং তার লক্ষ্যে পৌঁছেছেন, কিন্তু এই পথটি মোটেও সবার জন্য সুখকর হয় না। বিশেষ করে নারীদের জন্য এই রুটে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।