বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন, দুদকে হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ এনেছেন সংস্থাটির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রমজান আলী। গত ৫ এপ্রিল নিজেকে সাবেক সরকারি রেলপরিদর্শক (জিবিআইবিআর) পরিচয়ে রমজান আলী তার সাবেক সহকর্মী ডিজি আফজাল হোসেনকে নিকৃষ্টতম, ঘুষখোর, কালো বিড়াল বলেও আখ্যা দেন। সেই সঙ্গে আফজাল হোসেনকে সাবেক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ‘পোষ্যপুত্র’ বলেও অভিহিত করেন। দুদকে দুর্নীতি-লুটপাটের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে রমজান আলী রেলওয়েকে ধ্বংসকারী আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিশন গঠন করে তার সব অপকর্মের বিচারের দাবি জানান। আফজাল ও তার স্বজনদের সমস্ত সম্পত্তি জব্দ এবং অস্ট্রেলিয়ায় পাচার করা অর্থ ফেরত আনার অনুরোধ করেন রেলের এই সাবেক প্রধান প্রকৌশলী। পদ্মা সেতু রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প এবং খুলনা- মোংলা রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের ‘প্রকল্প পরিচালক’ হিসাবে আফজাল হোসেন যেসব সীমাহীন দুর্নীতি করেছেন, তার বিস্তারিত তুলে ধরা হয় দুদকে দেওয়া এই অভিযোগপত্রে। রেলওয়ের মহাপরিচালক হতে আফজাল হোসেন যে বিপুল অংকের টাকা ঘুষ দিয়েছেন, তার বিবরণও তুলে ধরা হয় আবেদনে। সেই সঙ্গে মহাপরিচালক হয়ে আফজাল হোসেন রেলওয়েকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য বানিয়েছেন, গড়ে তুলেছেন নিজস্ব দুর্নীতি চক্র- সেসবের বিস্তারিত উল্লেখ করেন রেলওয়ের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রমজান আলী।
পদ্মা সেতু রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে চুরির মহোৎসব ডিজি আফজালের
অভিযোগপত্রে পদ্মা সেতু রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের লুটপাটে সরাসরি দায়ী করা হয় সে সময়ের প্রকল্প পরিচালক আফজাল হোসেনকে। দুদকে দেয়া এই অভিযোগপত্রে বলা হয়, “প্রকল্পের চুক্তিপত্র মূল্য কয়েক হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি করে কোটি কোটি টাকা ঠিকাদারের কাছ থেকে ঘুষ নেন আফজাল হোসেন। রেলওয়ের এমব্যাংকমেন্ট নির্মাণে পাথরের পরিবর্তে ইটের খোয়া ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করেন এবং ৬৭% পাথরের পরিবর্তে ৩০% ইটের খোয়া দিয়ে ঠিকাদারকে শত কোটি টাকার আর্থিক সুবিধা দিয়ে কোটি কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন। এই মহা দুর্নীতিবাজ আফজাল পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের “প্রকল্প পরিচালক” পদে থাকার সময়ে সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত বিভিন্ন কাজের মূল চুক্তিপত্রের বিভিন্ন আইটেম বাতিল করে সম্পূরক চুক্তিপত্রে উক্ত আইটেমের মূল্য লামসাম ধরে মূল চুক্তিপত্রের আইটেমের মূল্যের চেয়ে বহুগুণে বাড়িয়ে দেন। অথচ মূল চুক্তিপত্রগুলোতে প্রতিটি আইটেমের নির্ধারিত পরিমাণ ও একক রেট সম্বলিত মোট মূল্য নির্ধারিত ছিল। এ ব্যাপারে আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে সাড়ে তের হাজার কোটি টাকার অডিট আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে। বিগত আওয়ামী সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের পেটুয়াবাহিনী ‘সেনাবাহিনী কনসালটেন্ট’ এর সঙ্গে যোগসাজশে আফজাল হোসেন সাড়ে তের হাজার কোটি টাকা প্রকল্প মূল্য বৃদ্ধি করে সীমাহীন দুর্নীতি করেন। বিনিময়ে ঠিকাদারদের কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি করেন। আফজাল হোসেন এই ঘুষের শত শত কোটি টাকা অস্ট্রেলিয়ায় পাচার করেন বলে জানা যায়। সেখানে আফজালের ছেলে-মেয়েরা বসবাস করেন। গত বছর তার মেয়ের বিয়েতেও কোটি টাকা খরচ করেছেন বলে জানা যায়। দিন মজুরের ছেলে এই আফজাল হোসেন ঘুষ-দুর্নীতি করে এখন শত শত কোটি টাকার মালিক। তিনি নিজ নামে, স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে, ভাই-বোন, শ্বশুর-শাশুড়ি, শ্যালক-শ্যালিকা, ঠিকাদার ‘লিটন মামা’ ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের নামে শত শত কোটি টাকার সম্পদ ও স্বর্ণালংকার ক্রয় করেন। দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে সৎ, নিষ্ঠাবান অফিসার দ্বারা তদন্ত কমিটি গঠন করে সূক্ষ্মভাবে তদন্তে সমস্ত অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়া যাবে এবং সমস্ত অবৈধ সম্পদ ক্রোক করে সরকারের কোষাগারে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে
রেলের ডিজি আফজালের দুর্নীতির বিস্তারিত বর্ণনা অভিযোগপত্রে
দুদকে দেয়া অভিযোগপত্রে জানানো হয়, “১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ রেলওয়েতে যোগদানের পর চাকরি জীবনের শুরু থেকে এইএন, ডিইএন, ডিআরএম, খুলনা-মোংলা পোর্ট রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক, রাজশাহীর চিফ ইঞ্জিনিয়ার (রেল পশ্চিম), পদ্মা সেতু রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও মহাপরিচালক পদে থাকার সময় তার ‘মামা লিটন’ কন্ট্রাকটর ও অন্যান্য পরিচিত ঠিকাদার নিজের আওতাধীন ঠিকাদারী কাজ দিয়ে নিম্নমানের দায়সারা কাজ করে উক্ত ঠিকাদারদের নিজেই বিল দেওয়ার ব্যবস্থা করতেন। বিনিময়ে আফজাল হোসেন চুক্তিমূল্যের ১০% টাকা ঘুষ নিয়েছেন। রাজশাহীর চিফ ইঞ্জিনিয়ার (পশ্চিম) থাকাকালীন রেললাইনে পাথর সরবরাহকারী ঠিকাদার আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফ আলী ও মেসার্স সফল এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী আলাল পারভেজ লুলু এবং অন্যান্য ঠিকাদারদের দ্বারা চুক্তিপত্রের ২৫ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ পাথর সরবরাহ করে তিনি ঠিকাদারদের কাছ থেকে চুক্তিপত্র মূল্যের ৩০% টাকা গ্রহণ করতেন। তিনি ডিআরএম/পাকশী, রাজশাহীর চিফ ইঞ্জিনিয়ার, প্রকল্প পরিচালক (খুলনা-মোংলা পোর্ট রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প), প্রকল্প পরিচালক (পদ্মা সেতু রেললাইন নির্মাণ এবং প্রকল্প) এবং মহাপরিচালক পদে পদায়িত হয়েই দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। রেলমন্ত্রী থেকে শুরু করে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ দুর্নীতিবাজ ঘুষখোর অফিসাররা তার কেনা গোলাম। কাজেই তিনি শত দুর্নীতি করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন এবং ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন। এভাবেই তিনি রেলওয়েকে ধ্বংস করে দিচ্ছেন।”
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, “আফজাল হোসেন খুলনা-মোংলা পোর্ট রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের ‘প্রকল্প পরিচালক’ হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন ভারতীয় ঠিকাদার ইরকন ও এলএলটি থেকে প্রতিমাসে বিপুল পরিমাণ টাকা ঘুষ গ্রহণ করে নিম্নমানের কাজ করেছেন। আফজাল হোসেন রূপসা সেতু নির্মাণের ঠিকাদার এলএনটি এর চুক্তিপত্র মূল্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি করে কয়েক কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন বলে জানা যায়।”
“মহাপরিচালক হতে ১০ কোটি টাকা ঘুষ দেন আফজাল”
রেলের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রমজান আলী তাঁর অভিযোগপত্রে আরো বলেন, “১৩তম বিসিএসে রেলওয়ের অফিসারদের সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকারী বুয়েটের সাবেক মেধাবী ছাত্র পার্থ সরকারকে বাদ দিয়ে মেধা তালিকায় ২২তম স্থান অধিকারী রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে পাশ করা সাধারণ মেধাসম্পন্ন আফজাল হোসেনকে রেলওয়ের মহাপরিচালক করা হয়। দুদকে একাধিক দুর্নীতির আভযোগ থাকলেও দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে ছাড়পত্র না নিয়েই তাকে মহাপরিচালক পদে পদায়ন করা হয়। ১০ কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে এই পদ দেওয়া হয়। রেলওয়ের মহাপরিচালক পদে যোগদানের পর থেকেই আফজাল হোসেন তার মনোনীত ঠিকাদার আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফ আলীকে কোটি কোটি টাকার ব্যালাস্ট (পাথর) সরবরাহের কাজ দিয়ে কোটি টাকা ঘুষ নেন। তিনি মেঘনা সেতু মেরামত কাজে কয়েক কোটি টাকার কাজ দিয়ে কোটি টাকা নেন। রেলওয়ের বড় বড় ঠিকাদারদের কাজ দিয়ে কোটি কোটি টাকা ঘুষ নিচ্ছেন। তার অধীনস্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের টেলিফোন করে তার মনোনীত ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন এবং ঐ সব ঠিকাদারদের কাজ দিয়ে ১০% টাকা ঘুষ হিসেবে আদায় করেন। রেলওয়ের দুর্নীতির সিন্ডিকেটের সর্দার আফজাল হোসেন টাকা দিয়েই সবাইকে ম্যানেজ করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরে এই আওয়ামী ক্যাডার আফজাল হোসেন চোখের পলকেই রূপ বদলিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শুরু লগ্নেই বিএনপির প্রকৌশলী পরিষদের সদস্য হয়ে যান। বর্তমানে বিএনপি সরকারের রেল প্রতিমন্ত্রীকেও তিনি টাকা দিয়ে বশে এনেছেন বলে অভিযোগ আসছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক থাকাকালীন এই দুর্নীতিবাজ ঘুষখোর কর্মকর্তা নিজে হাতে অধীনস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ঘুষের টাকা ভাগাভাগি করে দিতেন। তার অধীনস্থ এক কর্মচারী এ তথ্য জানিয়েছেন। আফজাল হোসেন নিজ নামে, স্ত্রী, সন্তান, শ্বশুর-শাশুড়ি, শ্যালক-শ্যালিকা, মামা লিটন ও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের নামে-বেনামে শত শত কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেন।”
প্রকৌশলী রমজান আলী অভিযোগপত্রে লিখেছেন, “বাংলাদেশ রেলওয়েকে এই মহাদুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর, চরম দুষ্ট চক্রের খলনায়ক, সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ‘পোষ্যপুত্র’ আওয়ামী ক্যাডার রেলওয়ের বর্তমান মহাপরিচালক আফজাল হোসেন। তিনি বিগত স্বৈরাচারী, দুর্নীতিবাজ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রেলমন্ত্রী, রেলমন্ত্রীর পিএস ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর কর্মকর্তাদের কোটি কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে রেলওয়ের সবচেয়ে লোভনীয় গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে লোক বসাতেন। ডিআরএম (পাকশী), প্রকল্প পরিচালক (খুলনা-মোংলা পোর্ট রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প), রাজশাহীর চিফ ইঞ্জিনিয়ার (পশ্চিম), প্রকল্প পরিচালক (পদ্মা সেতু রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প) ও রেলওয়ের মহাপরিচালক পদে পদায়িত হয়ে ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধভাবে শত শত কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেন আফজাল হোসেন। তিনি চতুর্থ গ্রেডের স্কেলে থাকা অবস্থায় সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে সরকারি বিধি-বিধান লঙ্ঘন করে দ্বিতীয় গ্রেড প্রাপ্ত অনেক সিনিয়র অফিসারদের ডিঙ্গিয়ে দ্বিতীয় গ্রেডের পদ পদ্মা সেতু রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের ‘প্রকল্প পরিচালক’ হিসেবে পদায়িত হন। এটা আফজাল হোসেন করেন শুধুই সাবেক রেলমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রীর পি.এসকে কোটি কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে। সম্পূর্ণ অবৈধভাবে, সরকারি বিধি বহির্ভূতভাবে রেলওয়ের ১৩তম বিসিএস পরীক্ষার সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকারী পার্থ সরকারকে ডিঙিয়ে উক্ত মেধাতালিকার ২২তম স্থানে থাকা সত্ত্বেও রেলওয়ের ‘মহাপরিচালক’ পদে পদায়িত হন আফজাল হোসেন। প্রথম স্থান অধিকারী বুয়েটের কৃতি ছাত্র (বি.এসসি ইঞ্জিনিয়ারিং এ ৭৪% নম্বর প্রাপ্ত) সৎ, নিষ্ঠাবান, কর্মঠ কর্মকর্তা পার্থ সরকারকে বাদ দিয়ে আফজাল হোসেনকে এক নম্বর গ্রেডের রেলওয়ের সর্বোচ্চ পদ মহাপরিচালক পদে সম্পূর্ণ সরকারি বিধি-বিধান লঙ্ঘন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। অথচ তৃতীয় গ্রেড হতে ‘প্রথম’ গ্রেডে পদায়ন করা সরকারি বিধিবহির্ভূত। দুদকের ছাড়পত্র ছাড়া ‘মহাপরিচালক’ পদে পদায়ন করা সরকারি বিধিবহির্ভূত। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী, আমজনতা জীবন উৎসর্গ করে স্বৈরাচারী, দুর্নীতিপরায়ন শেখ হাসিনাকে দেশত্যাগে বাধ্য করে আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসনের পতন ঘটায়। একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত শোষনহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। সেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদ হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী, আমজনতার রক্তের সঙ্গে বেইমানি ও বিশ্বাসঘাতকতা করে এই আফজালকে মহাপরিচালক পদে বসিয়েছেন। মহাদুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর, সাবেক আওয়ামী লীগ ক্যাডার আফজাল হোসেন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই বিএনপি প্রকৌশলী পরিষদের সদস্য হিসাবে যোগদান করে রাতারাতি খোলস বদলিয়ে নিজেকে বিএনপি ক্যাডার হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। প্রকৃতপক্ষে আফজাল হোসেন হলেন সুবিধাবাদি, তিনি ইতোমধ্যে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বর্তমান প্রতিমন্ত্রীকে কোটি কোটি টাকা দিয়ে বশ করে ফেলেছেন।”
রেলওয়ের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রমজান আলী অভিযোগপত্র শুরু করেছেন ‘মহাদুষ্ট’ চক্রের স্বরূপ উন্মোচনের মধ্য দিয়ে। তিনি লিখেছেন, “একটি চরম দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর, মহাদুষ্ট চক্র সম্মিলিতভাবে রেলওয়ের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট, তছনছ করে রেলওয়েকে রুগ্ন সংস্থায় পরিণত ও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই মহা দুষ্টচক্র সাবেক রেলমন্ত্রী, রেলমন্ত্রীর পিএস ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের চরম দুর্নীতি পরায়ন, ঘুষখোর, প্রভাবশালী অফিসারদের কোটি কোটি টাকা ঘুষ প্রদান করে রেলওয়ের সবচেয়ে লোভনীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ, মেগা প্রকল্পগুলির ‘প্রকল্প পরিচালক’, জেনারেল ম্যানেজার, চিফ ইঞ্জিনিয়ার, ডিআরএম ও মহাপরিচালক পদে পদায়িত হয়ে দাপটের সঙ্গে বুক ফুলিয়ে অবাধে দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণ করে। তারা চুক্তিপত্রের ২৫% হতে ৩০% অতি নিম্নমানের কাজ সম্পাদন করে ঠিকাদারের কাছ থেকে চুক্তিপত্র মূল্যের অবশিষ্ট ৭০% টাকার ৪০% টাকা ঘুষ গ্রহণ করে রেলওয়েকে রুগ্ন সংস্থায় পরিণত ও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এজন্য প্রতিবছর রেলওয়ের হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। আর এই লোকসানের টাকা সরকারকেই ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।” সাবেক রেলমন্ত্রী থেকে শুরু করে সবাই তাদের কেনা গোলাম ছিলেন বলে উল্লেখ করে সাবেক প্রধান প্রকৌশলী বলেন, “তারা রেলওয়ের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট, দুর্নীতি করেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। শত অন্যায়, দুর্নীতি করেও তারা পার পেয়ে গেছেন শুধুই কোটি কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে। বরং তারাই সাবেক রেলমন্ত্রী, রেলমন্ত্রীর পিএস এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের আশীর্বাদপুষ্ট অতি প্রিয় পাত্র। এই মহা দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর, চরম দুষ্ট চক্রের গ্রাসে বাংলাদেশ রেলওয়ে আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।”
শীর্ষনিউজ