Image description

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার কোদালিয়া এলাকায় অবস্থিত হাজী মনসুর আহমেদ একাডেমি (ইংলিশ ভার্সন) মাদ্রাসায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে হাত বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপাল মোল্লা শাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে উপজেলার চৌয়ারা ইউনিয়নের কোদালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

ভুক্তভোগী রায়হান ওই প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

 

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। তবে ভিডিওটি এআই দিয়ে বানানো বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত প্রিন্সিপাল।

 

জানা গেছে, রায়হানকে ক্লাসরুম থেকে বের করে মাদ্রাসার মাঠে নেওয়া হয়। পরে অফিস সহায়ককে দিয়ে রায়হানের দুই হাত পেছনে বাঁধা হয় এবং ধর্মীয় শিক্ষককে বেত আনতে বলা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীকে মাঠের মাঝখানে ফেলে বেত্রাঘাত করা হচ্ছে এবং ছেলেটি অনুনয়-বিনয় করছে। প্রায় চার মিনিটের সিসিটিভি ফুটেজটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

 

মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক ও স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত প্রিন্সিপাল দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছিলেন। নিজেকে প্রভাবশালী পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ করেছেন অনেকে।

 

মাদ্রাসার কর্মচারী হামিদ মিয়া বলেন, ঘটনার সময় উপস্থিত কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। তিনি যে কাজ করেছেন, এটি খুবই অমানবিক ও নিষ্ঠুর। আমরা এর বিচার চাই।

 

অভিযোগের বিষয়ে প্রিন্সিপাল মোল্লা শাহিদুল ইসলাম দাবি করেন, ভিডিওটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।

 

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও কর্ণফুলী শিপইয়ার্ডের মালিক ইঞ্জিনিয়ার রশিদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘এমন ঘটনা সে (প্রিন্সিপাল) ঘটাতে পারে, তা আমার কল্পনাতেও ছিল না। সে ঢাকা থেকে এসে শিক্ষার্থীদের ভালো পাঠদান করে আসছিল। হঠাৎ কেন এমন করেছে জানি না।’

 

তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পর অভিযুক্ত প্রিন্সিপালকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হয়েছে।

 

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ মো. তৈয়ব হোসেন বলেন, প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা অভিযুক্ত প্রিন্সিপালকে সঙ্গে সঙ্গেই বরখাস্ত করেছেন।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন চন্দ্র রায় বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।