Image description

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মতে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিজ নিজ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের করার কথা। কিন্তু দিনাজপুরের পার্বতীপুরে মন্ত্রণালয়ের এ নির্দেশনা মানা হয়নি। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ৭ সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা নিজেরা প্রশ্নপত্র তৈরি করে ও ছেপে বিদ্যালয়গুলোতে সরবরাহ করেছেন। এ কাজের জন্য প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে ২ লক্ষাধিক টাকা আদায় করেছেন।

যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তারা হচ্ছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সিনিয়র সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (এটিও) ইউনুস আলী, মতিউর রহমান সিদ্দিকী, দেলোয়ার হোসেন, আতিকুর রহমান, দিলীপ কুমার রায়, এনামুল ইসলাম ও মোয়াজ্জেম কবির।

কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, উপজেলায় ২০৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থী ২২ হাজার ২০১ জন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস প্রতিটি বিদ্যালয়ের কাছ থেকে প্রথম প্রান্তিক পরীক্ষার প্রতিসেট প্রশ্ন বাবদ ১০ টাকা করে ও শিটের খরচসহ মোট ২ লাখ ২২ হাজার ১০ টাকা নিয়েছে । 

একাধিক শিক্ষক জানান, শিক্ষকদের প্রশ্নপত্রের ব্যয় স্লিপ ফান্ডের টাকা থেকে সমন্বয় করতে বলা হয়েছে। অথচ তারা সিøপ ফান্ডের কোনো টাকা বরাদ্দ পাননি। উপজেলা প্রাথমিক অফিস ও সহকারী শিক্ষা অফিসাররা পরস্পর যোগসাজশ করে প্রশ্নপত্র তৈরিতে অল্প কিছু খরচ করে বাকি টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছেন। প্রশ্ন তৈরিতে নিজেদের থেকে ব্যয় করায় শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এক শিক্ষক বলেন, ‘প্রশ্ন বাবদ সর্বোচ্চ ৪-৫ টাকা খরচ হতে পারে। এর জন্য ১০ টাকা নেওয়া অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানিয়েছেন, ৭টি ক্লাস্টারে ভাগ করে প্রশ্নপত্র তৈরিতে ৭ জন সহকারী শিক্ষা অফিসার দায়িত্ব পালন করেন। প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা ৭ মে শুরু হয়েছে। শেষ হবে আজ বৃহস্পতিবার।

উপজেলার খয়েরপুকুর ক্লাস্টারের একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আক্ষেপ করে বলেন, ‘সকালে প্রশ্নপত্র তৈরি করতে বলা হলো, বিকেলে ফোন করে বলছে, শিক্ষা অফিস থেকে আমরাই প্রশ্নপত্র সরবরাহ করব। যার জন্য আমাকে ১ হাজার ৫৮০ টাকা এবং শিটের জন্য অতিরিক্ত ১০০ টাকা দিতে হয়েছে।’

পার্বতীপুর শহরের রিয়াজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জান্নাতুল বাকিয়া বলেন, প্রশ্নপত্র শিক্ষা অফিস থেকে দেওয়া হয়েছে। এর ব্যয় সিøপ ফান্ডের টাকা থেকে সমন্বয় করতে বলা হয়েছে।

উপজেলার মন্মথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১-এর প্রধান শিক্ষক লায়লা আরজু আজাদ বলেন, ‘পুরো প্রশ্ন এটিও স্যাররা করে দিয়েছেন। তারা আমাদের কাছ থেকে প্রশ্ন নিয়েছেন, কিন্তু সেই প্রশ্ন আবার প্রশ্নতে নেই।’

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘এই টাকা শুধু আমরা একা খাই না, সবাইকে ম্যানেজ করতে হয়। তাহলে আমাদের কী করার আছে।’

পার্বতীপুর শহরের স্টার ক্লাস্টারের দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা দিলিপ কুমার রায় বলেন, ‘পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সরবরাহে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেউ নিয়ে থাকলে সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার।’

এ বিষয়ে পার্বতীপুর উপজেলার মমিনপুর ক্লাস্টারের দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ইউনুস আলী বলেন, ‘শিক্ষকরা প্রশ্নপত্র করতে পারবেন না বলে জানান। তাই আমরা করে দিয়েছি।’ নিজ নিজ স্কুলের প্রধানদের প্রশ্নপত্র তৈরি করার নির্দেশনা রয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শুনেছি এ ধরনের নাকি নির্দেশনা দিয়েছে। কিন্তু আমরা পাইনি। তা ছাড়া প্রতি বছরই তো আমরাই করে দেই। কারণ শিক্ষক করতে চান না, করেনও না। তবে দুটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা নিজ উদ্যোগে প্রশ্নপত্র তৈরি করেছেন। কারণ তারা প্রশ্নপত্র করতে চান, যারা নিজ উদ্যোগে করতে চান তাদের প্রশ্নপত্র তৈরি করতে বলা হয়েছে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নিজ নিজ স্কুলের প্রধানদের প্রশ্নপত্র তৈরির নির্দেশনার বিষয়ে পার্বতীপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনামুল হক সরকার জানান, ফেসবুকে চিঠি আসছিল, চিঠিটা অফিশিয়ালি না। শিক্ষকরাই আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তারা এক জায়গায় প্রশ্নপত্র করবেন।’