Image description

রাতের পর রাত ঘুমাতে পারে না দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের ১৩ বছরের মেয়েটি। গ্রামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির ছেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তোলার পর থেকেই তার পরিবার একঘরে।

মামলা তুলে নিতে হুমকি, স্কুলে যেতে ভয়, প্রতিবেশীদের কটূক্তি সব মিলিয়ে মেয়েটির জীবন এখন আতঙ্কে ভরা।

ঢাকার এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরেক কিশোরী, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের পর তাকে আগুনে ঝলসে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, রাজধানীর এক গৃহকর্মী শিশুর মৃত্যু হয় চুরির অভিযোগে নির্যাতনের পর।

এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়।

নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার যে ভয়াবহ চিত্র প্রতিদিন সংবাদপত্রের পাতায় উঠে আসছে, তারই একটি সামগ্রিক চেহারা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য।

 

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদে সংরক্ষিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসেই ৭৭৬ জন নারী ও কন্যা নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, হত্যা, আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু, পাচার, অপহরণ, যৌতুক, সাইবার সহিংসতা সব ক্ষেত্রেই উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংবাদপত্রে প্রকাশিত ঘটনাগুলো কেবল ‘দৃশ্যমান অংশ’। বাস্তবে নির্যাতনের সংখ্যা আরও বেশি। কারণ সামাজিক লজ্জা, ভয়, প্রভাবশালীদের চাপ এবং বিচারহীনতার কারণে বহু পরিবার ঘটনাই প্রকাশ করতে চায় না।

এক বছরে ২৮০৮, চার মাসেই ৭৭৬
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ২ হাজার ৮০৮ জন নারী ও কন্যা নির্যাতনের শিকার হয়। আর ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল, এই চার মাসেই সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭৬। অর্থাৎ, বছরের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ সময়ে গত বছরের মোট ঘটনার প্রায় ২৮ শতাংশ ইতোমধ্যে ঘটে গেছে।

২০২৫ সালে নির্যাতনের সবচেয়ে বড় অংশ ছিল ধর্ষণ ও হত্যা। একই ধারা দেখা যাচ্ছে চলতি বছরেও। বরং কিছু ক্ষেত্রে সহিংসতার মাত্রা আরও বেড়েছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৬ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে সহিংসতার হার সবচেয়ে বেশি। মার্চে ১৯০ এবং এপ্রিলে ২২০ জন নারী ও কন্যা নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

অধিকারকর্মীরা বলছেন, এই প্রবণতা উদ্বেগজনক। কারণ বছরের শুরুতেই সহিংসতার ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে।

ধর্ষণ, প্রতিদিনই নতুন আতঙ্ক
২০২৫ সালে ধর্ষণের শিকার হয় ৭৮৬ জন নারী ও কন্যা। তাদের মধ্যে ৫৪৩ জনই কন্যাশিশু। অর্থাৎ মোট ভুক্তভোগীর প্রায় ৭০ শতাংশ শিশু। একই বছরে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন ১৭৯ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ৩১ জনকে।

চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৭৮ জন নারী ও কন্যা। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৩১, ফেব্রুয়ারিতে ৩২, মার্চে ৫৭ এবং এপ্রিলে ৫৮ জন।

চার মাসে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৬২ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১৪ জনকে। এছাড়া অন্তত ২৭ জন ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, ধর্ষণ এখন কেবল অপরাধ নয়, ক্ষমতার প্রদর্শনেও ব্যবহৃত হচ্ছে। অপরাধীরা জানে, দ্রুত বিচার হবে না। এ কারণেই ভয় কমে গেছে।

আমার মেয়ে স্কুলে যেতে চায় না
ময়মনসিংহের এক মা বলেন, তার ১২ বছরের মেয়েকে প্রতিবেশী এক যুবক ধর্ষণের চেষ্টা করে। মামলা করার পর থেকেই পরিবারটি হুমকির মুখে। তিনি বলেন, ‘মেয়ে এখন স্কুলে যেতে চায় না। রাতে ঘুমাতে পারে না। আমরা বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো ভয় নিয়ে বেঁচে আছি।’

ইনোভেশন ফর অল বিইং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ মনিরা রহমান বলছেন, যৌন সহিংসতার শিকার শিশুদের বড় অংশ দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ট্রমায় ভোগে। অনেকেই বিষণ্নতা, আত্মহত্যাপ্রবণতা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতায় আক্রান্ত হয়।

কন্যাশিশুরাই সবচেয়ে ঝুঁকিতে
২০২৫ সালের প্রায় সব ধরনের সহিংসতায় কন্যাশিশুর উপস্থিতি উদ্বেগজনক। ধর্ষণ, অপহরণ, পাচার, যৌন নিপীড়ন, সাইবার সহিংসতা সব ক্ষেত্রেই শিশুদের সংখ্যা বেশি।

২০২৬ সালের প্রথম চার মাসেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। ধর্ষণের পাশাপাশি যৌন নিপীড়ন, উত্ত্যক্তকরণ এবং পাচারের ঘটনাগুলোর বড় অংশের শিকার কন্যাশিশু।

অধিকারকর্মীদের মতে, পরিবার ও সমাজের ভেতরে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে পরিচিতজন, আত্মীয় বা প্রতিবেশীরাই অপরাধী।

হত্যা ও রহস্যজনক মৃত্যু
২০২৫ সালে বিভিন্ন কারণে হত্যা করা হয় ৬৩২ জন নারী ও কন্যাকে। একই সময়ে রহস্যজনক মৃত্যু হয় ২৩০ জনের।

২০২৬ সালের প্রথম চার মাসেই হত্যার শিকার হয়েছেন ১৯১ জন। জানুয়ারিতে ৫৫, ফেব্রুয়ারিতে ৩২, মার্চে ৪৭ এবং এপ্রিলে ৫৭ জন। রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে ৭৩ জনের।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এসব ঘটনার বড় অংশের পেছনে পারিবারিক সহিংসতা, যৌতুক, সম্পর্কজনিত বিরোধ বা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড থাকতে পারে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক তদন্ত হয় না।

আইনজীবী সুরাইয়া পারভীন বলেন, “অনেক মৃত্যু আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। আবার অনেক হত্যাকাণ্ড ‘পারিবারিক বিরোধ’ হিসেবে ধামাচাপা পড়ে যায়।”

আত্মহত্যা বাড়ছে কেন?
২০২৫ সালে আত্মহত্যা করেছে ১৯৬ জন নারী ও কন্যা। আত্মহত্যায় প্ররোচনার শিকার হয়েছে ১৪ জন।

২০২৬ সালের প্রথম চার মাসেই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে অন্তত ৪৪টি। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ রয়েছে ৯টি ঘটনায়।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, যৌন সহিংসতা, সামাজিক অপমান, দাম্পত্য নির্যাতন, বাল্যবিবাহ ও বিচার না পাওয়ার হতাশা আত্মহত্যার অন্যতম কারণ।

মনিরা রহমান বলেন, ‘অনেক নারী নির্যাতনের পর কোথাও সহায়তা পান না। পরিবারও অনেক সময় পাশে দাঁড়ায় না। তখন তারা নিজেকে একেবারে অসহায় মনে করেন।’

সাইবার সহিংসতা, এক নতুন আতঙ্ক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে সাইবার সহিংসতা।

২০২৫ সালে সাইবার সহিংসতার শিকার হয় ১৯ জন নারী ও কন্যা। ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসেই এ ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছে একাধিক নারী ও কিশোরী।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দেওয়া, ফেইক আইডি খুলে হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল ও অনলাইন স্টকিং এখন বড় সংকট।

কলেজছাত্রী পরশী বলেন, ‘একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে আমার ছবি ছড়ানো হয়। থানায় গিয়ে উল্টো বিব্রত হতে হয়েছে।’

পাচার ও অপহরণ: সীমান্ত পেরোনো ভয়
২০২৫ সালে পাচারের শিকার হয় ৫৫ জন নারী ও কন্যা। অপহরণের শিকার হয়েছে ৭১ জন।

২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে পাচারের ঘটনা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০-এ। অধিকাংশ ভুক্তভোগী কন্যাশিশু।

অধিকারকর্মীরা বলছেন, দরিদ্র পরিবার, অনলাইন ফাঁদ এবং চাকরির প্রলোভন ব্যবহার করে শিশু ও নারীদের পাচার করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো সবচেয়ে ঝুঁকিতে।

গৃহকর্মী শিশুরা নিরাপদ নয়
২০২৫ সালে ১৭টি গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনা এবং ৯টি গৃহকর্মী হত্যার ঘটনা সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়।

২০২৬ সালের প্রথম চার মাসেও গৃহকর্মী নির্যাতন ও হত্যার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। বেশিরভাগ ভুক্তভোগীই শিশু।

একটি ঘটনায় রাজধানীতে ১১ বছরের এক গৃহকর্মীকে চুরির অভিযোগে নির্যাতনের পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার মৃত্যু হয়।

শিশু অধিকারকর্মীরা বলছেন, গৃহকর্মী সুরক্ষা আইন না থাকায় এ খাতে নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে।

যৌতুক ও পারিবারিক সহিংসতা
২০২৫ সালে যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হন ৫২ জন নারী। এর মধ্যে ২৪ জনকে হত্যা করা হয়।

২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৭ জন এবং নিহত হয়েছেন ১১ জন।

পারিবারিক সহিংসতায় শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে।

নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, অর্থনৈতিক সংকট, নারীর আর্থিক নির্ভরশীলতা এবং পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা এখনও সহিংসতার বড় কারণ।

কেন বাড়ছে সহিংসতা?
বিশেষজ্ঞ ও নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা বাড়ার পেছনে কয়েকটি কারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মধ্যে রয়েছে মামলার দীর্ঘসূত্রতা, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ, সামাজিক লজ্জা ও নীরবতা, অনলাইন সহিংসতার বিস্তার, নারীবিদ্বেষী মানসিকতা এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তাহীনতা।

তাদের মতে, অনেক ঘটনায় মামলা হলেও বিচার শেষ হতে দীর্ঘ সময় লাগে। ফলে অপরাধীদের মধ্যে শাস্তির ভয় কমে যাচ্ছে। অনেক ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারও নিরাপত্তার অভাবে মামলা করতে চান না বা মাঝপথে আপস করতে বাধ্য হন।

নারী অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। থানায় জেন্ডার সংবেদনশীল ডেস্ক আরও কার্যকর করতে হবে, যাতে ভুক্তভোগীরা নিরাপদভাবে অভিযোগ জানাতে পারেন।

কন্যাশিশুর নিরাপত্তায় স্কুল ও কমিউনিটি পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সাইবার অপরাধ দমনে বিশেষ ইউনিটকে আরও সক্রিয় করতে হবে। নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের জন্য আইনি সহায়তার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তাও নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন অধিকারকর্মীরা।

এছাড়া গৃহকর্মী সুরক্ষা আইন দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বাল্যবিবাহ ও যৌতুকবিরোধী আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও পরিবারভিত্তিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে নারী ও শিশু নির্যাতনের এই চিত্র বদলানো কঠিন হবে।

‘সংবাদে প্রকাশিত ঘটনাই পুরো বাস্তবতা নয়’
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নেতারা বলছেন, সংবাদপত্রে প্রকাশিত ঘটনাগুলোই যদি এত ভয়াবহ হয়, তাহলে প্রকৃত পরিস্থিতি আরও গভীর সংকটের ইঙ্গিত দেয়।

তাদের মতে, নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা এখন শুধু মানবাধিকার নয়, রাষ্ট্রের সামাজিক স্থিতিশীলতার প্রশ্ন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সহিংসতার এই চিত্র আরও ভয়াবহ হতে পারে।

এ সংগঠনের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বাংলানিউজকে বলেন, দেশে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ধর্ষণের ঘটনায় শিশু ভুক্তভোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা যে তথ্যগুলো দেখছি, তাতে স্পষ্ট কন্যাশিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আশপাশের পরিবেশ এমনকি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও শিশুরা নিরাপদ নয়। এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, এটি সামাজিক সংকটও।’

ফওজিয়া মোসলেমের মতে, দায়মুক্তির সংস্কৃতি নারী ও শিশু নির্যাতনের অন্যতম বড় কারণ। অনেক ঘটনায় অপরাধীরা দ্রুত গ্রেপ্তার হয় না, বিচার প্রক্রিয়াও দীর্ঘ হয়। ফলে অপরাধীদের মধ্যে শাস্তির ভয় কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কিছু ক্ষেত্রে অবহেলা এবং সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ও সহিংসতা বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, ‘যখন অপরাধীরা দেখে যে প্রভাব খাটিয়ে বা দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার সুযোগ নিয়ে পার পাওয়া সম্ভব, তখন তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতি বদলাতে হলে দ্রুত বিচার এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।’

ফওজিয়া মোসলেম আরও বলেন, নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় সরকারের কর্মপরিকল্পনায় বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর পদক্ষেপ থাকতে হবে। শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, সেই আইন বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়াও সমাজে পরিষ্কার বার্তা পৌঁছাতে হবে যে, নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতায় জড়িত কেউই ছাড় পাবে না। অপরাধী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি মনে করেন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে শুধু সরকারের একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এ জন্য নাগরিক সমাজ, নারী ও শিশু অধিকার সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাসহ সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

ফওজিয়া মোসলেম সরকারকে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে বসে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্কুলভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং অনলাইন নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি।

একটি শিশুও যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে সেটি পুরো সমাজের ব্যর্থতা। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন শুধু মানবাধিকার নয়, এটি রাষ্ট্র ও সমাজের বড় দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি।