ইসলাম এমন এক জীবনব্যবস্থা, যেখানে মানবজীবনের স্বাভাবিক চাহিদা, নৈতিকতা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা হয়। পরিবার গঠন ও সমাজকে সুসংহত রাখার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ইসলাম বিয়েকে মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করেছে। সেই সঙ্গে বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে পুরুষের জন্য একাধিক বিয়ের সুযোগও রেখেছে। এ বিষয়ে কথা বলেছেন জনপ্রিয় আলেম ও আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ।
সম্প্রতি এক বক্তব্যে ইসলামে বহুবিবাহের বৈধতার শর্ত, কিছু মানুষের বাড়াবাড়ি, দ্বীনের বিধানকে মানুষের কাছে হাস্যকর বানানো ইত্যাদি নিয়ে কথা বলেছেন। গত ৯ মে ২০২৬ তার ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে ‘একাধিক বিয়ে করে আল্লাহর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে পারবেন?’ শিরোনামে ওই আলোচনার ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে।
তার ওই আলোচনার সংক্ষীপ্তসার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ইসলাম পুরুষের জন্য একাধিক বিয়ে অনুমোদন দিয়েছে। তবে শর্ত হলো, একাধিক বিয়ের পর প্রত্যেক স্ত্রীর প্রতি সমতা বজায় রাখার সার্বিক সামর্থ্য থাকতে হবে।
প্রথমত, একাধিক স্ত্রীর ভরণপোষণ করার শক্তি ও সামর্থ্য থাকতে হবে—সার্বিকভাবে। দ্বিতীয়ত, শুধু সামর্থ্য থাকলেই হবে না, ইনসাফ করার সামর্থ্যও থাকতে হবে। আল্লাহ বলেছেন, যার এই আশঙ্কা হয় যে একাধিক স্ত্রী হয়ে গেলে একজনের প্রতি ঝুঁকে যাবে, আরেকজনের খোঁজ নেবে না, আরেকজনের প্রতি বৈষম্য হয়ে যাবে, জুলুম হয়ে যাবে, ভরণপোষণ দিতে গিয়ে একজনকে বেশি দেবে আরেকজনকে দেবে না, তাহলে তার জন্য একটি বিয়েই যথেষ্ট। একটির বেশি করা তার জন্য জায়েজ নয়। এটাই হলো মৌলিক কথা।
দ্বীনের বিভিন্ন বিষয়কে হাস্যকর ও বিতর্কিত প্রমাণ করার জন্য আমাদের অনেকের অপরিপক্ব আচার-আচরণ ও ভূমিকার যেমন দায় আছে, তেমনি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দ্বীনের বিভিন্ন বিষয়কে সমাজে হেয় করার একটা অপচেষ্টাও চলছে। মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশে কিছু মানুষ বিভিন্নভাবে এই কাজ করে যাচ্ছে—এটা আমরা জানি।
আজ থেকে ৩০-৪০ বছর আগের বাংলাদেশের বাস্তবতা দেখলে দেখা যায়, গ্রামে-গঞ্জে-শহরে একাধিক বিয়ের ঘটনা অহরহ হয়েছে। অনেক বড় ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, দুনিয়াদার মানুষ, সাধারণ শিক্ষিত মানুষজনের মধ্যে এটা ব্যাপকভাবে ছিল। সেটা নিয়ে সমাজে কোনো উচ্চবাচ্য হয়নি। কিন্তু এখন একাধিক বিয়ে করে এক স্ত্রীকে নিয়ে পড়ে থাকা, আরেকজনের খোঁজখবর না নেওয়া—এরকম বৈষম্যমূলক অনাচার যেমন হচ্ছে, তেমনি এটাকে আরও রঙ চড়িয়ে তিলকে তাল বানিয়ে প্রচার করার একটা অপচেষ্টাও আছে। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। অনেক সাধারণ মুসলমান এই প্রপাগান্ডায় পা দিয়ে ফেলেন।
তবে আবারও বলছি, একাধিক বিয়েকে ছেলেখেলা, তামাশা বা মনের খায়েশ পূরণের অস্ত্রে পরিণত করে দ্বীনকে, দ্বীনের বিধানকে, শরীয়তের বিধানকে হাস্যকর বিষয়ে পরিণত করা যাবে না।