জুলাই বিপ্লবে নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটানায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে এই মামলার সূচনা বক্তব্য ও প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য ১০ জুন তারিখ ধার্য করা হয়েছে।
বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
শুরুতেই আসামিদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনীত অভিযোগ পড়ে শোনান বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। এরপর বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।
এর আগে মঙ্গলবার অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য থাকলেও ওই দিন মুলতুবি করা হয়।
গত ২৩ এপ্রিল আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের মক্কেলের অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। এর আগে গত ১৯ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি করে প্রসিকিউশন। আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ পড়ে শোনায় প্রসিকিউটর আব্দুস সাত্তার পালোয়ান। আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন করে প্রসিকিউশন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য মঙ্গলবার দিন নির্ধারণ করেছিল ট্রাইব্যুনাল।
শামীম ওসমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন—শামীম ওসমানের ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন, ভাতিজা আজমেরী ওসমান, অয়নের শ্যালক মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ ভিকি, নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস ক্লাবের সাবেক সভাপতি তানভীর আহমেদ টিটু, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি রাজু আহমেদ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম উদ্দিন আহমেদ, যুবলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন সাজনু, ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সোহানুর রহমান শুভ্র।