Image description

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রাফিজ আহমেদের কথিত আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এটিকে ‘চরিত্র হননের অপচেষ্টা’ বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত ওই নেতা। এ ঘটনায় গত শনিবার তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। রাফিজ আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৮ মে) বিকেলে ‘জাতীয়তাবাদী খাম্বা দল’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে কয়েকটি ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হলে সেগুলো দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল ভিডিওতে সংগঠনটির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রাফিজ আহমেদকে ভিডিও কলে আপত্তিকর ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ছাত্রদল নেতা রাফিজ আহমেদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ক্যাম্পাসে অবস্থানকালে তিনি দেখতে পান, ‘জাতীয়তাবাদী খাম্বা দল’ নামের একটি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে তার ছবি ব্যবহার করে অশ্লীল মন্তব্য ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ভুয়া আইডি থেকে তার পরিচিত বন্ধু ও আত্মীয়স্বজনদের কাছেও নানা ধরনের আপত্তিকর বার্তা পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগেও একই ধরনের অপপ্রচারের ঘটনায় তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় দুটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। যার একটি ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর (জিডি নং-৯৩১) এবং অন্যটি ২০২৫ সালের ৪ মে (জিডি নং-১৫৫)। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে অনুসন্ধান চালিয়েও সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডিগুলোর প্রকৃত ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি। পরে ৯ মে সর্বশেষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় আরও একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৪২১) করেন রাফিজ আহমেদ।

 

জানা গেছে, সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি ৮ মে প্রকাশ পেলেও সেটি দীর্ঘদিন আগের ভিডিও। এর আগে ‘রাফিয়া ইসলাম’ নামের একটি আইডি থেকেও ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছিল বলে জানা যায়। এক মিনিট দুই সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ভিডিওটি সম্পাদনা করে প্রকাশ করা হলেও স্ক্রিনশটে আরও দীর্ঘ সময়ের ফুটেজের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ভিডিওটির ১৯ থেকে ২১ সেকেন্ডের মধ্যে ফ্রন্ট ক্যামেরায় আংশিকভাবে রাফিজ আহমেদের মুখ দেখা যায়। এছাড়া ৪৮ সেকেন্ড থেকে শেষ পর্যন্ত তার মেসেঞ্জার আইডির নাম, ছবি ও কথোপকথনের সময় প্রদর্শিত হয়। ভিডিওটি অন্য একটি মোবাইল ফোন দিয়ে ধারণ করা হয়েছে বলেও দেখা যায়, যেখানে স্ক্রিনে রাত ২টা ১৩ মিনিট সময় প্রদর্শিত হচ্ছিল।

এদিকে ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিতে ‘ডিপঅ্যাওয়ার’, ‘ট্রুথ ভিডিও স্ক্যানার’ সহ বেশ কয়েকটি এআই চেকার সাইট ব্যবহার করে যাচাই করা হয়েছে। তবে এতে ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি নয় বলে জানা যায়। 

সম্প্রতি সাইবার সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ঘটনায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় জিডি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ রানা। ছাত্রদল নেতার করা জিডির বিষয়ে জানতে চাইলে ইবি থানার এএসআই (নিরস্ত্র) মো. কবির শিকদার বলেন, ‘রাফিজ আহমেদ নামের এক শিক্ষার্থী জিডি করেছেন। আমরা বিষয়টি কুষ্টিয়া সাইবার জোনে পাঠিয়ে দিয়েছি। সাইবার টিম মাঠে কাজ করছে এবং টেকনিক্যাল বিষয়গুলো তারা তদন্ত করছে।’

অভিযোগের বিষয়ে রাফিজ আহমেদ বলেন, ‘এটি আমার চরিত্র হননের একটি জঘন্য অপচেষ্টা। দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী এআই ও এডিটের মাধ্যমে বিভিন্ন ছবি তৈরি করে আমাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিকভাবে তরুণ নেতৃত্বকে ঠেকাতেই এসব ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর আগেও আমার ফেসবুক আইডি ক্লোন করে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল। সে সময়ও আমি একাধিক সাধারণ ডায়েরি করেছি।’

ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়ে নিজের ব্যাখ্যাও তুলে ধরেন। যাচাই-বাছাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার ও শেয়ার না করারও অনুরোধ জানান।

এদিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতারা সাংবাদিকদের জানান, ভাইরাল ভিডিওটি অনেক আগের এবং বিষয়টি ইতোমধ্যে থানায় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তারা বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি নতুন করে উসকে না দেওয়াই ভালো। তবে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তারা।