সম্প্রতি শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা হলরুমে জেলেদের মাঝে বাছুর বিতরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি ফেক অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর সংবাদ ও অপপ্রচারের বিষয়ে শরীয়তপুর প্রেস ক্লাব গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
কিছু ফেক ফেসবুক আইডির মাধ্যমে দাবি করা হয়েছে যে, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু সাংবাদিকদের উদ্দেশে টিস্যু বক্স নিক্ষেপ করেছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিক, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের দাবি সঠিক নয় এবং ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, অনুষ্ঠান চলাকালে সাময়িক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রেক্ষিতে টিস্যু বক্সটি তার এক দলীয় কর্মীকে ছুড়ে দেন। এটি কোনো সাংবাদিককে লক্ষ্য করে করা হয়নি এবং এ ঘটনায় কোনো সাংবাদিক অভিযোগও করেননি।
অপপ্রচারের বিষয়টি শরীয়তপুর প্রেস ক্লাবের সদস্যদের নজরে এলে মঙ্গলবার (১২ মে) বেলা ১১টার দিকে শরীয়তপুর প্রেস ক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে জরুরি সভা আহ্বান করা হয়। প্রেস ক্লাব সভাপতি সাংবাদিক মো. আবুল হোসেন সরদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন— সাধারণ সম্পাদক নূরুল আমিন রবিন, সহসভাপতি শহিদুল ইসলাম পাইলট, সাংগঠনিক সম্পাদক ইসরাফিল বেপারী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এসএম শাকিল, কোষাধ্যক্ষ ছগির হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মো. আল-আমিন, প্রচার সম্পাদক জামাল মল্লিক, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, সদস্য ইসহাক মাদবর, বারেক ভূইয়া, মো. মিরাজ সিকদার, মো. সাইফুল ইসলাম ঢালী প্রমুখ। এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বানোয়াট সংবাদের বিষয়ে সভায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
সভায় বলা হয়, শরীয়তপুর প্রেস ক্লাব মনে করে, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর ও অসম্পূর্ণ তথ্য প্রচার দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থি। এ ধরনের অপপ্রচার জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং সাংবাদিক সমাজ ও গণমাধ্যমের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্মানবোধ ক্ষুণ্ন করে। আমরা সংশ্লিষ্ট সব গণমাধ্যমকর্মী ও সংবাদমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন সত্যতা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করেন এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকেন।