পুলিশকে একটি জনকল্যাণমুখী, আধুনিক ও দক্ষ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় পুলিশের যৌক্তিক দাবিসমূহ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পদোন্নতিবঞ্চিত পুলিশ সদস্যদের জন্য অনারারি পদোন্নতির ব্যবস্থা এবং অতিরিক্ত কর্মঘণ্টায় দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের জন্য বিশেষ নীতিমালার ভিত্তিতে ওভারটাইম ভাতা প্রদানের বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে চিন্তাভাবনা করছে।
রোববার (১০ মে) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ মিলনায়তনে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কল্যাণ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মো. আলী হোসেন ফকির এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অনেক পুলিশ কনস্টেবল ৪০ বছর চাকরি করেও কোনো পদোন্নতি ছাড়াই অবসরে যান। এ বাস্তবতা বিবেচনায় বিশেষ নীতিমালা ও সন্তোষজনক চাকরির রেকর্ডের ভিত্তিতে অবসরের সময় কিছু সংখ্যক সদস্যকে অনারারি পদোন্নতি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় কনস্টেবল থেকে অনারারি এএসআই, এএসআই থেকে অনারারি এসআই ও এসআই থেকে অনারারি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি দেওয়া হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ সদস্যদের অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা ও দায়িত্বের চাপ বিবেচনায় ওভারটাইম ভাতা চালুর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইন্সপেক্টর পদ থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত সদস্যদের এই সুবিধার আওতায় আনার চিন্তাভাবনা চলছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও মানসিক চাপ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালসমূহকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয়তা যাচাই সাপেক্ষে আরও উন্নত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের ভবন নির্মাণ, কার্যালয় সম্প্রসারণ ও আবাসন সংকট নিরসনে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত দুই মাসে পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল করতে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে অপরাধের ধরন ও মাত্রা পরিবর্তিত হয়েছে। সাইবার অপরাধ, অনলাইন জুয়া ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মব কালচার’ পুরোপুরি বন্ধে বিদ্যমান আইন সংশোধন ও সংযোজন করে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করা হবে। এ সময় তিনি পুলিশ সদস্যদের জনগণের প্রত্যাশা ও জনআকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।